Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২০ বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৫ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

ছাত্রলীগ নেতা যেমন হওয়া উচিত

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭ মে ২০১৮, ০৭:০০ PM আপডেট: ০৭ মে ২০১৮, ০৭:০০ PM

bdmorning Image Preview


আহসান হাবিব-

ছাত্রলীগ নেতাদের কেমন হওয়া উচিত, এমন প্রশ্নের উত্তরে উঠে এসেছে কিছু যৌক্তিক মতামত ধর্মী বক্তব্য। জোর করে ছাত্রলীগের রাজনীতি হয় না। নেতাদের মধ্যে এমন গুণ থাকা উচিত, যাকে দেখে অন্য দশটা মেধাবী ছেলে স্বেচ্ছায় ছাত্ররাজনীতিতে আসবে। সেজন্য নেতা হওয়া উচিত মেধাবীদের। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে বয়স ধরা হয় ২৭ থেকে ২৯ বছর। কিন্তু এতোদিন ধরে একটা ছেলে রাজনীতি করে যদি সে নেতা হতে না পারে, তাহলে বাকী সময়ে সে করবে কি? আর আমরা জানি যে বাংলাদেশে অধিকাংশ চাকরিতে ৩০ বছর হচ্ছে প্রবেশের সীমা।

যেখানে পড়াশোনা শেষ হয় ২২ আর ২৩ বছরে, সেখানে ২৭ বা ২৯ এর আশায় বসে থাকতে গিয়ে তারা চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসে জড়িয়ে পড়ে। ফলে ব্যর্থ ছাত্রনেতাদের করুণ পরিণতি দেখে অনেক মেধাবীই ছাত্র রাজনীতিতে আসবে না। নিয়মিত ছাত্রদের কমিটি করতে হলে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে বয়স হওয়া দরকার ২৫ বছর। তাতে যারা ব্যর্থ হবে, তারাও পরবর্তীতে অন্যান্য চাকরি যোগাড় করে ফেলতে পারে। অনেক সময় দেখা যায় যে, হল কমিটিগুলোতে যারা পদ পায়, তাদের কেউ কেউ পড়াশোনায় ড্রপ দেয় প্রতি বছর, কেউ মাদকে জড়িয়ে পড়ে এবং কেউ কেউ সাংঘর্ষিক রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে। এসব যখন একটা জুনিয়র ছেলে দেখবে, তখন ছাত্ররাজনীতির প্রতি সে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠবে। মেধাবীরা নিজেদের ক্যারিয়ারের কথা চিন্তা করে, ছাত্ররাজনীতিতে আসতে চাইবে না। এতে দেশেরই ক্ষতি হবে বেশি। কারণ ছাত্ররাজনীতিকে মায়ের সাথে যদি তুলনা করা হয়, তাহলে সেই মায়ের সন্তান হচ্ছে ছাত্রনেতারা। তারাই একটা সময় পর দেশের রাজনীতির হাল ধরবে। এখন সেই সন্তানরূপী ছাত্রনেতা যদি ভালো ও মেধাবী না হয়, সেক্ষেত্রে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি শুধু অবনতির দিকেই যাবে।

একজন ছাত্রনেতার কিছু বৈশিষ্ট্য থাকা লাগে। ছাত্রনেতাকে সমসাময়িক রাজনীতি থেকে শুরু করে সকল বিষয়ে অনেক পড়াশোনা করতে হয়। কারণ কর্মীরা নেতার বক্তব্যের উপরই নির্ভর করে সকল কাজ কর্ম করে। একজন নেতা কর্মীদের যা বলবে, তারা সেটা অক্ষরে অক্ষরে মানে। সেক্ষেত্রে নেতা যদি ঠিক না থাকে, তাহলে কর্মীরাও বিপথে যাবে। কিছু ছাত্রনেতা আছেন, যারা ঘুম থেকে উঠতেই দুপুর বানিয়ে ফেলেন। এই যদি একজন নেতার রুটিন হয়, তাহলে তাদের দিয়ে ছাত্ররাজনীতি কতটুকু আগাবে? ছাত্রনেতাদের চালচলন এমন হবে যে, সবাই যেন তাকে ভালো দৃষ্টিকোণ থেকে অনুসরণ করে। নেতার দেখাদেখি অন্য ১০ জন মেধাবীও ছাত্ররাজনীতিতে আগ্রহী হয়ে উঠবে। এভাবে যদি মেধাবীদের ছাত্রলীগের রাজনীতিতে আগমণ ঘটে, তবে বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে গড়া এই ছাত্রলীগ অনেক দূর এগিয়ে যাবে। দেশ ছাড়িয়ে দেশের বাইরেও ছাত্রলীগকে সবাই জানবে এবং অনুসরণ করবে।

লেখক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি

Bootstrap Image Preview