Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৮ বৃহস্পতিবার, অক্টোবার ২০১৮ | ৩ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

অভিভাবকদের দুর্ভাবনার আরেক নাম মোবাইল সংস্কৃতি !

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ জুন ২০১৮, ১০:২৫ AM
আপডেট: ১২ জুন ২০১৮, ১০:২৫ AM

bdmorning Image Preview


একবিংশ শতাব্দীতে এসে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাদের জীবনকে অনেকভাবেই সহজ করে তুলেছে। বিশ্বের যেকোনো স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রিয় মানুষদের কাছে টেনে নেয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে সামাজিক যোগাযোগের এ মাধ্যমগুলো। তবে ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডের এ জায়গাটি যতই মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে ততটাই নেতিবাচক প্রভাবও ফেলেছে। প্রতিনিয়ত অসংখ্য মানুষ প্রচুর সময় ব্যয় করার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগের এ মাধ্যম থেকে নিজেরা হতাশায় ভুগছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উঠতি বয়সী কিশোর-কিশোরীরা।

বর্তমানে মোবাইল ফোনসহ সামাজিক যত যোগাযোগমাধ্যম রয়েছে সবগুলোই বর্তমান কিশোর-কিশোরীদের জন্য ভয়াবহ। কারণ তাদের জীবন নষ্ট করার জন্য এই মাধ্যমগুলো যথেষ্ট ভূমিকা পালন করছে। সম্প্রীতি সময়ে নরসিংদীতে এসব সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম দ্বারা অনেক ভয়াবহ ঘটনা ঘটছে।

নরসিংদী জেলা প্রশাসক কার্যালয়সহ থানা, পুলিশ সুপারে এসব বিষয় নিয়ে কিশোরীদের অভিযোগের শেষ নেই। তেমনি একজন বেলাব উপজেলার রোজিনা (১৯)(ছদ্মনাম) ফেসবুকের মাধ্যমে প্রেম করে জালিয়াতির মাধ্যমে গণধর্ষণের শিকার হয়। পরে কোর্টে মামলা করেও প্রমাণ না থাকায় সে সঠিক বিচার পায়নি।

নরসিংদীতে এখন জনসংখ্যার অনুপাতে মোবাইল ফোনের ব্যবহারকারীর সংখ্যা শতকরা ৮৬ ভাগেরও বেশি। নরসিংদীর টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যমতে, এ জেলায় সক্রিয় মোবাইল সংযোগের সংখ্যা আছে প্রায় দশ লাখেরও বেশি। নরসিংদীতে মোবাইল প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহার কিশোর-কিশোরীদের বিপদগামী করে তুলছে। যার জন্য প্রয়োজন কঠোর আইনী পদক্ষেপ ও অভিভাবক মহলের সচেতনতা।

এ জেলার ৬টি উপজেলার ৭২ টি ইউনিয়নের ৬৩৯ টি গ্রামের কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীদের মধ্যে মোবাইলের কারণে ফেসবুক নেশা এখন সর্বাধিক। এ জেলার স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলে মেয়েদের মোবাইল আসক্তি হাজার হাজার পরিবারকে ফেলেছে দুর্ভাবনায়। হঠাৎ চালু হওয়া ‘মোবাইল সংস্কৃতি’ বুঝতে শেখার আগেই ফেসবুক, গুগলে কুরুচিপূর্ণ ছবির ছড়াছড়ি তরুণ-তরুণীদের কচি মন বিগড়ে দিচ্ছে। চরিত্র গড়ার আগেই নষ্ট হচ্ছে কিশোর-কিশোরীর চরিত্র। নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে লেখাপড়ায় এবং পরিবার-সমাজে। জীবন গঠনের আগেই নতুন প্রজন্ম হারাচ্ছে পথের দিশা। বাবা-মায়ের ভাষায় অপরিণত বয়সে ছেলে-মেয়েরা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নিষিদ্ধের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার সহজাত প্রবৃত্তির কারণে ছাত্রছাত্রীরা বইয়ের বদলে মোবাইলের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ছে।

এদিকে অভিভাবকদের কাছে জানতে চাইলে তারা দুঃখ ভরা মন নিয়ে বলেন, ফেসবুক, গুগল এবং বিভিন্ন সামাজিক সাইটের দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে অনেক ছেলে-মেয়ে অকালে বিভিন্ন মারাত্মক অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ। নরসিংদীতে প্রযুক্তি ব্যবহারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শিশু-কিশোরীদের হয়রানি। যুক্ত হয়েছে শিশু-কিশোরীদের উত্ত্যক্ততায় নতুন মাত্রা। সম্প্রতি নরসিংদীর বিভিন্ন কলেজের উঠতি বয়সি মেয়েরা ফেসবুকের মাধ্যমে প্রতারিত হচ্ছে।

আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে এহেন করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করার জন্য এখনও সময় রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনের যতটুকু পরিধি রয়েছে, তার মধ্যেই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে। পাশাপাশি আমরা যারা অভিভাবক রয়েছি তাদেরও সজাগ থাকতে হবে এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়েদের মোবাইল ব্যবহারে চরম কঠোরতা অবলম্বন করতে হবে।

সাইফুল ইসলাম রুদ্র, সাংবাদিক-

Bootstrap Image Preview