Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৫ সোমবার, অক্টোবার ২০১৮ | ৩০ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

কে হবেন বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি?

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭, ০২:৫৮ PM
আপডেট: ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭, ০২:৫৮ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক-

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই দুটি সাংবিধানিক পদে  নিয়োগ দিতে হবে সরকারকে। বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগের পর প্রধান বিচারপতি পদ শূন্য আছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি আব্দুল ওয়াহ্‌হাব মিঞা ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রধান বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকা সরকার চলতি বছরের শুরুতেই নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেবে।

এদিকে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যাওয়ার পর থেকেই নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়ে সরকার ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা চলছিল। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতির মৃত্যু হলে স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। আবার সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। সে হিসাবে আগামী ১৯ জুনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি সরাসরি ভোটে নয়, সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। তবে তফসিল ঘোষণাসহ এই নির্বাচন পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন

আওয়ামী লীগের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার ওপর নির্ভর করছে। তবে নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দুজনের নাম আলোচনায় আছে বলে ওই সূত্র বলছে। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এবং বর্তমান স্পিকার ও অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। এঁদের মধ্যে সাজেদা চৌধুরীর ব্যাপারে দলের শীর্ষ পর্যায়ের আগ্রহ বেশি।

সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নিশ্চিত করেছেন দ্বিতীয় মেয়াদে আবদুল হামিদের রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়নের সম্ভাবনা খুবই কম। সরকারের নীতি নির্ধারক মহলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে একাধিক ব্যক্তির নাম ভাবা হচ্ছে। এদের মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন, প্রধামন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নাম অন্যতম।

তবে সৈয়দ আশরাফ রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণে আগ্রহী নয় বলেই জানা গেছে। ঘনিষ্ঠদের তিনি বলেছেন, এজন্য তিনি প্রস্তুত নন। নীতি নির্ধারকদের পছন্দ ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশরাফ হোসেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর বেয়াই। তাঁর নিয়োগ নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া হয় কিনা কিংবা জাতীয় ভাবে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আওয়ামী লীগের নীত নির্ধারকরা কিছুটা দোটানায়। সেদিক থেকে অনেক এগিয়ে আছেন ড. গওহর রিজভী। বিশেষ করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই পদে ড. রিজভী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন বলে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড মনে করছে।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. এম জহির বলেন, রাষ্ট্রপতি পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকতে পারবেন, যদি না তাঁকে অভিশংসন করা হয়। তবে অভিশংসন করা খুব সহজ নয়।

সংবিধানের ৫২(১) অনুযায়ী, সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসিত করা যেতে পারে। এ জন্য সংসদের মোট সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের স্বাক্ষরে অনুরূপ অভিযোগের বিবরণ লিপিবদ্ধ করে একটি প্রস্তাবের নোটিশ স্পিকারের কাছে প্রদান করতে হবে। স্পিকারের কাছে নোটিশ প্রদানের দিন থেকে ১৪ দিনের আগে বা ৩০ দিনের পর এই প্রস্তাব আলোচিত হতে পারবে না এবং সংসদ অধিবেশন না থাকলে স্পিকার অবিলম্বে সংসদ আহ্বান করবেন। ৫২(৪) অভিযোগ বিবেচনার পর মোট সদস্যসংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে অভিযোগ যথার্থ বলে ঘোষণা করে সংসদ কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করলে প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার তারিখ থেকে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হবে।

Bootstrap Image Preview