Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২২ বৃহস্পতিবার, নভেম্বার ২০১৮ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

দূরপাল্লার শিডিউল বিপর্যয়, ঢাকায় পরিবহন সংকট

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০ আগস্ট ২০১৮, ০৩:৫৪ PM
আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ০৩:৫৪ PM

bdmorning Image Preview


আসাদুল্লা লায়ন।।

ইদুল আজহা’র বাকি দুই দিন, নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে নগরবাসী। এতে বাস, ট্রেন ও লঞ্চযোগে ফিরছেন ঘরমুখো মানুষজন। তবে পরিবহনগুলো নির্ধারিত সময়ে না ছাড়ার কারণে দুরপাল্লার যাত্রিদের পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি। অন্যদিকে, রাজধানীর অভ্যন্তরে পরিবহন সংকটে প্রতিটি গন্তব্যেই দারিয়ে থাকতে হচ্ছে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত।

সোমবার (২০ আগস্ট) রাজধানীর গাবতলী, মহাখলী, কমলাপুর ও সদরঘাট এলাকায় এমন পরিস্থিতি লক্ষ করা গেছে। তবে পরিবহনে সংশ্লিষ্টরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সকাল থেকে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় লক্ষা করা যায়, সকালে যাত্রীদের চাপ কিছুটা থাকলেও দুপুরের দিকে তা স্বাভাবিক হয়ে যায়। তবে যাত্রীদের চাপ বিকেলের দিকে সব অফিস ছুটি হলেই বাড়বে বলে জানান কাউন্টারেগুলোর দায়িত্বে থাকা কর্মরতরা।

তবে যাত্রীদের অভিযোগ, প্রতিটি বাসই লম্বা সময় পরে ছেড়ে যাচ্ছে। এতে তাদের একদিকে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে অন্যদিকে পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি।

মহাখালি বাস টার্মিণাল থেকে দিনাজপুৃর যাবেন সারমিন জাহান. তিনি বলেন, বাসের জন্য বসে আছি বাস এখনো আসেনি, এতে বিরক্ত লাগলেও বাড়ি ফেরার আনন্দে কমতি নেই।

সোহাগ পরিবহনের কাউন্টারে দায়িত্বরত এক কর্মচারী সিডিউল বিপর্যয়ের কথা অস্বীকার করে বলেন, আমাদের বাসগুলো জ্যামের কারণে আসতে কিছুটা দেরি হয়, এ জন্য ঢাকা থেকে ছেড়ে যেতে কিছুটা সময় বেশী লাগে। তিনি জানান, আজ সকাল থেকেই যাত্রীদের চাপ নেই তবে সন্ধা থেকে চাপ পড়বে।

এদিকে রাজধনীর গাবতলী এলাকায় এখনো ৫০ ভাগ আগাম টিকেট বিক্রি না হওয়ায় সহজেই উত্তরঞ্চেলের টিকেট পাওয়া যাচ্ছে বলে জানা যায়। এতে তাৎক্ষণিক টিকেট নিতে কোনো ভোগান্তি না হলেও, যারা অগ্রিম টিকেট কেটেছে তাদের একটু ভোগান্তি হচ্ছে বাসগুলো দেরীতে ঢাকায় পৌঁছানোর কারণে।

অন্যদিকে, আজ সকাল থেকেই রাজধানীর অভ্যন্তরে গণপরিবহন সংকটে ভোগান্তিতে পোহাচ্ছেন নগরবাসী। প্রয়োজনের তুলনায় বাস নেই বললেই চলে তবে রিকশা ও সিএনজিচলিত পরিবহনের রয়েছে স্বাভাবিক চলাচল।

সকাল ১০টায় মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে মগবাজারের অফিসে যাবেন হোসাইন মেহেদী। তিনি বিডিমর্নিংকে জানান, অন্যান্য দিনের মতোই বাসা থেকে বের হলেও এই রুটের বাস না পেয়ে দাড়িয়ে থাকতে হয়েছে লম্বা সময়। রিকশা ও সিএনজি পাওয়া গেলেও ভাড়া চাচ্ছে দ্বিগুন।

এভাবে রাজধানীর উত্তরা-গুলিস্থান, মিরপুর-মতিঝিল, আজিমপুর-কুড়িল, মোহাম্মদপুর-নারায়নগঞ্জ, আজিমপুর-গাজীপুর, সাভার-গুলিস্থানসহ সব রুটেই গণপরিবহন প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই কম। এছাড়া ভাড়া বেশী নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া যায় এসব রুটের পরিবহনগুলোতে।

এদিকে সদরঘাট এলাকায় গত কয়েকদিনের তুলনায় আজ বেশ চাপ পড়েছে। এতে সিডিউল বিপর্যয় ও ভাড়া বেশী নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের ১৫০ টাকার ভাড়া এখন ২৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান এক যাত্রী।

বিষয়টি লঞ্চ মালিকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ নৌপরিবহন সংস্থা (যাপ) এর আহ্বায়ক মেহেদী’র কাছে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করে বলেন, অন্য সময় ৩০০ টাকার টিকেট ১০০ টাকা বিক্রি করা হয় তাই ইদের সময় আবার ৩০০ চাইলে বলে বেশী রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ থাকে যাত্রীদের।

সিডিউল বিপর্যয় নিয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ নৌপরিবহন কপোরেশন এর নিরাপত্বা ও ট্রাফিক বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মো. আলমগীর কবির বিডিমর্নিংকে বলেন, যেখানে ১০০ যাত্রী নিয়ে রাত আটটায় ছেড়ে যেতে হবে সেটা যদি ছয়টায় ১০০ যাত্রী পূর্ণ হয় তাহলে ছয়টায়ই ছেড়ে দেওয়া হয়। এভাবে শিডিউল শিথিল করা হয়।

এদিকে ঢাকা থেকে বরিশাল নৌরুটে লঞ্চের ডাবল কেবিন এর ভাড়া ৩ হাজার ও সিঙ্গেল ২ হাজার টাকা রাখা হচ্ছে বলে জানা যায়। বিষয়টি এমভি বরিশাল ৭ এর টিকেটের দায়িক্বে থাকা মনিরের কাছে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করে বলেন, আমাদের সিঙ্গেল কেবিন ১ হাজার ও ডাবল ২হাজার টাকায় রাখা হচ্ছে।

এদিকে কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের প্রতিটি ট্রেনই লম্বা সময় লেট করে ছেড়ে যাচ্ছে। যাত্রীরা জানান, এতো কষ্টেও কষ্ট মনে হচ্ছে না বাড়ি ফেরর আনন্দে তাদের তেমন কোনো অভিযোগ নেই।

তবে অনেকেই অভিযোগ করেন, প্রচুর গরম, ফ্যান চলছে তারপরও বসে থাকা কষ্টকর হচ্ছে। এসব নিয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন মাষ্টারের সাথে যোগাযোগ করা হলে সম্ভব হয়নি।

Bootstrap Image Preview