Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৫ সোমবার, অক্টোবার ২০১৮ | ৩০ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

লালবাগ উপ-নির্বাচন, মুখোমুখি সংলাপ 'পর্ব-১'

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০১৮, ০৫:৪০ PM
আপডেট: ২০ জুলাই ২০১৮, ০৫:৪০ PM

bdmorning Image Preview


ইসতিয়াক ইসতি।। 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ২৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোশাররফ হোসেন চলতি বছরের ২৫ মে  মারা যাওয়ার পরে শূন্য  হয়ে যাওয়া কাউন্সিলর পদে ৩০ জুলাই উপ-নির্বাচন হতে যাচ্ছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে জমে উঠতে শুরু করেছে নির্বাচনের মাঠ।আর উপ-নির্বাচন নিয়ে বিডিমর্নিংয়ের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজকের পর্বে থাকছে সবশেষ কাউন্সিলর নির্বাচনে সদ্য প্রয়াত ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোশাররফ হোসেনের কাছে হেরে যাওয়া হাজী মোঃ দেলোয়ার হোসেন সক্ষাৎকার।

ডিএসসিসির ২৪ নম্বর ওয়ার্ড বর্তমানে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৪৫ হাজার। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২২২৬৮জন এবং মহিলা ভোটার  ২১৫৯৭ জন। আর এই উপ-নির্বাচনে কাউন্সিলর পদের এবারের মোট প্রার্থী ৬ জন। সংখ্যার হিসাবে পুরুষের চেয়ে কম হলেও বিশ্লেষকরা বলছেন ভোটের ফলাফল পরিবর্তন করে দিতে পারেন নারী ভোটারা।

বিডিমর্নিং: আপনি তো সদ্য প্রয়াত কাউন্সিলর মোশাররফ হোসেনের প্রধান প্রতিপক্ষ ছিলেন। এবারের  নির্বাচনে তার ছেলে মোকাদ্দেস হোসেন জাহিদ আপনার অন্যতম প্রতিপক্ষ। এবিষয়টিকে কিভাবে দেখছেন ?

মোঃ দেলোয়ার হোসেনঃ আমি আগের বারও জয়ী হয়ে ছিলাম। কিন্তু ভোটে কারচুপি করে মোশাররফ হোসেন নির্বাচিত হয়েছিল। আপনি এলাকার মানুষের  সাথে কথা বলে দেখতে পারেন। সবাই আমাকেই জন প্রতিনিধি হিসাবেই দেখতে চায়।

তার ছেলের বিষয়ে আমি এটুকুই বলবো, আমার ২৫ বছরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। আর জাহিদ তো সেদিনের ছেলে। সে এলাকার জনগনের চাওয়া পাওয়ার বিষয়টি সে কতটুকু বুঝে বা জানে সেটাও দেখতে হবে। সে তো তার বাবার তৈরি করা রাজনৈতির ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য নির্বাচন করছে। কিন্তু আমি মানুষের সেবার জন্য নির্বাচন করছি। ‍

বিডিমর্নিং:  আপনার নির্বাচনী ইশতেহার কী কী থাকছে ?

মোঃ দেলোয়ার হোসেনঃ মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজমুক্ত সমাজ গড়াকে জোর দিয়ে আমি আমার ইশতেহার দিয়েছি। এছাড়া আমাদের এলাকার সড়কের উন্নয়ন, দীর্ঘদিনের পানির সমস্যার সমাধান, নারী শিক্ষা বৃদ্ধি করা ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি ব্যবস্থা করার মত বিষয়গুলো আছে আমার নির্বাচনী  ইশতেহারে। এছাড়া আমার নির্বাচনী এলাকা ঢাকার একদম শেষ প্রান্তে এবং প্রচুর নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাস  এখানে। ফলে মাঝে মাঝে যৌতুকের কারণে অনেক বিয়ে ভেঙ্গে যায়। জনগণ আমাকে নির্বাচিত করলে, একটা যৌতুক মুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে চাই আমি। বিডিমর্নিং : এলাকার  বয়স্ক ব্যক্তি ও মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে তাঁরা নিয়মিতভাবে ভাতা পাচ্ছেন না। আপনি নির্বাচিত হলে কি এ বিষয়ে করবেন ?

