Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২০ বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৫ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

একজন মা কত কষ্ট করে সন্তানকে জন্ম দেয়!

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ মে ২০১৮, ১০:৪১ AM আপডেট: ১৩ মে ২০১৮, ১০:৪১ AM

bdmorning Image Preview


বুলবুল আহমেদ-

অফিস থেকে বের হলাম তখন প্রায় সন্ধ্যা। বাসায় যাওয়ার উদ্দেশে বের হলাম। তখন পূর্ব আকাশে কিছু কিছু মেঘ জমছিল। ভাবলাম বৃষ্টির আগেই হয়তো বাসায় যেতে পারব। কিন্তু এফডিসি রেল গেটে পৌঁছানোর পর হটাৎ বেশ জোরে সোরে বৃষ্টি নামলো। আসে পাশে কোন জায়গা না পেয়ে। মোটর সাইকেলটা রেল লাইনের এক পাশে রেখে পাশের একটি বস্তির দোকান ঘরে গিয়ে আশ্রয় নিলাম। ততক্ষণে অনেকটা ভিজে গেছি।

দোকান ঘরের ভেতরে আমার মত অনেকে আশ্রয় নিয়েছে বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে। দোকানটি বস্তির পাশে হওয়ায় সেখানে মূলত নিম্নবিত্ত মানুষের সংখ্যায় বেশি। অনেকটা ভিজে গেছি তাই। একজন নিজের গামছাটা এগিয়ে দিয়ে মাথাটা মুছে নিতে বললেন। বেশ অবাক হলাম ইট-পাথরের এই শহরে এখনো মানুষের মাঝে আন্তরিকতা দেখে। মাথাটা মুছে বসলাম।

এদিকে, বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে লাগলো, সাথে ঝড়ো বাতাস। আমার পাশেই শুয়ে ছিল একটি ছেলে। প্রথমে ভেবেছিলাম ঘুমিয়ে আছে। পরে পাশে বসা এক ভদ্রলোক বললেন নেশা করে মাতাল হয়ে শুয়ে আছে। কথাগুলো বলতে বলতে বৃদ্ধ এক মহিলা এসে ছেলেটিকে ডাকতে শুরু করলো। ওঠ বাবা ঘরে চল, খাবি না। কথায় বুঝতে পারলাম ওই বৃদ্ধা ছেলেটির মা। বেশ কয়েকবার ডাকার পর ছেলেটি বিরক্ত হয়ে জোরে একটি থাপ্পর বসিয়ে দিলেন ওই বৃদ্ধার মুখে। বৃদ্ধাটি কিছু না বলে মাথা নিচু করে চলে গেলো।

খুব অবাক হলাম মানুষ কতটা অস্বাভাবিক থাকলে, মায়ের গায়ে হাত তুলতে পারে। একবার কিছু বলার জন্য উঠে দাঁড়ালাম। কিন্তু পাশের কিছু লোক নিষেধ করল। কিছু না বলে বসে রইলাম। খুব রাগ ঘৃণা হচ্ছিল ছেলেটির উপর। ভাবছিলাম একজন মা কত কষ্ট করে সন্তানকে জন্ম দেয়! আবার কত কষ্টে তাকে মানুষ করে। খুব কষ্ট হচ্ছিল বৃদ্ধার মুখখানি মনে করে। ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে বুঝতেই পারিনি।

হঠাৎ করে আবারো ওই বৃদ্ধা আসলো ছেলেকে ডাকতে। বাবা, ও বাব, ওঠ বাবা রাত হইছে খাবি না। মুহূর্তেই আমার চোখ জোড়া জলে ভরে গেলো। এই মা, মমতাময়ী জননী, গর্ভধারিণী কি সুন্দর করে ছেলেকে ডাকছে এমনভাব যেন সব কিছু স্বাভাবিক এর আগে যেন কিছুই হয়নি। এরিমধ্যে ছেলেটি ঢুলতে ঢুলতে হাটা শুরু করলো হয়তো বাড়ির দিকে। আমি বৃদ্ধাকে জিজ্ঞাসা করলাম। ছেলেটি আপনাকে মারল তারপর আপনি তাকে ডাকতে এসেছেন?

তিনি বললেন, বাবা কি করব না ডাকলে ছায়ালডা সারা রাইতডা না খাইয়া খাকব। কথাগুলো বলতে বলতে চলে গেলো বৃদ্ধা। হাইরে জননী সন্তানের জন্য এত মায়া। কিন্তু আমরা সন্তানরা কতনা কষ্ট দেই তাদের। বৃষ্টি কিছুটা কমলে বের হলাম। তবে আমার ভাবনা জুড়ে খুরপাক খাচ্ছিল শুধু ওই বৃদ্ধার কথাগুলো। এই জন্য তুমি মা জননী গর্ভধারিণী। এই “মা দিবসে” পৃথিবীর সকল মাকে জানাই অকৃত্তিম শ্রদ্ধা ও ভালবাসা।

Bootstrap Image Preview