Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২১ শুক্রবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৬ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

ওয়াটার বাসের চাহিদা শূণ্যের পথে

আসাদুল্লা লায়ন
রিপোর্টার
প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০২:৪৯ PM আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০২:৫৪ PM

bdmorning Image Preview


বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) নিয়ন্ত্রনাধীন ওয়াটার বাস সার্ভিসের চাহিদা ব্যাপকভাবে কমে এসেছে। এই সার্ভিসটি এখন শুণ্যের পথে। একদিকে সময় ও খরচ অন্যদিকে দূষিত পানির কারণেই এর চাহিদা কমে এসেছে বলে দাবি করেন দায়িত্বরত কর্মকর্তারা। তবে সমস্যা সমাধানে দীর্ঘমেয়াদী কোনো পরিকল্পনা হাতে নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার(১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাদামতলীতে বিআইডব্লিউটিসি এর ঢাকা ঘাটে ৬টি ওয়াটার বাস এর মধ্যে ৪টি ওয়াটার বাসই নষ্ট হয়ে পরে থাকতে দেখা যায়।

সর্বপ্রথম ২০০৪ সালে ওয়াটার ট্যাক্সি আনে বিআইডব্লিউটিসি এর পর কয়েক মাস চলেই তা বন্ধ হয়ে যায়। ৬ বছর পর  ২০১০ সালে আবার দু'টি ওয়াটার বাস নামানো হয়, ১১ মাসের মধ্যেই ফের বন্ধ হয়ে যায়। তৃতীয়বারের ২০১৩ সালে ওয়াটার বাস সার্ভিস চালু করা হয়। এ সময় প্রথম দিকে ওয়াটার বাসে যাত্রীর চাপ ছিলো, ফলে দিনে ১৪ বার ট্রিপ দিত।

কিন্ত বর্তমানে ২০১৮’তে এসে যাত্রীদের চাহিদা কমে যাওয়ায় দিনে মাত্র ২টি ট্রিপে চলছে এই সার্ভিসটি। এর বড় বাসটিতে ৮০ সিটে যাত্রী হচ্ছে ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৭৫, আর ৪০ সিটের ছোট ওয়াটার বাস অকেজো। এ নিয়ে কথা হয় ইঞ্জিন সেকশনের মো: বাবুর সাথে। তিনি বিডিমর্নিংকে বলেন, বর্তমানে আমাদের মাত্র তিনটি ওয়াটার বাস চলছে। বাকিগুলো মেরামতের জন্য বসে আছে। এর মধ্যে এম এল বুড়িগঙ্গাসহ বাকিগুলো প্রায় ৬ মাসেরও বেশি সময় ধরে নষ্ট হয়ে আছে।

ওয়াটার বাসের বর্তমান চিত্র নিয়ে সিনিয়র টার্মিনাল সুপারিন্টেন্ট মো নিজামউদ্দিন বিডিমর্নিংকে বলেন, আমাদের এখন মোট ৮ টি ওয়াটার বাস রয়েছে। এর মধ্যে মোট ৪টি নিয়মিত চলাচল করছে। বাকি ৪টি মেরামতের জন্য বন্ধ রয়েছে। যাত্রীদের চাপ না থাকার কারণেই মেরামতে গুরত্ব দেয়া হয় না বলে জানান তিনি।

যাত্রীদের চাহিদা কমে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাসের তুলনায় ভাড়া ও সময় বেশি লাগার কারণে সবচেয়ে বেশি এর জনপ্রিয়তা হাড়িয়েছে। এছাড়া বুড়িগঙ্গার পানি দূষিত থাকায় যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দে ভ্রমণ করতে না পারায় আগ্রহ কমে গেছে। অ্যদিকে এসব ঘাটের অবস্থান এমন জায়গায় যে গন্তব্যে পৌঁছতে পোহাতে হয় বাড়তি বিরম্বনা। ফলে ধীরে ধীরে এর চাহিদা কমে এখন কিছু সংখ্যক নিয়মিত যাত্রীদের উপর নির্ভর করেই চলছে সার্ভিসটি।

বিআইডব্লিউটিসির একটি সুত্র বিডিমর্নিংকে জানায়, এখন সার্ভিসটি একেবারেই বন্ধ হওয়ার পথে, তবে এটা সরকারের একটা পরিকল্পনা ছিলো এর মাধ্যমে রাজধানীর যানজট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে। ফলে এটা বন্ধ না হয়ে ধীরগতিতেই চলছে। ওয়াটার বাস সার্ভিসের এই পরিস্থিতি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অবগত রয়েছে তবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহনে এখনো কেনো পরিকল্পনা হাতে নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

Bootstrap Image Preview