Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২০ শনিবার, অক্টোবার ২০১৮ | ৫ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

গার্ডের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে নর্থ সাউথয়ের টুপি পরা অস্ত্রধারী জঙ্গি: ডিপ ইয়েলো রিপোর্টার

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ মার্চ ২০১৭, ০৯:২৭ PM
আপডেট: ০৩ মার্চ ২০১৭, ০৯:২৯ PM

bdmorning Image Preview


সামিউল আজিজ সিয়াম।।

বাইক পার্কিং এর মতো মামুলি ঘটনাকে কেন্দ্র করে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে আহত করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার জনৈক গার্ড। এই নিয়ে গতকাল সারাদিনই চলেছে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ, আন্দোলন ও ভাঙ্গচুর। শেষ পর্যন্ত বসুন্ধরা গ্রুপ এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে, আহত শিক্ষার্থীকে ক্ষতিপূরণ এবং চিকিৎসার খরচ বহন করতেও রাজি হয়েছে।

তবে কয়েকটি অনলাইন ও ছাপা পত্রিকা এই ঘটনায় হলুদ সাংবাদিকতা করছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। অনেকেই একে খারাপ সাংবাদিকতার উজ্জ্বল উদাহরন মনে করছেন। তাদের প্রতিবেদনে কোন প্রকার তথ্য প্রমান ছাড়াই আন্দোলনকারী ছাত্রদের জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশিত হচ্ছে। এই অবস্থায় তো বসে থাকতে পারে না eআরকি। অনলাইন ও প্রিন্টেড পত্রিকাগুলো আরও কীভাবে এই খবরটি পরিবেশন করতে পারতো তার একটি নমুনা নিয়ে হাজির হলো এখানে-- বসুন্ধরার গার্ডের ওপর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জঙ্গি ছাত্রের বর্বরোচিত হামলা: ডিপ ইয়েলো রিপোর্টার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার নিরীহ এক গার্ডের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্মশ্রুমণ্ডিত, টুপি পরা এক অস্ত্রধারী জঙ্গি ছাত্র। গত বুধবার রাতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

বসুন্ধরার বিশ্বস্ত রিপোর্টার মীর জাফর জানান, গত বুধবার রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার অতন্দ্র প্রহরীখ্যাত গার্ড আক্কাস শান্তিপূর্ণভাবে তার দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় নর্থ সাউথের ছাত্র তপু এসে তার কোলের ওপর বাইক পার্ক করে। আক্কাস তপুর মাথায় হাত রেখে আদর করে বলেন, ‘ওরে সোনা, বাইকটা সরা রে, পায়ে বড্ড বেদনা করছে।’ তপু এমন মমতাময় অনুরোধের পরেও তার ওপর চড়াও হন, আক্কাসকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ফেসবুক থেকে ব্লক করে দেয়ার মত ভয়ংকর হুমকি দেন। এতে আক্কাস মানসিকভাবে প্রচন্ড আহত হন। তবুও তিনি তপুকে আদর করে মাথায় হাত বুলিয়ে দেন।

এই পর্যায়ে তপু চুল আঁচড়ানোর অজুহাতে সঙ্গে থাকা ভয়ংকর অস্ত্র চিরুনি বের করেন। তবু আক্কাস আরও একবার তপুকে সোনা মধু বলে জড়িয়ে ধরে পুনরায় তার মাথায় হাত দিয়ে আদর করেন, যেই ঘটনার প্রেক্ষিতে তপুর মাথার একটা চুল কিঞ্চিৎ বাঁকা হয়ে যায়। সেই আহত বাঁকা চুলটিকে সোজা করতে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে ভর্তি হন অপু। আর এই ‘চুলের’ ঘটনার সূত্র ধরেই শিক্ষার্থীরা বসুন্ধরার অতন্দ্র প্রহরী মমতাময়ী গার্ড আক্কাসের বিরুদ্ধে আন্দোলনে মাঠে নেমে আসে। মুহূর্তের মধ্যে লাখ লাখ শ্মশ্রুমণ্ডিত, টুপিধারী নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র চাপাতি, একে ফরটি সেভেন, রিভলবার, ট্যাংক, সাজোয়া যান, গোলাবারুদ, মর্টার নিয়ে আইসিসের কালো পতাকা হাতে ভাঙ্গচুর শুরু করে। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের চেহারা নিবরাসের মতো দেখতে বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়।

গার্ডের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে নর্থ সাউথয়ের টুপি পরা অস্ত্রধারী জঙ্গি: ডিপ ইয়েলো রিপোর্টার

এর মধ্যে একদল ছাত্র নামধারী জঙ্গী অ্যাপোলো হাসপাতালের পশ্চিম পাশের রাস্তার কোনায় জড়ো হয়ে আগুন জ্বালিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে। খবর পেয়ে পুলিশ ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। তারা যুবকদের মাথায় হাত বুলিয়ে বুঝিয়ে-শুনিয়ে স্থান ত্যাগ করার অনুরোধ করে। কিন্তু সমবেতরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে (আসলে সেটা লাইক বাটন ছিল) একটি বিশেষ গ্রুপের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক স্লোগান দিতে থাকে। তাদের কর্মকাণ্ড ও আচরণ দেখে সংশ্লিষ্টরা তাদের জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত করে। এরই মাঝে আরেকদল ছাত্র  বোমারু বিমান নিয়ে আকাশে মহড়া দিতে থাকে। এক পর্যায়ে বসুন্ধরার নিরীহ নিরাপত্তারক্ষীদের লক্ষ্য করে তারা আকাশ থেকে নাপাম বোমা নিক্ষেপ শুরু করে। তখন আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা ভয়ে বাসার ছাদে উঠে পড়ে।

আমাদের নিজস্ব সংবাদদাতা চারবার কসম কেটে জানান, জঙ্গী ছাত্রদের বোমারু বিমানের বোমার আঘাতে পুরো বসুন্ধরা এলাকা পরিনত হয় ধ্বংসস্তুপে। মারা যায় লাখ লাখ মানুষ। তবে রাতের আধারে ছাত্ররা সব লাশ সরিয়ে ফেলে। লিবিয়া ফেরত একজন প্রতক্ষ্যদর্শী জানান, এমন ভয়ংকর জঙ্গি ছাত্রদের দল আমি লিবিয়া থাকাকালে আইসিস গ্রুপেও দেখিনি।

গার্ডের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে নর্থ সাউথয়ের টুপি পরা অস্ত্রধারী জঙ্গি: ডিপ ইয়েলো রিপোর্টার

দিনশেষে কোনো অন্যায় না করার পরেও কর্তৃপক্ষ বেয়াদব শিক্ষার্থী তপুকে একটি বিশেষ গ্রুপের বিশেষ মেধাবৃত্তি প্রদান করা পূর্বক তার বাঁকা চুল সোজা করার যাবতীয় ব্যয় বহন করার অঙ্গীকার করেন। কর্তৃপক্ষের একজন তপুর মাথার ঘন কালো চুলে হাত বুলিয়ে অশ্রুসজল চোখে অস্ফুট স্বরে বিড়বিড় করে বলে উঠেন, ‘বাবারে আমার মাথাজুড়ে টাক। আমি বুঝি মাথার একটা চুল এলোমেলো হওয়ার দুঃখ।’

এরপর তিনি 'চলো না বসুন্ধরায় যাই' গানটি গাইতে গাইতে কক্ষ ত্যাগ করেন। 'এ-আরকি' থেকে সংগৃহীত
Bootstrap Image Preview