Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২১ শুক্রবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৬ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

 বাবার খোঁজে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে আসা ব্যাক্তিরা বাসায় ইয়াং মেয়েদের খোঁজ করেন কেন?

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ০১:৪৭ AM আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ০১:৫৩ AM

bdmorning Image Preview


সূচনা।। বিএনপি নেতা হাবীব-উন-নবী খান সোহেল এর মেয়ে সূচনা পড়েন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সাম্প্রতিক সূচনার বাবাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তার বাবার সন্ধানের জন্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সহযোগিতার বদলে বার বার বাসায় এসে হয়রানির কথা উল্লেখ করে নিজের ফেসবুক একাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। ঐ স্ট্যাটাসে সূচনা দাবি করেছেন  তার বাবার  খোঁজে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে আসা ব্যাক্তিরা বাসায় ইয়াং মেয়েদের খোঁজ করেন। কিন্তু কেন? এ কেমন স্বাধীনতা? পাঠকদের জন্যে তার সেই লেখা হুবহু তুরে দেওয়া হলো। রাজনীতির এই নোংরা খেলায় আমি বিচলিত, আতংকিত। আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি,শুনেছি যুদ্ধের গল্প। স্বাধীনতার গল্প।স্বাধীনতার জন্য লাখো জনতা ও বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগের গল্প। কল্পনায় নিজেকে কতবার আবিষ্কার করেছি যুদ্ধের ময়দানে।তারপর যখনই বাস্তবে ফিরে এসেছি তখনই বেদনায় মনটা কেঁদেছে বারবার। মনে হয়েছে,কেন স্বাধীনতার এত বছর পর আমার জন্ম,দেশমাতার জন্মে আমার কোন ভূমিকা নেই কেন ভেবেই আহত হয়েছি নিভৃতে,নির্জনে। তবে আনন্দ হয়েছে এই ভেবে বিশাল পৃথিবীর বুকে একটি স্বাধীন দেশ বাংলাদেশ, আমি এই মাটির মানুষ।আমরা স্বাধীন। আমাদের তো তবে চিন্তাহীন জীবন চলার কথা। তাহলে কেন আজ আমরা স্বাধীন দেশে পরাধীনতার অদৃশ্য শেকল পড়ে বেঁচে আছি? আজ আমি বাকরুদ্ধ- আমার সমস্ত আবেগ, আমার সততা, আমার বিবেক। আমার মানবিকতা, আমার বয়ে চলা এই জীবনটা, আমার বেঁচে থাকার স্বপ্নগুলো কেমন যেন নিশ্চল-নিরব-স্তব্ধ হয়ে গেছে। যখন দেখি বাবাকে খুঁজতে সরকারী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে আসা ব্যাক্তিরা বাসায় ইয়াং মেয়েদের খোঁজ করেন। আমরা তাদের চিনিনা (ওনারা নিজেদের যে পরিচয় দিয়েছেন আমি তার কথাই তুলে ধরলাম)। ইতোপূর্বে বহুবার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্যরা আমাদের বাসায় এসেছেন বাবাকে খুঁজতে। কেউ কখনই কোন ধরনের অসৌজন্যমূলক আচরণ করেননি আমাদের সাথে। তবে এবার কেন? এরা কারা? কেন এই নির্লজ্জ ভাষা? এদের বিচার কারা করবে? স্বাধীনতার ৪৭বছর পর স্বাধীন দেশে এই নব্য হায়নারা কারা? পাকিস্তানী বর্বর হায়নাদের গল্প শুনেছি - আতংকিত হয়েছি।কিন্তু আমার এই সোনার বাংলায় একোন হায়নার হুংকার?? কি এক অজানা আতংকে দিন কাটছে। বাবা এখন কোথায় আছেন জানিনা।মনে হচ্ছে বাবাকে মাটি খুঁড়ে তুলে আনা হবে। বাবা একজন সত্যিকারের রাজনীতিবিদ যিনি ২৪ঘণ্টাই রাজনীতি করেন। যার চলার গতি- রাজপথ, যার বলার ভাষা- দেশ-দেশের মানুষ-নিজের দল। বাবার মামলার সংখ্যা প্রায় ৩০০।সবই রাজনৈতিক। একজন মানুষ কি করে ৩০০ মামলার আসামী হয় তা আমার বোধের বাইরে। তবুও বাবা অবিচল। ছুটছে তো ছুটছে তার আরাধ্য গন্তব্যের পথে। যেন পেছন ফিরে তাকাবার সময় নেই। বাবার জন্য গর্বে বুকটা ভরে ওঠে। মনে হয় বাবা যেন প্রতিদিনের নতুন সূর্য। বাবা বলেন সবসময় - মানুষকে বিশ্বস্ততার সাথে ভালবাসবে। দেখবে, একদিন সবচেয়ে অবিশ্বস্ত লোকটাও তোমার কাছে তার বিশ্বাস গচ্ছিত রাখবে। কি নির্মল সত্য ভাষণ! মনে মনে ভাবি, বাবা কি করে পারেন এত কঠিন কথা সহজ করে বলতে। যার আদর্শে আমার প্রতি মুহুর্তের পথচলা, যার সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন, সুস্হ-সুন্দর মানব বসবাস উপযোগী সমাজ গঠনের চিন্তা - আমাকে একজন শুদ্ধ মানুষ হতে সাহায্য করছে -সে আমার বাবা- আমার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আমার মানুষ হবার পাঠশালার একমাত্র শিক্ষাগুরু। ঘরের দেয়ালে টাঙানো বাবার ছবি দেখে প্রতিদিন মনে মনে বলি- এই আমার আদর্শ, এই আদর্শে যেন আমি একটু একটু করে প্রতিদিন বেড়ে উঠি আগামীর পথচলায়। বাবা এখন রাজনৈতিক অস্হিরতার শিকার। লুকোচুরি জীবন কাটাচ্ছেন। বাসার সামনে দিনভর পুলিশী উৎপাত। সকাল-বিকাল-সন্ধ্যা-রাত্তির কখনো ডিবি পুলিশ,কখনো সিভিল পুলিশ, কখনো অন্য কেউ! কখনো শুনি বাবা গ্রেপ্তার, কখনওবা সবই মিথ্যে। কি ভয়ংকর দিনযাপন করছি আমরা, তবুও বেঁচে আছি একটি স্বস্তির জীবনের আশায়। আমি জানি, নিশ্চিত জানি, বাবা সব অন্যায়-অত্যাচার আর ভয়কে জয় করে একঝাঁক সোনালী স্বপ্ন সাথে নিয়ে ফিরে আসবেন আমাদের কাছে। এসে বলবেন, এই দেখো আমি এসেছি তোমাদের বেঁচে থাকার স্বাধীনতা নিয়ে। আর আমরা একইসাথে গেয়ে উঠবো ঠিক আগেরই মতো -কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা সূচনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
Bootstrap Image Preview