Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৯ শুক্রবার, অক্টোবার ২০১৮ | ৩ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

কোমরে পিস্তলের কভার-হ্যান্ডকাফ হাতে ওয়াকিটকি; সেনাবাহিনীর সাবেক সার্জেন্টের প্রতারণা

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল ২০১৮, ১০:০৪ PM
আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০১৮, ১০:০৪ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক-

কোমরে পিস্তলের কভার ও হ্যান্ডকাফ। হাতে ওয়াকিটকি। দেখে বোঝার কোন উপায় নেয়।

সহযোগীদের নিয়ে চলছে চেকপোস্ট। বিভিন্ন অভিযোগে অনেককে আটকও করা হচ্ছে। আটকের পরে থানায় নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন এলাকা ঘুরিয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হয় মোটা অঙ্কের টাকা।

এভাবে রাজধানীতে দীর্ঘদিন সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে আসছিলেন মাসুদ রানা (৪৮) নামের এক ভুয়া পুলিশ। তিনি ২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট পদ থেকে অবসরে যান। পরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সিকিউরিটি ইনচার্জ হিসেবে চাকরি নেন।

কিন্তু মরণ ব্যাধি ইয়াবায় আসক্ত হয়ে জড়িয়ে পড়েন বিভিন্ন অবরাধে। কোনো সময় ডিবি বা পুলিশ, কখনও সার্জেন্ট সেজে তিনি প্রতারিত করতেন সাধারণ মানুষকে।

সোমাবার ভোরে আদাবর থানা পুলিশ তাকে শ্যামলী মোড় থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রতারণার বিষয় পুলিশকে জানান।

আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ শাহিনুর রহমান শাহিন বলেন, শ্যামলী থেকে আজ ভোরে তাকে আটক করা হলেও তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়।

ভুয়া পুলিশের পরিচয়ধারী মাসুদ রানা বিভিন্ন সময় মানুষকে আটক করতেন এবং টাকার বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দিতেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।

তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী বাটিকামারা এলাকায়। তার বাবার নাম মৃত এছাহাক আলি বলে জানা গেছে।

ওসি জানান, ২০০৭ সালে সেনা বাহিনীর সার্জেন্ট পদ থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি একটা বেসরকারি কোম্পানিতে সিকিউরিটি ইনচার্জ হিসেবে চাকরি নিয়েছিলেন। তিনি কোম্পানিতে চাকরিরত অবস্থায় আরও একটি বিয়ে করেন। দুই বউ আর পাঁচ ছেলে মেয়ে নিয়ে ভালোই সংসার চলছিল। হঠাৎ করে ইয়াবায় আসক্ত হয়ে পড়েন। ইয়াবা নিয়মিত সেবন করার ফলে চাকরিটাও চলে যায়। এবং দুই স্ত্রী ও ছেলে মেয়ে তার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ইয়াবার টাকা জোগাড় করার জন্য সে এই ভিন্ন পথ বেছে নেন।

আটকের সময় তার কাছে একটা ওয়াকিটকি সেট, হ্যান্ডকাফ পিস্তলের কভার ও ছুরি উদ্ধার করা হয়। তিনি বিভিন্ন সময় তার সহযোগীদের নিয়ে রাস্তায় পুলিশ সেজে কখনও চেকপোস্ট বসানোর নাম করে পথচারীদের হয়রানি করেন।

যার কাছে যা পেতেন তাই নিয়ে মানুষকে ছেড়ে দিতেন। কোনো সময় কারও কাছে কিছু না পাওয়া গেলে তাকে ধরে গাড়িতে তুলে ঘুরাতে থাকেন এবং আত্মীয়-স্বজনদের ফোন দিয়ে বিকাশের মাধ্যমে টাকা এনে তারপর ছেড়ে দিতেন। এভাবে প্রতারনার মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিন যাবত ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় মানুষকে হয়রানি করে আসছিলেন বলে জানা গেছে।

ওসি জানান, আটককৃতের বিরুদ্ধে মামলার মামলার প্রস্তুতি চলছে। সাথে তার চক্রের বাকি সদস্যদের আটকে অভিযান চলছে।

Bootstrap Image Preview