Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৮ বৃহস্পতিবার, অক্টোবার ২০১৮ | ৩ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

‘ডাক্তার সাহেব আল্লাহ আল্লাহ করতে বলেছেন’

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২ মে ২০১৮, ০৬:২৭ PM
আপডেট: ২২ মে ২০১৮, ০৬:২৭ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক-

রাজধানীর ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটালে একদিনে দু’ মায়ের গর্ভে জন্ম নেওয়া ৭ নবজাতকের কেউ শঙ্কামুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন হাসপাতালটির এনআইসিইউতে কর্তব্যরত সহকারী অধ্যাপক ডা. রোজিনা আক্তার।

ওই নবজাতকরা শ্বাসপ্রশ্বাস জটিলতা ও রক্তের সংক্রমণজনিত সমস্যায় ভুগছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের প্রত্যেকের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম। নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট’ বা নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (এনআইসিইউ) চিকিৎসাধীন এসব নবজাতকের কমপক্ষে চারজনকে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস (লাইফ সাপোর্ট) দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার আগে সাত নবজাতক আদৌ বাঁচবে কি-না তা নিশ্চিত করা বলা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন,একজন স্বাভাবিক নবজাতকের ওজন ২ হাজার ৫০০ গ্রাম হলেও তার তিন সন্তানের প্রথম জনের ওজন ৯০০ গ্রাম, দ্বিতীয় জনের ওজন ৯০০ গ্রাম এবং তৃতীয় জনের ওজন মাত্র ৭০০ গ্রাম।

তিনি জানান, সোমবার বিকেলে অধ্যাপক ডা. রুমানা শেখের অধীনে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে সুইটি খাতুনের গর্ভে জন্ম নেয়া তিন নবজাতকই টেস্টটিউব বেবি। তারা আগেই জানতেন সুইটি খাতুন গর্ভ ধারণের মাত্র ২৬ সপ্তাহেই মা হয়েছেন। দুই কন্যা ও এক ছেলে নবজাতকের প্রত্যেকেরই ওজন খুবই কম।

নবজাতকদের শারীরিক অবস্থা বিষয়ে সুইটি খাতুনের স্বামী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ডাক্তার সাহেব আল্লাহ আল্লাহ করতে বলেছেন।’ তাদের সন্তান টেস্টটিউব পদ্ধতিতে নয় ভারতীয় এক চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধপত্র খেয়ে স্বাভাবিকভাবে জন্মগ্রহণ করেছে।

এর আগে সোমবার রাত ১২টার দিকে সনিয়া আক্তারের গর্ভে চারটি ও সোমবার বিকালে সুইটি খাতুনের গর্ভে অপর তিন নবজাতক জন্মগ্রহণ করে।

হাসপাতালটির গাইনি বিভাগ জানায়, সনিয়া আক্তারের ৪ জন নবজাতকের মধ্যে ছেলে শিশু ৩টি ও কন্যাশিশু ১টি। সুইটি খাতুনের গর্ভের ৩ নবজাতকের মধ্যে কন্যা শিশু দুটি ও অন্যটি ছেলে শিশু।

সুইটি খাতুনের গর্ভের নবজাতকরা স্বাভাবিক ও  সনিয়া আক্তারের গর্ভে জন্ম নেওয়া নবজাতকরা সিজারের মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করেন। সনিয়া খাতুনের গর্ভে জন্ম নেওয়া চার জন নবজাতকের মধ্যে ১ম জনের ওজন ১ কেজি ৯০০ গ্রাম, ২য় জনের ওজন ১ কেজি ৬০০ গ্রাম, ৩য় জনের ওজন ১ কেজি ৫৬০ গ্রাম ও ৪র্থ জনের ২ কেজি ১০০ গ্রাম।

তবে প্রথম নবজাতকের রক্তশূণ্যতা দেখা দেওয়ায় তাকে রক্ত দেওয়া হয়েছে।সহকারী অধ্যাপক ডা. রোজিনা আক্তারের অধীনে চিকিৎসাধীন নবজাতকরা নিবিড় যত্ম ইউনিটে (এনাআইসিইউ) চিকিৎসাধীন।

মঙ্গলবার সকালে এনআইউসিউর মেডিকেল অফিসার ডা. মো সালাউদ্দিন বলেন, সুইট খাতুনের গর্ভে জন্ম নেওয়া চার নবজাতকের মধ্যে ১ম জনের রক্তশূণ্যতা  দেখা দেওয়ায় রাতেই রক্ত দেওয়া হয়েছে। অন্য তিন জন নবজাতক তুলনামূলক ভাল আছেন। কিন্তু সনিয়া আক্তারের গর্ভে জন্ম নেওয়া  তিন জন নবজাতকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।  তিন নবজাতকের দুজনকেই ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। তাছাড়া তাদের ওজনও কম। এর আগে মিসেস সনিয়ার যমজ শিশুর এবরসন হয়েছে।

Bootstrap Image Preview