মোঃ দেলোয়ার হোসেনঃ এলাকার মুক্তিযোদ্ধা ও সমাজের মুরব্বীরাই আমাদের মাথার উপরের ছায়া। আগের কাউন্সিলরের সময় অনেকেই এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে । কারণ তাঁরা নিজেদের কাছের মানুষের জন্য এই সুযোগ সুবিধাগুলো বরাদ্ধ করে রেখেছিল। আমি বিডিমর্নিং এর মাধ্যমে আমার এলাকার সবাইকে নিশ্চিত করতে চাই যে, আমি নির্বাচিত হলে নিয়ম মেনে সবাইকে ভাতার ব্যবস্থা করে দেওয়ার চেষ্টা করবো।

বিডিমর্নিং: অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ যখনই যে নির্বাচিত হয়েছে তারাই মহল্লার সরকারি ও আধা-সরকারি স্কুলগুলোতে বিয়ে, খতনা, জন্মদিন ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া দিয়ে টাকা উপার্জন করে আসছে। আপনি নিজেও তো ওয়েস্ট এন্ড হাই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসাবে আছেন । এবিষয়ে কী বলবেন?

মোঃ দেলোয়ার হোসেনঃ আসলে আপনাকে বুঝতে হবে আমাদের এলাকার একটি বড় অংশ নিম্ন আয়ের মানুষ। তাই তাদের সুবিধার জন্য অনেক সময় স্কুলগুলোতে বিয়ে, খতনা, জন্মদিনের অনুমতি দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু এর বিনিময়ে কোনো অর্থ নেওয়া হয় না। আর রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের বিষয়ে আমি এতটুকু বলতে পারি যে, আমি বা আমার সাথের কেউ কখনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো সমাবেশ করিনি এবং সামনে করবো না।

বিডিমর্নিং: অভিযোগ  উঠেছে, রাস্তার পাশে ফুটপাতে দোকান এবং কয়েকটি রাস্তার মোড়ে লেগুনাস্ট্যান্ড বসিয়ে এলাকার একাধিক নেত্রা-কর্মী টাকা আদায় করে আসছে। আপনি তো  এলাকাতে  দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করে আসছেন । এ বিষয়ে কী বলবেন ?

মোঃ দেলোয়ার হোসেনঃ আমার বাপ-দাদার সময় থেকে ব্যবসা করে আসছি। আমি আমার নিজের টাকায় রাজনীতি করি। রাস্তার দোকান বা কোনো  লেগুনাস্ট্যান্ড থেকে টাকা নেওয়ার মত কাজ আমি করিনি। আপনারা তো সাংবাদিক এলাকাতে খবর নিয়ে দেখতে পারেন। তবে আমি কথা দিচ্ছি আমি নির্বাচিত হলে রাস্তার অবৈধ স্থাপনা তুলে ২৪ নং  ওয়ার্ডের সকল সড়ক অবমুক্ত করবো। বিডিমর্নিং: সবশেষ আপনার কাছে প্রশ্ন নির্বাচনে জয়ের ব্যপারে আপনি কতটুকু আশাবাদী ? মোঃ দেলোয়ার হোসেনঃ মোশাররফ হোসেনের ভাই মহসীন আজাদ রাজধানীকেন্দ্রীক শীর্ষ ৮২জন মাদক ব্যবসায়ীদের  একজন এবং  নির্বাচনে তাঁরা এই অবৈধ অর্থ ব্যয় করছে। কিন্তু এলাকার মানুষ আমাকে জনপ্রতিনিধি হিসাবে চায়। আর যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, তাহলে আমি জয়ী হব। এছাড়া  ২৪ নং ওয়ার্ডের মানুষ মাদকের সাথে জড়িত কাউকে ভোট দিবে না এটা আমার বিশ্বাস।
Bootstrap Image Preview