Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২১ রবিবার, অক্টোবার ২০১৮ | ৬ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

বাড়িতে ঢুকে শিক্ষিকাকে জুতাপেটা; জাপা নেতা গ্রেফতার

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ০৯:৫০ PM
আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ০৯:৫০ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক-

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছনার ঘটনার দুই বছর পর এবার  ফতুল্লায় এক শিক্ষিকার বাড়িতে ঢুকে মারধর ও জুতাপেটাসহ লাঞ্ছনার অভিযোগে জেলা জাতীয় পার্টির (জাপা) সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খন্দকারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

লাঞ্ছিত স্কুল শিক্ষিকা শাহীনূর পারভীনের বাবা সাইফুল ইসলামের দায়ের মামলায় আজ সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল উদ্দিন।

মামলায় লাঞ্ছিত শিক্ষিকা শাহীনূর পারভীন শানু অভিযোগ করেন, রবিবার রাত ১০টার দিকে জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খন্দকার স্ত্রীকে নিয়ে শহরের হাজীগঞ্জ এলাকায় তার বাসায় আসেন। তারা তাদের নাতিকে বাসায় গিয়ে পড়ানোর প্রস্তাব দেন। দীর্ঘ ছয় মাস ধরে কিডনিজনিত রোগে ভোগায় তিনি এ প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। এতে ওই আইনজীবী ও তার স্ত্রী প্রথমে তাকে মৌখিকভাবে হুমকি দেন। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সবার সামনেই মারধর ও জুতাপেটা করেন।

রবিবার রাতে এ ঘটনার পর আহত ওই শিক্ষিকাকে নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর এলাকায় ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পর্যবেক্ষণ-২ কক্ষে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

আহত শিক্ষিকা শাহীনূর পারভীন শানু শহরের হাজীগঞ্জ এলাকার প্যাসিফিক ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে শিক্ষকতা করেন। তিনি স্থানীয় আইনজীবী ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার মো. নুরুল হুদার বাড়িতে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকেন।

লাঞ্ছিত শিক্ষিকা শাহীনূরের মা রাবেয়া ইসলাম জানান, তার মেয়ে ছয় মাস ধরে কিডনিজনিত রোগে ভুগছে। এ কারণে প্রাইভেট পড়ানো ছেড়ে দিয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী আইনজীবী আবদুল মজিদ খন্দকার ও তার স্ত্রী সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে বাড়িতে ঢুকে ছেলেমেয়ের সামনে মেয়েকে কিল-ঘুষি মেরেছে এবং জুতাপেটা করেছে।

বাড়ির মালিক ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার অ্যাডভোকেট নুরুল হুদা এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাড়িতে ঢুকে একজন নারীর গায়ে হাত তোলা দণ্ডনীয় সামাজিক অপরাধ। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

অভিযোগের বিষয়ে অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খন্দকার বলেন, ‘আমাদের নাতিকে বাসায় এসে পড়ানোর প্রস্তাব দেই ওই শিক্ষিকাকে। সে পড়াবে না ভালো কথা। কিন্তু আমাদের অপমান করেছে। তাই অপমানের বদলে তাকে অপমান করা হয়েছে।’ শিক্ষিকাকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করলেও তাকে জুতাপেটা করার হুমকি দিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন আব্দুল মজিদ।

এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় লাঞ্ছিত শিক্ষিকার বাবা সাইফুল ইসলাম থানায় একটি অভিযোগ করেছেন। পুলিশ তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে বিকালে হাজীগঞ্জের বাড়ি থেকে আব্দুল মজিদ খন্দকারকে গ্রেফতার করেছে।

Bootstrap Image Preview