Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৩ রবিবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৮ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

কারাগারে খালেদা জিয়ার খাবারের মেনুতে যা যা থাকছে

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ০৬:১১ PM আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ০৬:৫১ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক-

শুরু হচ্ছে বিএনপি চেয়ারপারসনের কারাজীবন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া তারেক রহমানসহ অন্য পাঁচ আসামির প্রত্যেককে ১০ বছর করে কারাদণ্ড ও দুই কোটি টাকা করে জরিমানা করেন আদালত।

এ রায়ের পর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ডে-কেয়ার সেন্টারে খালেদা জিয়াকে রাখতে পারে কারা অধিদফতর।

বন্দিজীবনে একজন ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া কোন খাবার কতটুকু খাবার পাবেন তা নিম্নে দেয়া হলো:

সকালে ৮৭ গ্রাম আটার রুটি ও ৮৭ গ্রাম ডাল-সবজি। দুপুর ও রাতে ৪৯৫ গ্রাম সরু চালের ভাত, ২১৮ গ্রাম মাছ-মাংস এবং সারা দিনে প্রায় ১৪৫ গ্রাম ডাল পান।এছাড়া তেল, লবণ, মরিচসহ তিন বেলা খাবার বাবদ একজন ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দির জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ হয় ১১৫ টাকা।

অন্যদিকে, সরকার বরাদ্দ খাবারে কারাগারে ভিআইপি এই বন্দিদের প্রয়োজন মেটে না। এর বাইরে ভিআইপি বন্দিরা কারা ক্যান্টিন থেকে বাড়তি খাবার সংগ্রহ করে থাকেন। আবার বন্দিদের স্বজনরা সাক্ষাতের সময় শুকনো খাবার ও ফলমূল দিয়ে যান। এসব দিয়েই খাবারের প্রয়োজন মেটাতে হয় তাদের।

কাশিমপুর কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মিজানুর রহমান বলেন, কারাগারে সাধারণ বন্দিদের জন্য বরাদ্দ থাকে প্রায় ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা পর্যন্ত। এই টাকায় হিসাব করে খেলে অনেক ভালো খাবার খাওয়া সম্ভব।

এচাড়াও কারাগারে বন্দির নামে টাকা পাঠানোর রীতি চালু রয়েছে। প্রিজন ক্যান্টিনের (পিসির) মাধ্যমে তারা টাকা পাঠাতে পারে। সেই টাকায় তারা বাড়তি খাবারও খেতে পারেন। তবে বন্দিদের খাবার সরবরাহে কোনো ধরনের সমস্যা হচ্ছে না বলে জানান কারা কর্মকর্তারা।

খাবার বাদে প্রথম শ্রেণির একজন বন্দি ১৫ দিনের পরিবর্তে ৭ দিনে একবার চিঠি লেখার সুযোগ পাবেন।

তবে এবার কারাবিধি থেকে দুটি বিষয় বাদ দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে, প্রথমটি দ্বীপান্তর ও দাসত্বের সাজা দেয়া। সূত্র জানিয়েছে, দেশ বিভাগের আগে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের এ ধরনের শাস্তি দিয়ে দ্বীপান্তর করা হতো। কিন্তু পরবর্তীকালে ১৯৪৭ সালের পর তা আর প্রয়োগ করার নজির নেই।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জেল কোডের অধ্যায় ২৭, রুল ৯১০(১)-এ বলা হয়েছে- সামাজিক মর্যাদাসম্পন্ন, উচ্চশিক্ষিত এবং উন্নত জীবনযাপনে অভ্যস্ত বন্দি ডিভিশন-১ বরাদ্দ থাকে। জেল কোডের এ ধারার সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা নেই।

বর্তমানে কারাগারে গেলে সাধারণ হাজতিদের মতোই এই কর্মকর্তাদের থাকতে হয়। তবে আদালতের নির্দেশে কাউকে কাউকে ডিভিশন দেয়া হয়। ডিভিশন পেলে একজন হাজতি পছন্দের খাবার, বিছানা, দৈনিক পত্রিকা, চেয়ার-টেবিল, ড্রেসিং টেবিল, পছন্দের চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসার সুবিধা পেয়ে থাকেন।

প্রাথমিকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা ছাড়াও বীরত্বপূর্ণ খেতাবপ্রাপ্ত যেমন: বীরউত্তম, বীরবিক্রম, বীরপ্রতীক, স্বাধীনতা ও একুশে পদক, জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব রয়েছে এমন রাজনৈতিক দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, ইমেরিটাস অধ্যাপক এবং বন্দি বা আটককালে বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) মর্যাদাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ডিভিশন দেয়া হবে। মামলার রায় হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ডিভিশনের সুবিধা পাবেন। জেল কোডের অধ্যায় ২৭, রুল ৯১০(১)-এ বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে যোগ করা হচ্ছে।

Bootstrap Image Preview