Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২০ বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৫ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

শাহজালালে ২০ লাখ টাকার ‘খাট’ জব্দ!

আরিফ চৌধুরী শুভ
সাব এডিটর
প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০:০০ AM আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০:০৩ AM

bdmorning Image Preview


মাত্র দুই দিনের ব্যবধানের নতুন ধরনের মাদক ‘খাট’ বা এনপিএস জব্দ করা হয়েছে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) অভিযানে এবার প্রায় ১৩৫ কেজি ‘খাট’ জব্দ করা হয়।

সোমবার সকাল নয়টার দিকে দিকে বিমানবন্দরের কার্গো ইউনিটের ফরেন পোস্ট অফিস থেকে ‘খাটে’র চালানটি জব্দ করা হলেও এর সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করা যায়নি। জব্দ করা এই মাদকদ্রব্যের বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই ১৩৫ কেজি খাট জব্দ করা হয়। জেট বিমানে করে ওই চালান আসে ইথিওপিয়া থেকে। সেখানের জিহাদ মো. ইউসুফ নামের এক ব্যক্তি গাজীপুরের টঙ্গীর এশা এন্টারপ্রাইজের নামে ওই মাদক পাঠান। গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা ওই প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। জব্দ করা মাদকগুলো মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর সূত্র।

গত শনিবার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঢাকা কাস্টম হাউস ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ অভিযানে ১৬০ কেজি ‘খাট’ জব্দ করা হয়। তবে ওই ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি।

এর আগে গত ৩১ আগস্ট দুপুরে শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো এলাকাসংলগ্ন রানওয়ের পাশে ৪৬৭ কেজি খাটের চালান জব্দ করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নাজিমউদ্দিন (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যার দিকে নাজিমউদ্দিনের শান্তিনগরের কার্যালয় ‘নওশিন এন্টারপ্রাইজ’ থেকে আরও ৩৯৪ কেজি খাট জব্দ করা হয়। মোট ৮৬১ কেজি খাটের ওই চালান বাংলাদেশে পাঠিয়েছিল ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবার জিয়াদ মুহাম্মদ ইউসুফ নামের এক ব্যক্তি। আজ জব্দ হওয়া খাটের চালানটির রপ্তানিকারক জিয়াদ মুহাম্মদ। তবে আমদানিকারক হিসেবে এশা এন্টারপ্রাইজ, হাউস নম্বর-২৮, রোড-০২, ব্লক-ডি, বাদলদী, তুরাগ, ঢাকা-১২৩০ ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ‘খাট’ অনেকটা চায়ের পাতার গুঁড়োর মতো দেখতে। পানির সঙ্গে মিশিয়ে তরল করে এটি সেবন করা হয়। সেবনের পর মানবদেহে একধরনের উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। আসক্তিটা অনেকটা ইয়াবার মতো। একধরনের গাছ থেকে এই ‘খাট’ বা এনপিএস তৈরি হয়।

এটি ‘খ’ ক্যাটাগরির মাদক। আফ্রিকার দেশ জিবুতি, কেনিয়া, উগান্ডা, ইথিওপিয়া, সোমালিয়া, ইয়েমেনে খাটের গাছ উৎপাদন করা হয়। খাট সেবন করলে অনিদ্রা, অবসাদ, দৃষ্টিভ্রম, ক্ষুধামান্দ্যসহ মানবদেহে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। এ ছাড়া ইন্দ্রিয় শক্তি এবং যৌনক্ষমতা হারিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি খাট জীবনীশক্তিও কমিয়ে দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ১৯৮০ সালে এনপিএসকে মাদকদ্রব্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।

Bootstrap Image Preview