Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২০ বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৫ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

২৮ বছরেই আশরাফুল ইসলাম পেলেন কবি জীবনানন্দ দাস স্মৃতি সম্মাননা!

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ জুলাই ২০১৮, ০৯:১২ PM আপডেট: ১১ জুলাই ২০১৮, ০৯:২২ PM

bdmorning Image Preview


আরিফ চৌধুরী শুভ।।

যে সমাজ পিছিয়ে আছে তাকে টেনে তোলা দরকার। যে তারুণ্য বিপথগামী তাকে পথ দেখানো দরকার। যে সমাজে আলো নেই, সে সমাজে আলো জ্বালানো দরকার। সমাজে শিক্ষার আলো জ্বালানোর উদ্যোগে যেই সকল তরুণ এগিয়ে এসেছেন, তাদের একজন আশরাফুল ইসলাম। মাত্র ২৮ বছর বয়সে লক্ষ্মীপুর শহরেই প্রতিষ্ঠা করেন ২টি কলেজ। শিক্ষায় অবদান স্বরূপ তিনি ভূষিত হন কবি জীবনানন্দ দাস স্মৃতি সম্মাননায়।

আশরাফুল ইসলাম অক্সফোর্ড মডেল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা উপাধ্যক্ষ। তার প্রতিষ্ঠিত কলেজ দুটি হলো অক্সফোর্ড (২০১৫ সালে) মডেল কলেজ এবং ইস্পাহানী মহিলা কলেজ (২০১৬ সালে)।

গত ০৯ জুলাই পুরাতন পল্টনের মুক্তি ভবনের মৈত্রি মিলনায়তনে স্বাধীনতা মিডিয়া ভিশন তার হাতে তুলে দেন কবি জীবনানন্দ দাস স্মৃতি সম্মাননা। এত অল্প বয়সে  এত বড় একটি সম্মাননা পেয়ে তাঁর অনুভূতি জানালেন বিডিমর্নিংকে।

আশরাফুল ইসলাম বিডিমর্নিংকে বলেন, শিক্ষার মত মৌলিক বিষয় নিয়ে আমি কাজ করতে পেরে অামি অত্যন্ত তৃপ্তিবোধ করছি। পুরস্কারের জন্যে কাজ নয়, সমাজ পরিবর্তনের জন্যে কাজ করা উচিত। নিজেকে সম্মানিত মনে করছি কাজের স্বীকৃতি পেয়ে। আমি লক্ষ্মীপুরকে শিক্ষার নগর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

[caption id="attachment_403254" align="aligncenter" width="634"] ২৮ বছরের তরুণ আশরাফুল ইসলাম ও কবি জীবনানন্দ দাস স্মৃতি সম্মাননা ক্রেস্ট[/caption]

আপনার স্বপ্নের শুরুটা ঠিক কখন থেকে?

সময়টা ঠিক মনে নেই। তবে কলেজে পড়ার সময় লক্ষ্য করি  উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে লক্ষ্মীপুর জেলার শিক্ষার্থীদের মধ্যে কলেজ শেষ করার পরে তেমন কোন আগ্রহ নেই। কলেজ পাশ করার পর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার বিষয়টিও অনেকের জানা ছিল না। কেউ কেউ জানলেও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন অনেকেরই অধরাই থেকে যেত আজীবন। শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার আগ্রহ ও সুযোগ সৃষ্টির চিন্তা আসলো মাথায়। আমার কোচিংয়ের অনেক শিক্ষার্থীই এখন প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে স্বস্বক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। আমার এক শিক্ষার্থী বাংলাদেশ সরকারকে শিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তন এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসরোধে মডেল দিয়েছে। আমার খুবই গর্ব হয় তাদের দেখলে।

আপনার পড়াশুনায় কি প্রতিবন্ধকতার ছিল?

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ৫নং পার্বতীনগর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মতলবপুর গ্রামে ১৭ মে ১৯৮৬ সালে আমি জন্মগ্রহণ করি। বাবা মো: শামসুল ইসলাম একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা এবং মা আমেনা বেগম একজন গৃহিনী। বাবা সেনা কর্মকতা হলেও পড়াশুনার জন্যে মাঝে মাঝে অর্থনৈতিক সমস্যাটাই ছিল সাময়িক প্রতিবন্ধকতা। সব প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে আমি খিলবাইছা জি. এফ ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী সম্পন্ন করি।

কলেজতো হলো কিন্তু অর্থ পেলেন কিভাবে?

দুটো কলেজ প্রতিষ্ঠার কোন উদ্দেশ্য ছিল না। কিন্তু অক্সফোর্ড মডেল কলেজ প্রতিষ্ঠার পর কিছু অভিভাবকের অনুরোধে মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করি। আমি নারী শিক্ষাকে সব সময় উৎসাহিত করি। নারীরা পুরুষের পাশাপাশি এগিয়ে গেলে সমাজ এগিয়ে যাবে। আমি চাই সমাজে এই সত্য প্রতিষ্ঠিত হোক। দুটো প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে কারো আর্থিক সহযোগিতা বা সাহস না পেলেও আমি থেমে যাইনি কখনো। আশা করেছিলাম জেলার উঁচু মহলের ব্যাক্তি, এমপি ও স্থানীয় রাজনীতিবীদরা এগিয়ে আসবেন আমার কাজে কিন্তু সবাই শুধু আশ্বাস দিয়েছেন, অর্থ কেউ দেননি। তখন আশ্বাসের চেয়ে আমার প্রয়োজন ছিল অর্থের। একাই যুদ্ধ করেছি আমি। সফলও হয়েছি আমি। আমাকে কবি জীবনানন্দ দাস স্মৃতি সম্মাননায় মনোনীত করায় আমি আনন্দিত। শুধু শিক্ষাক্ষেত্রে আমার ভূমিকার জন্যে আমি এই পদক পেয়েছি।

যারা আপনার সমালোচক তাদের কি বলবেন?

দিন শেষে আমরা সবাই সমাজের মানুষ এবং বাংলাদেশের মধ্যেই থাকি। কেউ এগিয়ে যাবে আর কেউ সমালোচনা করবে না তাতো হবে না। সমালোচনা অনেক সময় সঠিক পথ বাতলে দেয়। তবে অতিরিক্ত সমালোচনা ক্ষতিকর। আমার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। শিক্ষা দিয়ে আমি সমাজকে আলোকিত করতে চাই।

শুধু শিক্ষা নয়, আশরাফুল ইসলাম বিভিন্ন সামাজিক ও সংস্কৃকিত সংগঠনের সাথে সরাসরি জড়িত। এখনো যুক্ত আছেন লক্ষ্মীপুর  জেলা মানবাধিকার ইউনিটির সভাপতি, নিরাপদ সড়ক চাই,  আন্দোলনের জেলা কমিটির সাথে। স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন “ প্রেরনা” সব সময় তার থেকে প্রেরণা পায়।

যে পথ আশরাফুলের সামনে সে পথ যেন এদেশের প্রতিটি তারুণ্য এগিয়ে আসে। আশরাফুল বলেন আর আক্ষেপ করেন অতীত মনে করে। মুখ ভরে হেসে দিয়ে আবারো বলেন, শিক্ষার আলো থেকে কেউ যেন বঞ্চিত না হয়, সেজন্যে সমাজের কাজে, শিক্ষার কাজে সবাই এগিয়ে আসা উচিত। যে আগে আসবে তার পাশে সবার থাকা উচিত। সবার একটাই লক্ষ্য থাকা উচিত সোনার বাংলা নির্মাণ করা।

Bootstrap Image Preview