Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২২ শনিবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৬ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট ২০১৮, ০১:০৬ PM আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০১৮, ০১:০৬ PM

bdmorning Image Preview


মো. রাকিবুল ইসলাম।।

'যদি রাত পোহালে শোনা যেত বঙ্গবন্ধু মরে নাই' সত্যিই কি বঙ্গবন্ধু মরে নাই? আচ্ছা যদি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের মাঝে বেঁচে থাকতেন, তাহলে কি এই গান আমারা আজ গাইতাম? যদি ৭ই মার্চের মতো জনসভায় হঠাৎ বঙ্গবন্ধু উপস্থিত হতেন তবে কেমন হতো? হয়তো আজ বঙ্গবন্ধু সেই জনসভায় স্বাধীনতার জন্যে ডাক দিতেন না, হয়তো তিনি আজকে বেঁচে থাকলে এদেশের মানুষকে অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক মুক্তি, ন্যায় বিচার, সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলতে বলতেন। হয়তো তিনি আরেক মুক্তি এনে দিতেন।

১২ জানুয়ারী ১৯৭২ থেকে ১৫ আগস্ট, ১৯৭৫ মাত্র ৩ বছর ৭ মাস ৩ দিনে বঙ্গবন্ধু একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তুলেছিলেন আপন মহিমায়। সমসাময়িক সময়ে যখন সমাজতন্ত্রের দীক্ষায় দীক্ষিত হয়ে দেশ গঠনে পার্শ্ববর্তী অনেক দেশ নিমগ্ন ছিল বঙ্গবন্ধুও পিছিয়ে ছিলেন না। শিক্ষা, অর্থনীতি, সমাজ নীতি, রাজনীতি কোনো সূচকেই যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে পিছিয়ে রাখেন নি। দেশ স্বাধীনের মূল উদ্দেশ্য নিয়ে যখন এগিয়ে যাচ্ছিলেন এক দল হায়েনার তা সহ্য হয়নি।

বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গঠনে অপরিসীম অবদান রাখলেন কিন্তু তার প্রতিদান দিয়েছি আমরা নির্মম অার অবর্ণনীয়ভাবে। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে পরিবারের ১৬ সদস্যসহ বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু ছিলেন অত্যন্ত সরলমনা।যে বঙ্গবন্ধু জীবনের ৪৬৮২ দিন জেলের নির্মম নির্যাতন নিপীড়ন সহ্য করে মুক্তির পথ দেখিয়ে ছিলেন সেই বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করতে পারেননি সে জাতি তাঁকে হত্যা করবে। হত্যার আগে ঘাতকদের ভয় না করে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, 'এখানে কি চাস তোরা, চলে যা'। সেদিন ঘাতকেরা বঙ্গবন্ধুর কাছে কিছু চায়নি, তারা গুলির শব্দে চিরতরে স্তব্ধ করে দিয়েছিল বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠকে। ১০ বছরের শিশু রাসেলকেও ঘাতকরা সেদিন ছাড়েনি। যেতে দেয়নি মায়ের কাছে।

৩২ নম্বরের বাসভবন রক্তে প্লাবিত হয়েছে। ঘাতকেরা সে রাতে বঙ্গবন্ধুকে কবর দেবার জন্য গোপালগঞ্জের টঙ্গীপাড়া তে নিয়ে যায়। ঘাতকেরা সিদ্ধান্ত নেয় গোসল ছাড়াই দাফন করবে বঙ্গবন্ধুকে। কিন্তু পরবর্তীতে জাতির পিতাকে দ্রুত গোসল করাতে বলেন। ৫৭০ সাবান দিয়ে গোসল করানো হয় বঙ্গবন্ধুকে আর পার্শ্ববর্তী রেডক্রস হাসপাতাল থেকে রিলিফের সাদা কাপড় দিয়ে বানানো হয় কাফনের কাপড়। যে বঙ্গবন্ধুর ১৮ মিনিটের ৭ ই মার্চের ভাষণ শোনার জন্য রেসকোর্স ময়দানে ১০ লক্ষ জনতা ভীড় করেছিল। ঘাতকের ভয়ে সেদিন বঙ্গবন্ধুর জানাযায় অংশ নিয়েছিল মাত্র ১৭-১৮ জন মানুষ।

৭৫ পরবর্তী সময়ে খোন্দকার মোস্তাক ইমডেমনিটি আদেশ জারি করে জাতির জনকের খুনিদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিভিন্ন দূতাবাসে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠান। ৭৫ পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে দেবার জন্য সকল অপকর্মই অব্যাহত রাখে সামরিক জান্তারা। ২১ বছর পর শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এলেন এবং ১২ নভেম্বর,১৯৯৬ ইনডেমনিটির সেই অধ্যাদেশ বাতিল করেন।

বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত সহকারী আ ফ ম মহিতুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৯৯৬ সালের ২ অক্টোবর ধানমন্ডি থানায় বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের মামলা করেন। ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর থেকে ২০০৯ সালের ২৪ আগস্ট পর্যন্ত বাদী-বিবাদীর আপিলের প্রেক্ষিতে চার দফায় রায় প্রকাশ হয়।

সর্বশেষ আপিল বিভাগ ২০০৯ সালের ৫ অক্টোবর থেকে টানা ২৯ কর্মদিবস শুনানি করার পর ১৯ নভেম্বর ১২ জনের চূড়ান্ত মৃত্যুদন্ডাদেশের রায় ঘোষণা করেন। ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর পাঁচ  খুনি লে. কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, লে. কর্নেল সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, মেজর বজলুল হুদা, লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহম্মেদ (আর্টিলারি) ও লে. কর্নেল একেএম মহিউদ্দিন আহম্মেদ (ল্যান্সার) এর ফাসির রায় কার্যকর করা হয়। এছাড়ও এখনো ১২ জনের মধ্যে ছয়জন বিদেশে পালিয়ে রয়েছেন। পলাতকরা হলেন কর্নেল খন্দকার আব্দুর রশিদ, লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম, লে. কর্নেল এএম রাশেদ চৌধুরী, রিসালদার মোসলেম উদ্দিন, লে. কর্নেল এসএইচ নূর চৌধুরী ও অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আব্দুল মাজেদ। পলাতক আব্দুল আজিজ পাশা নামে পলাতক বঙ্গবন্ধুর খুনি ২০০১ সালে মারা যান।

জীবিত ৬ জন আত্ম-স্বীকৃত খুনিকে দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। তা ইতিমধ্যেই দৃশ্যমান।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রথম কবিতা লেখেন কবি অন্ন দাশঙ্কর রায়।  তিনি কবিতায় বঙ্গবন্ধু হত্যার পর এভাবেই লিখেছেন- 'নরহত্যা মহাপাপ, তার চেয়ে পাপ আরো বড়/ করে যদি তাঁর পুত্রসম বিশ্বাসভাজন'। শুধু বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের ১৬ জনকে হত্যা করেই ঘাতকেরা থেমে নেই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ম শেখ হাসিনাকেও ১৯ বার হত্যা করার ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালিয়েছে তারা। কিন্তু প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে ডিজিটাল সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে রাতদিন পরিশ্রম করে চলেছেন শেখ হাসিনা। আশা করি তিনি পারবেন। বেঁচে থাকতেই পারবেন।

লেখক- সাবেক শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

Bootstrap Image Preview