Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২২ শনিবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৭ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু ঠেকাতে মিজানুরের নতুন আবিষ্কার!

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট ২০১৮, ০৩:৫৭ PM আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০১৮, ০৩:৫৭ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক-

দেশে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে শিশু মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। আর শিশু মৃত্যু দেখে ডুকরে কেঁদে উঠে মিজানুরের মন। সেই ব্যথা থেকে শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যু ঠেকাতে একটি যন্ত্র আবিষ্কার করলেন যশোরের শার্শা উপজেলার স্বশিক্ষিত উদ্ভাবক মিজানুর রহমান।

শিশু পানির সংস্পর্শে গেলেই উদ্ভাবন করা নতুন এই যন্ত্র দিয়ে সহজেই জানা যাবে।আর সে জন্য ছোট্ট একটি যন্ত্র শিশুটির শরীরে লাগাতে হবে। এর মাধ্যমে পানিতে নামলেই বাড়িতে থাকা এলার্মে সতর্ক করে দিবে যে শিশুটি পানির সংস্পর্শে গেছে বা পানিতে নামছে।

দীর্ঘদিন এটা নিয়ে গবেষণা করে ফল পাওয়া এই উদ্ভাবক বলেন, যন্ত্রটি শিশুর শরীরে যেকোন জায়গায়  তাবিজের মতো বেঁধে রাখতে হবে। অতি ক্ষুদ্র এ যন্ত্রটি বহনে শিশুর কোনো সমস্যা হবে না। ডিভাইস ব্যবহৃত শিশু যখনি পানির সংস্পর্শে আসবে তখন তার বাড়িতে রাখা এলার্মে বিপদ সংকেত বাজতে থাকবে। ফলে বাড়িতে থাকা শিশুটির পরিবারের যে কেউ তাকে উদ্ধার করতে পারবে।

তবে যন্ত্রটির এখনও কাঙ্ক্ষিত আকার দেয়া হয়নি জানিয়ে এই উদ্ভাবক বলেন, প্রাথমিকভাবে এই যন্ত্রটির আকার একটু বড়। ধীরে ধীরে এই যন্ত্রটি শিশুর বহন উপযোগী করে তোলা হবে। প্রাথমিকভাবে পর্যায়ে এ যন্ত্রটি কিনতে ৩শ থেকে ৫শ টাকা লাগবে।

যন্ত্রটি তৈরি করতে মিজানুরের লেগেছে একটি মোবাইল ব্যাটারি, একটি ডিভাইস ও একটি এলারম মাইক। এ ব্যাপারে মিজানুর বলেন, কোনো কিছু করতে হলে প্রয়োজন হয় অর্থের। অর্থ ছাড়া কোনো কিছুই সম্ভব নয়। তাই সরকারের সুদৃষ্টি কামনাসহ অর্থের জোগান দিতে পারলেই এ যন্ত্রটি বাজারজাত করতে পারবো। আর তা থেকেই দেশ ও দেশের বাইরের অনেক শিশুকে অকাল মৃত্যু থেকে বাঁচানো যাবে।

উল্লেখ্য, ছোট বেলা থেকেই আবিষ্কারের নেশা আছে মিজানুর রহমানের। নতুন যেকোন যন্ত্রই তার টানে। সেই আগ্রহ থেকেই একে একে বানিয়েছেন বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পানি তোলার যন্ত্র, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র, মোটরকার, প্রতিবন্ধীদের বিশেষ যান এমন আরও কত কী!

৪৭ বছর বয়সী মিজানুরের বাড়ি শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামে। পেশায় মোটরসাইকেল মেকানিক। শার্শা উপজেলা সদরেই তার ‘ভাই ভাই ইঞ্জিনিয়ার্স’ নামের ওয়ার্কশপ। মোটর মেরামতের এই দোকানেই চলে তার জীবিকা।

তার বাবাও ছিলেন মোটর মেকানিক। বাবা যখন মোটর মেরামতের কাজ করতেন, সেটা দেখতেন ছোট্ট মিজানুর। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় মিজানুর। সপ্তম শ্রেণির পর আর স্কুলে যাওয়া হয়নি। বাবার পেশাতেই এক সময় জড়িয়ে পড়েন। মোটর মেরামতের কাজ করতে করতেই মাথায় চাপে উদ্ভাবনের নেশা।

১৯৯৪ সালের কথা। বানালেন নতুন এক ইঞ্জিন। নাম দিলেন আলগা ইঞ্জিন। এর যন্ত্রাংশ বাইরে থেকে দেখা যায় বলেই এমন নাম। তবে এখন সেই যন্ত্রটি আর নেই। সেই থেকেই শুরু তার উদ্ভাবক জীবনের যাত্রা। উদ্ভাবনের জন্য পেয়েছেন নানা পুরস্কারও।

Bootstrap Image Preview