Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২১ রবিবার, অক্টোবার ২০১৮ | ৫ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

বাংলাদেশে গ্রন্থাগারের সঠিক পরিসংখ্যান কত? 

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ১২:১১ PM
আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ১২:১১ PM

bdmorning Image Preview


আরিফ চৌধুরী শুভ।।

দেশে গ্রন্থাগরের সঠিক পরিসংখ্যান শুধু সরকার কেন, কোন সংস্থার কাছেই নাই। জাতীয় ভাবে এমন পরিসংখ্যান করার উদ্যোগও কখনো নেওয়া হয়নি। তবে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রকাশন ‘বেসরকারি গ্রন্থাগার নির্দেশিকা’ অনুযায়ী (১৯৯৫-২০১৪ সাল পর্যন্ত) বেসরকারি পাঠাগারের সংখ্যা ১ হাজার ৭০টি। বাংলাদেশ বেসরকারি গণগ্রন্থাগার সমিতির তথ্য অনুসারে দেশে পাঠাগারের সংখ্যা প্রায় ২০০০ অধিক।

দেশের বেসরকারি গ্রন্থাগারগুলোর সঠিক পরিসংখ্যান জানার জন্যে বেসরকারিভাবে কাজ করে যাচ্ছে জাতীয় পাঠাগার আন্দোলন-জাপাআ। কিন্তু প্রকৃত সংখ্যা জানার জন্যে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। জাপাআ’র তথ্য মতে বহু পাঠাগার গড়ে উঠার পরে রক্ষণাবেক্ষণ ও আর্থিক দৈন্যতার কারণে এখন সচল নেই। তবে এই সব পাঠাগারগুলো সচল করতে পারলে প্রায় ১০ হাজারের অধিক পাঠাগারের তথ্য পাওয়া যেতে পারে বাংলাদেশে।

বাংলাদেশে ১০০ থেকে ১৬৮ বছরের পুরনো লাইব্রেরির সংখ্যা ৩৪টি। এগুলো গড়ে উঠেছে ১৮৩১ সাল থেকে ১৯১৪ সালের মধ্যে। ১৯২৪ সালে বেলগাঁও শহরে অনুষ্ঠিত ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের ৩৯তম অধিবেশনে গ্রন্থাগার নিয়ে ফলপ্রসু আলোচনার মাধ্যমে দেশের সর্বত্র পাঠাগার প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। সর্বপ্রথম ১৯২৪ সালে ভারতে গ্রন্থাগার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯২৫ সালে ‘নিখিল বঙ্গ গ্রন্থাগার সমিতি’ নামে সর্বপ্রথম একটি পাঠাগার সমিতির আত্মপ্রকাশও ঘটে।

বাংলাদেশে বিখ্যাত, প্রাচীন ও ঐতিহ্যসমবৃদ্ধ বড় বড় কয়েকটি গ্রন্থাগার হলো এশিয়াটিক সোসাইটি গ্রন্থাগার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার, কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি গ্রন্থাগার, বাংলা একাডেমি লাইব্রেরি, বরেন্দ্র মিউজিয়াম লাইব্রেরি, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ইত্যাদি।

দেশে সরকারি ও বেসরকারি গ্রন্থাগারগুলোকে দেখভালের জন্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান আছে মাত্র ২টি। অথচ সরকারি গ্রন্থাগারই রয়েছে ৭১টি। গ্রন্থাগার অধিদপ্তর দেশের ৭১টি গ্রন্থাগারকে দেখভাল করেই ক্লান্ত। তাই বেসরকারি গ্রন্থাগারগুলোকে দেখভাল করে একমাত্র জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র।

জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র বেসরকারি গ্রন্থাগারসমূহকে আর্থিক অনুদান, বই প্রদান, গ্রস্থাগারের কর্মকতা-কর্মচারিদের প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকে। জেলা পর্যায়ের গ্রন্থাগার, উপজেলা পর্যায়ের গ্রন্থাগার এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের গ্রন্থাগার এই তিন ক্যাটাগরিতে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র অনুদান প্রদান করে থাকে।

সারাদেশের গ্রন্থাগারগুলোকে সক্ষমতাশীল করার জন্যে সর্বপ্রথম ১৯৯৮ সালে অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনের নেতৃত্বে জাতীয় গ্রন্থনীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। কিন্তু এই নীতির বাস্তবায়ন আলোর মুখ দেখেনি।

Bootstrap Image Preview