Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২২ শনিবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৭ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে হত্যা; যুবলীগের সাবেক সভাপতি গ্রেফতার

বিডিমর্নিং : নারী ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৪:৪৫ PM আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৪:৪৫ PM

bdmorning Image Preview


চার দিনের রিমান্ডের পর স্ত্রীকে হত্যা ও লাশ পুড়িয়ে ফেলার কথা স্বীকার করেছেন সাভার যুবলীগের সাবেক সভাপতি সেলিম মণ্ডল।

গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে, ইতালি পালানোর সময়, হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর থেকে মানিকগঞ্জ পুলিশের সহায়তায় অভিবাসন পুলিশ সাভার যুবলীগের সাবেক সভাপতি সেলিম মণ্ডলকে গ্রেফতার করে।

স্ত্রী আয়েশা আক্তার বকুলের হত্যা এবং পরে লাশ পুড়িয়ে ফেলার দায় ছিল তার উপর। এরপর, সিংগাইর থানা পুলিশ তাকে উক্ত হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মানিকগঞ্জের মুখ্য বিচারিক হাকিমের কাছে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন জানায়। আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডের চতুর্থ দিন মানিকগঞ্জের মুখ্য বিচারক হাকিমের আদালতে স্ত্রীকে হত্যার দায় স্বীকার করেন সেলিম।

সেলিম বলেন, নিহত আয়েশা, তার দ্বিতীয় স্ত্রী ছিল। অনেক দিন ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। হত্যার দিন রাতে তাদের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে রেগে গিয়ে স্ত্রীকে হত্যা করেন সেলিম। এরপর বিছানার চাদর দিয়ে লাশ মুড়িয়ে সহযোগীদের নিয়ে নিজস্ব প্রাইভেটকারে করে সিংগাইর উপজেলার বায়রা ইউনিয়নের জামালপুর এলাকায় যান। সেখানে পেট্রোল দিয়ে লাশটি পুড়িয়ে ফেলেন তিনি।

মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম জানান, গত ৩ আগস্ট জেলার সিংগাইর উপজেলার বায়রা ইউনিয়নের শরতপুর গ্রাম থেকে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার করে সিংগাইর পুলিশ। লাশটির ৯০ শতাংশ পোড়া ছিল। প্রথমে লাশের পরিচয় না পেয়ে ও ঘটনা সম্পর্কে কোনো তথ্য না থাকায় কিছু অজ্ঞাত ব্যক্তিদের মামলার আসামি করা হয়। পুলিশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সারা বাংলাদেশের পুলিশদের সাহায্য গ্রহনের মাধ্যমে অজ্ঞাতনামা লাশটির পরিচয় জানার চেষ্টা চালায়।

অবশেষে, ১৯ আগস্ট নিহতের পরিবার আলামত দেখে লাশটির পরিচয় সনাক্ত করে। এর ১৭ দিন পর, ১৯ আগস্ট পুলিশ সেলিম মণ্ডলের সাভারের বাড়িতে অভিযান চালায়। কিন্তু তাকে না পেয়ে তার ভাই জুয়েল মণ্ডলকে শটগানসহ আটক করে পুলিশ।

স্থানীয় মতে, সেলিম মণ্ডল ও তার ভাই মহসিন মণ্ডল এবং জুয়েল মণ্ডলের নামে তিনটি শটগানের লাইসেন্স আছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পেত না।

আজ বুধবার বিকেলে, রিফাত রহমান শামীম, তার কার্যালয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ব্যাপারটির সততা জানায় গণমাধ্যকে।

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মহিউদ্দিন আহমেদ, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব চক্রবর্তীসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন সেখানে।

Bootstrap Image Preview