Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২১ শুক্রবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৬ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

হিজাব পরেও হয়েছেন বডিবিল্ডিং চ্যাম্পিয়ন!

মোঃ মাসুদ রানা
সাব এডিটর
প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৩:৪৪ PM আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৩:৪৮ PM

bdmorning Image Preview


মঞ্চে চলছে মহিলাদের বডিবিল্ডিং প্রতিযোগিতা । এমন সময় এক নারী হিজাব পরে মঞ্চে এলেন । সবাই অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকলো। কারণ এর আগে কেউই বডিবিল্ডিং প্রতিযোগিতায় হিজাব পরে অংশগ্রহণ করেনি। বলা হচ্ছে ভারতের কেরালায় হিজাব পরেই বডিবিল্ডিং চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন মাজিজিয়া বানু নামের এক মুসলিম নারীর কথা। 

ভারতের কেরালায় জন্ম নিয়েছেন ২৩ বছর বয়সী মাজিজিয়া। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বডিবিল্ডিংয়ে তিনি কেরালার নারীদের মধ্যে সেরা হয়েছেন।

দন্ত চিকিৎসায় পড়াশোনা করা এই নারী ইতিমধ্যে ভারোত্তোলনে বেশ কয়েকটি পুরস্কারও পেয়েছেন।

মাজিজিয়া বলেন, যখন আমি বডিবিল্ডিং প্রতিযোগিতায় সেরা হয়েছি, তখন নিজের একটি অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি দুর্ঘটনাবশতই পুরস্কারটি পেয়েছি। আমার বাগদত্তা আমাকে এতে উৎসাহিত করেছেন। প্রথমে আমি দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলাম। কারণ ভেবেছিলাম, এতে আমার শরীর প্রদর্শন হতে পারে।

ভানু প্রমাণ করেছেন হিজাব কোনও নারীর স্বপ্ন পূরণ আটকাতে পারে না। একজন মহিলা যদি নিজের শরীর স্বাধীনভাবে খোলা রাখতে পারে, তবে সে স্বাধীনভাবে নিজের শরীর ঢেকেও রাখতে পারে। তিনি বিশ্বের একমাত্র মুসলিম নারী নন যিনি আর্ম রেসলিং এবং পাওয়ার লিফটিং করেছেন; এমন অনেক নারীই আছেন যারা হিজাব পরে এই কাজ করেন।

ভানু বলেন, ‘আমাদের নাম শোনার পরেই সবাই বুঝতে পারে আমরা মুসলিম’,  তিনি আরও বলেন,হিজাব পরে আমি গর্ব বোধ করি। এটা আমার পরিচয়ের অঙ্গ। এটা আমাকে কোনও সীমানা বেঁধে দেয়নি বরং আমাকে আত্মবিশ্বাস ও শক্তি জুগিয়েছে।’

এরই মধ্যে  বানু একজন সাধারণ ডেন্টাল ছাত্রী থেকে স্থানীয় তারকা হয়ে উঠেছেন, তাও শুধুমাত্র নিজের গ্রামেই নয়, পুরো কেরালায়। কেরালা রাজ্য পাওয়ারলিফটিং অ্যাসোসিয়েশন তাকে তিনবার সবচেয়ে শক্তিশালী মহিলা নির্বাচিত হয়েছেন।

এই দুই বছরে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তিনি পাওয়ারলিফটিং এবং আর্মরেসলিং-এ জাতীয় স্তরে মেডেল লাভ করেছেন। অনুশীলন হোক কিংবা প্রতিযোগিতা সব সময় হিজাব পরে থাকতে দেখা যায়  ভানুকে

বানু বলেন, ‘প্রথম প্রথম পুরুষরা আমি হিজাব পরায় আমার দিকে তাকিয়ে থাকতো। কিন্তু তারপরেই ওরা বুঝতে পারে আমি ওদের মতোই নিজের ওয়ার্কআউট নিয়ে সিরিয়াস। তারপরেই তাদের চোখগুলো অদৃশ্য হয়ে যায়’।

খেলাধুলায় তাঁর প্রবল আগ্রহ থাকা সত্বেও তাঁর গ্রামে কোনওরকম সুযোগসুবিধা ছিল না। তাই প্রতিদিন নিজের ডেন্টাল ক্লাস শেষ করে তিনি ৬০ কিমি. ট্রেনে চেপে কোঝিকোড়ের একটা জিমে যেতেন।

বানু আরও জানান, বাবা মায়ের সহযোগিতা তাঁকে এই স্থান অর্জন করতে সাহায্য করেছে। অক্টোবরে তুরস্কে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ওয়ার্ল্ড আর্ম রেসলিং চ্যাম্পিয়ানশিপের  জন্য জোর কদমে প্রস্তুতি চালাচ্ছেন বানু।

বেশ কিছু পুরস্কার বিজয়ী মাজিজিয়াকে কেরালার পাউয়ারলিফটিং অ্যাসোসিয়েশন তিনবার রাজ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী নারী হিসেবে পুরস্কার দিয়েছে।

Bootstrap Image Preview