Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৯ শুক্রবার, অক্টোবার ২০১৮ | ৩ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

একেই বলে সত্যিকার ভালোবাসা

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩ মার্চ ২০১৮, ০৭:৩১ PM
আপডেট: ২৩ মার্চ ২০১৮, ০৭:৩১ PM

bdmorning Image Preview


আল-আমিন হুসাইন।।

প্রিয়তম হারানোর শোক সইতে পারছিলেন না আফসানা খানম টপি। চরম সত্য সংবাদটিই তাই তখনও নিজের কাছে অবিশ্বাস্য মনে করেছিলেন তিনি। মনকে বারবার সান্তনা দিচ্ছিলেন, আবিদ ফিরে আসবে, ও আমাকে ছেড়ে চলে যেতে পারে না এমন প্রলাপ করে।

একমাত্র সন্তান মাহিকে পাইলট বানিয়ে অবসরে যেতে চেয়েছিলেন আবিদ। হয়তো টপি ভেবেছিলেন স্বামীর অবসরের পরেই দুজনে শুভ্র মেঘ ছুঁয়া নেপালে যাবেন। স্বামীর পরম ভালোবাসায় কাটিয়ে দিবেন বাকিটা জীবন। কিন্তু সব আশা হয়তো নিরর্থক হয়ে গেল প্রিয়তম স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুতে।

কিছু বলার ভাষা হারিয়ে নির্বাক টপি তাই স্বামী শোকে বাসায় মনস্তাত্ত্বিক চাপে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হন।এরপর প্রথমে উত্তরায় বাংলাদেশ মেডিকেল হাসপাতালে নেয়া হয় টপিকে। সেখান থেকে নেয়া হয় শেরে বাংলা নগরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হাসপাতালে।

এর পর থেকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। বিমান দুর্ঘটনায় নিহত নিহতের মরদেহের অপেক্ষায় যখন একদিকে সারা দেশে চলছিল শোক, তখন হাসপাতালে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ছিলেন আফসানা খানম টপি। প্রিয়তম স্বামী নিথরদেহে কফিনবন্দী হয়ে তার কাছে্ এসেছে সেটিও জানতে পারেনি টপি। এদিকে বাবাকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ একমাত্র সন্তানকে একদিকে হাসপাতালে ছুটতে হয়েছে মৃতপ্রায় মায়ের খোঁজখবর নিতে অন্য দিকে বাবার লাশ গ্রহণ করার জন্য তাকে ছুটতে হয়েছে আর্মি স্টেডিয়ামে।

মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বিঘ্ন ঘটায় সিটিস্ক্যান করার পর অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎকরা। এরপর আবার স্ট্রোক করেন টপি। এর পর  আরেকটি অপারেশন করা হয়। পরে মাথার খুলি খুলে রাখা। এরপর থেকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। কিন্তু তার অবস্থার আরো অবনতি হওয়ায় মঙ্গলবার থেকেই লাই সাপোর্টে ছিলেন তিনি।

চিকিৎসকরা তখনও তার চিকিৎসা চালিয়ে যাবার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এ জন্য সাত সদস্যের আরেকটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়।

২০ মার্চ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হাসপাতালের যুগ্মপরিচালক প্রফেসর ড. বদরুল আলম মন্ডল বলেছিলেন, ক্যাপ্টেন আবিদের স্ত্রী বেঁচে আছেন। তবে তার অবস্থা সঙ্কটপূর্ণ। তবে তার কিডনি, হার্ট লিভার সব সচল রয়েছে। তার রক্ত চাপ ১২০/৮০। কিন্তু তার ব্রেন স্বাভাবিক রেসপন্স করছে না। যন্ত্রের সাহায্যে তার শ্বাস-প্রশ্বাস চলছে।

২২ মার্চ তিনি আরও খারাপ খবর জানান। বলেন, টপির শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। তার কিডনি রেসপন্স কম করছে। ব্লাড প্রেসারও কমে গেছে। উন্নত যা চিকিৎসা দেশেই সম্ভব। বিদেশে নিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থাতেই নেই টপি। এরপর শুক্রবার এল সবচেয়ে খারাপ খবরটি। এই পৃথিবী ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন টপি।

রবিবার থেকে ৫ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ সকাল সাড়ে ৯টায় মারা যান নেপালে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ বিধ্বস্তে নিহত পাইলট আবিদ সুলতানের স্ত্রী আফসানা খানম টপি।

নেপাল ট্র্যাজেডিতে সর্বস্ব হারিয়ে আজ নিঃস্ব মাহি। প্রথমে বাবা পরবর্তীতে বাবার শোকে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে মায়ের মৃত্যু। সবই ঘটল মাত্র ১১ দিনের মধ্যে। এই সময়ের মধ্যেই দুইবার তাকে বহন করতে হলো জন্মদাতা পিতা-মাতার কফিন। এই শোক কিভাবে সইবে উত্তরার মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ছাত্র তানজিব বিন সুলতান মাহি?

Bootstrap Image Preview