Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২১ বুধবার, নভেম্বার ২০১৮ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

মহাখালী ফ্লাইওভারে গাড়িচাপার ৪৫ ঘণ্টা পরও অভিযুক্ত এমপিপুত্রকে গ্রেফতারে অগ্রগতি নেই

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ জুন ২০১৮, ০৮:২৫ PM
আপডেট: ২১ জুন ২০১৮, ০৮:৩৬ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক-

ঢাকার মহাখালীর ফ্লাইওভারে গাড়িচাপায় পথচারী সেলিম ব্যাপারী নিহত হওয়ার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত চালককে শনাক্ত করে অভিযান চালাবে বলে জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া শাখার উপকমিশনার মাসুদুর রহমান।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া শাখার উপকমিশনার মাসুদুর রহমান এ কথা জানান।

তিনি বলেন, মহাখালী ফ্লাইওভাবে গাড়িচাপায় পথচারী নিহতের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। গাড়ির মালিককে শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিআরটিএর সঙ্গে যোগাযোগ করে মালিক ও তার ঠিকানা সম্পর্কে নিশ্চিত হব আমরা। পাশাপাশি ঘটনার সময় যিনি গাড়ি চালাচ্ছিলেন তাকে আমাদের শনাক্ত করতে হবে। সেক্ষেত্রে মূলত আশপাশের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার কোনো ফুটেজ, যেগুলো সম্ভাব্য পাওয়া যাবে, সেগুলো আমরা বিশ্লেষণ করব। বিশ্লেষণ করে আরও প্রত্যক্ষদর্শী আছে, তাদেরও আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করব। মূলত ঘটনার সময় গাড়ি কে চালাচ্ছিল সে সম্পর্কে আমরা নিশ্চিত হয়ে অভিযান পরিচালনা করব।

মঙ্গলবার রাতে মহাখালী ফ্লাইওভারে সেলিম ব্যাপারীকে চাপা দেয় একটি প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো ঘ-১৩-৭৬৫৫ নম্বর)।

নিহত সেলিম ব্যাপারীর স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করীম চৌধুরীর ছেলে শাবাব চৌধুরী।

আর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্যানুযায়ী, ঘাতক গাড়িটি শাবাবের মা কামরুন নাহার শিউলির নামে নিবন্ধিত। তিনি কবিরহাট উপজেলা চেয়ারম্যান।

ওই ঘটনায় কাফরুল থানায় গাড়ির নম্বর উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন নিহত সেলিমের মেয়ের জামাই আরিফ ভূঁইয়া।

তবে ঘটনার পর ৪৫ ঘণ্টা পার হলেও অভিযুক্ত শাবাব চৌধুরীকে গ্রেফতার ও ঘাতক গাড়িটি জব্দে কোনো অগ্রগতি নেই পুলিশের।

কাফরুল থানার ওসি শিকদার মোহাম্মদ শামিম হোসেন  বলেন, সেলিম ব্যাপারী নিহত হওয়ার ঘটনায় তদন্ত চলছে।

দুপুরে উপকমিশনার মাসুদুর রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হয় তদন্ত প্রক্রিয়া দেরি হলে আসামি দেশ থেকে পালিয়ে যেতে পারে কিনা।

জবাবে তিনি বলেন, অপরাধের সঙ্গে কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা থাকলে সেক্ষেত্রে তথ্যপ্রমাণ অথবা সাক্ষ্যপ্রমাণ থাকতে হয়। প্রথমেই আমাদের গাড়িটির মালিক খুঁজে বের করতে হবে। দ্বিতীয়ত গাড়িটি কে চালাচ্ছিলেন তা বের করতে হবে। এর পরই আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পর খুব বেশি সময় পার হয়ে যায়নি। তথ্যপ্রমাণ ও সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহের পরেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সেলিম ব্যাপারীকে চাপা দেয়া গাড়িটি এখন পর্যন্ত জব্দ করা না গেলেও পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত আছে বলে জানান উপকমিশনার।

উল্লেখ্য, নিহত সেলিম ব্যাপারীর গ্রামের বাড়ি বরিশালে। তিনি পরিবার নিয়ে উত্তরখান এলাকায় থাকতেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেলিম বনানী সেতু ভবনসংলগ্ন ফ্লাইওভার পার হচ্ছিলেন। এ সময় বেপরোয়া গতিতে আসা প্রাইভেটকারটি তার পায়ের ওপর তুলে দেয়। এ সময় গাড়ির চাপা খেয়ে সেলিম গাড়ির বাম্পার চেপে ধরেন। তখন গাড়ি ব্যাক গিয়ারে দিয়ে আবারও সেলিমকে চাপা দেয় চালক।

এ সময় ফ্লাইওভারের গার্ডারে ধাক্কা খেয়ে মাথা ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় সেলিমের। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

চালকের পরনে ছিল এক রঙের শার্ট ও কালো প্যান্ট। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক মোটরসাইকেল আরোহী প্রাইভেটকারটির পিছু নিলে সেটি ন্যাম ভবনের সামনে গিয়ে থামে। ওই গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন এমপি একরামুল করিম চৌধুরীর ছেলে শাবাব চৌধুরী।

সেখানে তার সঙ্গে ওই প্রত্যক্ষদর্শীসহ অন্যদের প্রচণ্ড বাকবিতণ্ডা হয়। ঘটনার কথা কাউকে না জানানোর জন্য শাবাব তাদের নানাভাবে হুমকিও দেন।

Bootstrap Image Preview