Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৯ সোমবার, নভেম্বার ২০১৮ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

চট্টগ্রামে ‘আই ওয়ান্ট এ কিস কিস’ অ্যাসেম্বলিতে ছাত্রীরা !

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারী ২০১৮, ০৬:৩৫ PM
আপডেট: ২৩ জানুয়ারী ২০১৮, ০৬:৩৫ PM

bdmorning Image Preview


 

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

ক্লাস শুরুর আগে অ্যাসেম্বলি চলছে। এ অ্যাসেম্বলিতে অংশগ্রহণকারী হিসেবে রয়েছে সহস্রাধিক ছাত্রী। তবে শিক্ষার্থীদের শারীরিক কসরতের বিষয়টি স্বাভাবিক হলেও প্রশ্ন উঠেছে শারীরিক কসরতের সময় মাইকে চলা একটি গানের তালে তালে    শিক্ষার্থীদের কসরতের বিষয়টি।

ইউরোপের অন্যতম ব্যান্ড ‘ভেঙ্গাবয়েজ’র একটি বহুল প্রচলিত ‘আই ওয়ান্ট এ কিস কিস’ শিরোনামের গানের তালে তালে অ্যাসেম্বলি করছে স্কুলছাত্রীরা। ঘটনাটি ঘটেছে  চট্টগ্রাম নগরীর গরীবে নেওয়াজ উচ্চ বিদ্যালয়।

একজন শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ছাত্রীদের এ অ্যাসেম্বলির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ২ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডের এ ভিডিওতে দেখা যায়, সহস্রাধিক  শিক্ষার্থীর  সামনে অ্যাসেম্বলির তদারকি করছেন একজন শিক্ষক। মাঝে-মধ্যে শরীর দোলাচ্ছেন তিনিও।

ভিডিও’র ১ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডের দিকে লাইনে দাঁড়ানো এক ছাত্রীকে হাত ধরে টেনে অ্যাসেম্বলির মঞ্চে নিয়ে আসতেও দেখা যায় ওই শিক্ষককে। ওই ভিডিওর শেষ দিকে দেখা যায় যে, ভিডিওকারীর দিকে হাত উচু করে  ভিডিও সমর্থন দিচ্ছেন ওই  কসরত পরিচালনাকারী ওই  শিক্ষক।

আর এ নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে ফেসবুকে। যদিও গানটি ‘কিডস কিডস’ শিরোনামের বলে দাবি করেছে স্কুল সংশ্লিষ্টরা।

স্কুল কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, আগামীকাল বুধবার (২৪ জানুয়ারি) স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে ডিসপ্লেতে অংশ নেবে ছাত্র-ছাত্রীরা। আর ডিসপ্লের রিহার্সেল চলছিল কদিন ধরে। রিহার্সেলে এ গানটির তালে তালে শারীরিক কসরতের মহড়া দেয় ছাত্রীরা। কসরত ও ডিসপ্লের পুরো কার্যক্রমের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন স্কুলের ক্রীড়া ও স্কাউট শিক্ষক মমতাজ উদ্দিন তালুকদার।

এ বিষয়ে স্কুলটির শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, গানটি কিন্তু কিডস কিডস শিরোনামের। তারপরও এমন গান দিয়ে ডিসপ্লের রিহার্সেল করানোর বিষয়টা আমি জানতাম না। পরে জানতে পেরে বিষয়টি নিয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সদস্যসহ আমরা বসে আলোচনা করেছি। আর গানটি রিহার্সেল থেকে বাদ দিতে বলেছি। অবশ্য ভিডিওটি এখনো দেখেননি বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক।

স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ফয়েজুল হকও দাবি করেছেন গানটি কিডস কিডস শিরোনামের। এরপরও এরকম গানে মেয়েদের রিহার্সেল করানোর বিষয়টি জানতেন না দাবি করে সভাপতি বলেন, এটা দিয়ে দুইদিন রিহার্সেল হয়েছে। আমরা জানার পরপরই এটা বন্ধ করে দিয়েছি। এখন আর ওই গান দিয়ে রিহার্সেল হচ্ছে না।

তবে স্কাউটের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গানটি ব্যবহার হয় বলে স্কাউটের শিক্ষক মমতাজ উদ্দিন তালুকদার জানিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন ফয়েজুল হক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের হালিশহরের বর্তমান বিডিআর হলের পাশে ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠা পায় গরীবে নেওয়াজ স্কুলটি। ১ম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান চলে এ স্কুলে। দুই শিফটে স্কুলটিতে বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। ছাত্রীর সংখ্যা মোট শিক্ষার্থীর অর্ধেক। সে হিসেবে কম হলেও ১২ শতাধিক ছাত্রী রয়েছে এ স্কুলে।

বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠান উপলক্ষে বেশ কদিন ধরে চলছে কসরত ও রিহার্সেল। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আলাদা করে এ রিহার্সেল চলছে। তবে প্রশ্নবিদ্ধ গানটি ছাত্রীদের রিহার্সেলে ব্যবহার করা হলেও ছাত্রদের রিহার্সেলের তালিকায় ছিল না। এরকম ইংলিশ গানে ছাত্রীদের শারীরিক কসরত করানোর বিষয়টি অশোভনীয় মন্তব্য করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খোদ স্কুলটির সাবেক শিক্ষার্থীরা।

ছাত্রীদের রিহার্সেল দেয়া হলেও গানটি ছাত্রদের রিহার্সেলের তালিকায় না থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন ক্রীড়া ও স্কাউট শিক্ষক মমতাজ উদ্দিন তালুকদার। তবে গানটি মেয়েরা সিলেকশন করেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

Bootstrap Image Preview