Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২২ শনিবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৭ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

ছেলেকে পাইলট বানানোর স্বপ্ন পূরণ হলো না আবিদের

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০১৮, ০৮:৪৮ PM আপডেট: ১৪ মার্চ ২০১৮, ০৮:৪৮ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক-

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলার বিমানের পাইলট আবিদ সুলতানের স্বপ্ন ছিল একমাত্র সন্তান জামবিন সুলতান মাহিমকে পাইলট বানিয়ে তবেই অবসরে যাবেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের আগেই অকালে পরপারে চলে যেত হলো তাঁকে।

গত সোমবার (১২মার্চ) ইউএস-বাংলা বিমান বিধ্বস্তে সকলের সঙ্গে তিনিও দুর্ঘটনায় পতিত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় কাঠমান্ডু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে ১৬ ঘণ্টা চিকিত্সা শেষে গতকাল মঙ্গলবার ভোরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। রাজধানীর উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডের ৩৮ নম্বর বাড়ির তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে ক্যাপ্টেন আবিদ সপরিবারে থাকতেন।

ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানের বাবার নাম ক্যাপ্টেন এম এ কাশেম। তিনি রয়েল এয়ারলাইন্সের পাইলট ছিলেন। নওগাঁও রানীনগরে তাদের বাড়ি। ৩২ বছরের ক্যারিয়ারে কোনো প্রকার সম্পদের মালিক হননি। ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন।তিন ভাইয়ের মধ্যে আবিদ ছিলেন দ্বিতীয়। তার এক মাত্র সন্তান জামবিন সুলতান মাহিম উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশুনা করছে। ক্যাপ্টেন আবিদের লাশ দেশে আনার পর বনানী সামরিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

জানা যায়, একমাস আগে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বহরে একটি ড্যাশ-৮ বিমান যুক্ত হয়। এই বিমানটি ক্যাপ্টেন আবিদ কানাডা থেকে চালিয়ে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। ত্রিভুবন এয়ারপোর্টে বিধস্ত হওয়া বিমানটি বাংলাদেশ থেকে রওনা দেয়ার আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে যাতায়াত করেছে, পাইলট ছিলেন ক্যাপ্টেন আবিদ। এয়ারলাইন্স ইন্ডাস্ট্রির একজন দক্ষ প্রশিক্ষক ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতান। তিনি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে শুধু বিমানই চালাতেন না, এই এয়ারলাইন্সের প্রশিক্ষকও ছিলেন। এয়ারলাইন্স সেক্টরে তার ছাত্র সংখ্যাও কম নয়। ড্যাস—৮ এয়ারক্রাফট চালাতেন তিনি। সদালাপী, ছাত্রদের অতি প্রিয় ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানের এভাবে চলে যাওয়া তার বন্ধু, ছাত্রদের হতবাক করেছে।

উল্লেখ্য, নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার বিমানটি গত সোমবার(১২ মার্চ) স্থানীয় সময় বেলা ২টা ২০ মিনিটে অবতরণের কথা ছিল। নামার আগেই এটি বিধ্বস্ত হয়ে বিমানবন্দরের পাশের একটি খেলার মাঠে পড়ে যায়। বিমানটিতে চারজন ক্রু ও ৬৭ যাত্রী ছিল। উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ২৬ বাংলাদেশিসহ ৫১ জন নিহত হন। আহত হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন ৮ বাংলাদেশিসহ ২০ জন।

Bootstrap Image Preview