Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৩ মঙ্গলবার, অক্টোবার ২০১৮ | ৭ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

ছেলের কোনো ইচ্ছায় অপূর্ণ রাখেননি এমপি বাবা

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারী ২০১৮, ০৬:৫৪ PM
আপডেট: ২২ জানুয়ারী ২০১৮, ০৬:৫৪ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক-

ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য ও সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের ওয়ার্কার্স পার্টির এমপি অ্যাডভোকেট  মুস্তফা লুৎফুল্লাহর একমাত্র ছেলে ছিলেন অনিক আজিজ স্বাক্ষর। 

জানা যায়, ছেলের কোনো আবদারই কখনো অপূর্ণ রাখেননি বাবা। এমনকি কিছুদিন আগে বাবার কাছে একটি পালসার মোটরসাইকেলের আবদার করে ছেলে অনিক। ছেলেকে মোটরসাইকেলটি কিনে দিয়ে আবদারও পূরণ করেছিলেন বাবা।

রোববার সকালে ঢাকায় আসেন এমপি মুস্তফা। ন্যাম ভবনের নিজ ফ্ল্যাটে ৫০৬ নম্বর রুমে ছেলেকে ডেকেও সাড়া না পেয়ে  কক্ষের দরজা ভেঙে মুস্তফা দেখতে পান, অনিক ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে। এরপরই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনিসহ তার পরিবার। মা নাসরিন খান লিপি হয়ে পড়েছেন বাকরুদ্ধ। একমাত্র প্রাণপ্রিয় ছেলেকে হারিয়ে পরিবারটি যেন অসহায় বাকরুদ্ধ।

ফ্যান থেকে ছেলেকে ছাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা অনিককে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তে চিকিৎসকরা আত্মহত্যার লক্ষণ পেয়েছে বলে জানান।

বিকেল সাড়ে ৪টায় হেলিকপ্টারযোগে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় সাতক্ষীরায়। শুরু হয় হৃদয়বিদারক দৃশ্যের। মূর্ছা যাচ্ছিলেন মা নাসরিন খান লিপি, বোন সৃষ্টিসহ বাবা এমপি মুস্তফা লুৎফুল্লাহ্।

স্থানীয়রা বলছিলেন, এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর কত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, সান্ত্বনা দিয়েছেন কত অসহায় পরিবারকে। অথচ এখন এমপি নিজেই হয়ে পড়েছেন সান্ত্বনাহীন। কোন ভাষায় তাকে সান্ত্বনা দেবে স্বজনসহ শোভাকাঙ্ক্ষীরা। কারো মুখে যেন ভাষা নেই। বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন সকলেই।

সন্ধ্যায় সাতক্ষীরার গণমুখী মাঠে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে শেষ হয় নামাজে জানাজা। যেখানে জেলা প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক, সামাজিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। জানাজা শেষে অনিক আজিজ স্বাক্ষরকে দাফন করা হয় রসুলপুর গোরস্থানে।

জানাজায় এমপি মুস্তফা লুৎফুল্লাহ্ কান্নায় ভেঙে পড়েন। শুধু বলেন, আমার ছেলে ছোট মানুষ, যদি কারো সঙ্গে কোনো অন্যায় করে থাকে তবে আপনারা তাকে মাফ করে দেবেন। আর কেউ কোনো টাকা-পয়সা পেলে আমাকে জানালে আমি পরিশোধ করে দেব। এই দুই লাইন কথার বেশি আর কিছুই বলতে পারেননি শোকাহত বাবা।

অনেকেই বলছিলেন, বাবার কাঁধে ছেলের লাশের চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে। জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দীন, পুলিশ সুপার মো. সাজ্জাদুর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা শোকাহত বাবাকে সান্ত্বনা দিতে থাকেন। তবুও চোঁখের জল যেন শেষ হবার নয় এমপি বাবার।

Bootstrap Image Preview