Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২১ শুক্রবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৫ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

সংসদে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের দায় নিতে চায় না কোনো সংস্থা

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৭:০৯ AM আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৭:০৯ AM

bdmorning Image Preview


জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনার দায় নিতে চাচ্ছে না কোনও সংস্থা। এদিকে ঘটনা তদন্তে বিদ্যুৎ বিভাগ ও ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি (ডিপিডিসি) দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

কমিটি দুটিকে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব ফয়জুল আমীনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি এবং ডিপিডিসির পরিচালক (অপারেশন) এ টি এম হারুনুর রশীদকে প্রধান করে চার সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৪টার পরে সংসদ ভবন এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়। এ সময় সংসদ ভবনের অধিকাংশ ব্লক বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে। সংসদ অধিবেশন ৫টায় শুরুর কথা থাকলেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে জেনারেটর চালিয়ে বৈঠক শুরু হয় ১০ মিনিট পর। এরপর সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে অন্যান্য কার্যসূচি স্থগিত করা হয়।

ওই সময় সংসদ অধিবেশন মুলতবির কারণ জানতে চাইলে ডেপুটি স্পিকার সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণেই বৈঠক মুলতবি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সংসদে আমরা যে বিদ্যুৎ পাই, তা মেঘনাঘাট বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আসে। ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিপর্যয় ঘটায় সংসদে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়েছে। আমরা জেনারেটর দিয়ে একঘণ্টার মতো বৈঠক চালিয়ে পরে মুলতবি করেছি।

এরপর সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে সংসদ ভবনের বিভিন্ন ব্লকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

এ বিষয়ে ডিপিডিসির প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী পরিচালক মো. রমিজ উদ্দিন সরকার বলেন, ‘মেঘনাঘাটের ৪৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র ট্রিপ করায় পিজিসিবির আমিনবাজারের ১৩২ কেভি গ্রিড লাইন ট্রিপকরে। এতে আমিন বাজার থেকে সংসদ ভবনে আসা ডিপিডিসির লাইনটিতে লো ভোল্টেজের সমস্যা হয়। এরপর সে বিদ্যুৎ সংসদ ভবনে আসার পর সেখানেও সমস্যা হয়, যার ফলে ডিপিডিসির বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেনারেটর চালু হয়ে যায়। ডিপিডিসির কোনও সমস্যা ছিল না।

এদিকে এ ঘটনার পর পিজিসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুম আল বেরুনী বলেন, ‘আমাদের কোনও লাইন ট্রিপ করেনি। ফলে পিজিসিবির লাইনের কারণে এ ঘটনা ঘটেনি। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি ডিপিডিসি বা পিজিসিবির সমস্যা নয়। যেহেতু সংসদের বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্ব পালন করে গণপূর্ত (বিদ্যুৎ) বিভাগ। তাদের কোনও সমস্যা হতে পারে।

পিডিবি জানায়, মেঘনাঘাটে অবস্থিত মালয়শিয়ার ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ট্রিপ করেছে। কিন্তু এ কারণে সংসদে বিদ্যুতের সমস্যা হওয়ার কথা না।

পিডিবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, মেঘনাঘাট থেকে মোট সাড়ে ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। এই বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে সংসদে বিদ্যুৎ থাকবে না, এটা হতে পারে না। কারণ, এই কেন্দ্রের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হয়। ঘাটতি হলে সারা ঢাকায় হবে। শুধুমাত্র সংসদে হবে না। অন্য কোনও কারিগরি কারণে এই সমস্যা হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

Bootstrap Image Preview