Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৭ বুধবার, অক্টোবার ২০১৮ | ২ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

শিশুদের চোখে যে স্বপ্ন সেটি দিবালোকের মতো স্পষ্ট ও পবিত্র!

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৬:৪০ PM
আপডেট: ২২ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৬:৪০ PM

bdmorning Image Preview


আল রাসেল সরকার-

গত ১৪ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি শিশু একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে বিভিন্ন স্কুলের প্রথম থেকে দশম শ্রেণির প্রায় ২০০জন শিক্ষার্থী। বিজয়ের মাসে এই চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন বেলকুচির মুকুন্দগাঁতি গ্রামের ‘আলোকিত সাহিত্য কেন্দ্র’ পাঠাগার। এই প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পাঠাগার আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার আরিফ চৌধুরী শুভ। শিশু শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দেওয়া তাঁর বক্তব্যের সার-সংক্ষেপ পাঠকের জন্যে তুলে ধরা হলো বিডিমর্নিং এর পক্ষ থেকে।

‘আজকের শিশু আগমীর ভবিষ্যত’ কথাটা কতটুকু সত্য? যদি সত্য বলেন, তাহলে আপনার কাছে আমার প্রশ্ন, আপনার শিশুকে কি আপনি আগামীর জন্যে সেভাবে প্রস্তুত করছেন? আমরা কি আমাদের শিশুদের স্বপ্নটা কখনো আবিষ্কার করার চেষ্টা করেছি, নাকি আমাদের ব্যর্থ স্বপ্নটা পূরণে শিশুকেই পিষে মারছি প্রতিনিয়ত। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আমাদের শিশুরা আমাদের ব্যক্তিগত স্বপ্ন পূরণে বলির পাঠা হয়ে নিজেদের স্বপ্ন হারিয়ে ফেলে। আমাদের এই চর্চা থেকে বিরত থাকা দরকার।

আমার সমানে আজ যে শতশত শিশু দাঁড়িয়ে আছে, এই শিশুরা কুয়াশা উপেক্ষা করে এসেছে বিজয়ের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে। তারা আমার মতো বিজয় দেখেনি। অথচ বিজয়কে কত সুন্দর করে এঁকেছে নানা রঙ্গে। তাদের স্বপ্নের তুলিতে আঁকা ছবিগুলো বিজয়ের আনন্দে হাসছে। সত্যি অসাধারণ প্রতিটি ছবি। শিশুদের আঁকা প্রতিটিই ছবিই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমি যেমন চাইলেই আবার শিশু হতে পারবো না, ঠিক আমি চাইলেই তাদের মতো এত সুন্দর ছবি আঁকতে পারবো না।

যে শিশুরা বিজয় না দেখে বিজয়কে মনের রঙ্গে এত সুন্দর করে আঁকতে পারে, আমার বিশ্বাস সে শিশুরা সঠিক পরিবেশ পেলে আগামীর বাংলাদেশকেও নির্মান করতে পারবে তাদের স্বপ্নের মতো। মনে রাখবেন, শিশুদের চোখে যে স্বপ্ন, সেটি দিবালোকের মতো স্পষ্ট ও পবিত্র! আমি সম্মান জানাই শিশুদের স্বপ্নকে। আপনাদের বলবো আপনারা সব ব্যাপারে শিশুদের উৎসাহিত না করুন, কিন্তু অন্তত একটি পজিটিভ প্রতিযোগিতা থেকেও যেন আমাদের শিশুরা বঞ্চিত না হয়। সামনে যেতে হলে তাদের প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়েই যাওয়া উচিত। অংশগ্রহণের উৎসাহ তাদের দেওয়া উচিত আমাদের। অবিভাবক হিসাবে এটা আমাদের দায়িত্ব।

আজ আমি শিশুদের এই চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা দেখার জন্যে আলোকিত সাহিত্য কেন্দ্রের নিমন্ত্রণে ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে এসেছি। সারারাত ট্রেনে জার্নি করে এখন প্রায় অনেকটা ক্লান্ত। কিন্তু এখানে এসে আপনাদের ভালোবাসা আর সার্বিক সহযোগিতা আমাকে মুগ্ধ করেছে সত্যি। এমন একটি প্রোগ্রাম সফল করার জন্যে প্রত্যেকের আন্তরিকতা অবর্ণনীয়। তাই আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

আমরা জাতীয় পাঠাগার আন্দোলনের হয়ে সারাদেশে কাজ করছি। ভবিষ্যতে প্রতিটি গ্রামে এভাবে কাজ করার জন্যে আপনাদের সহযোগিতা চাই। একঝাঁক তরুণের স্বপ্ন জাতীয় পাঠাগার আন্দোলন। এই স্বপ্ন আজ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হাজারো তারুণ্যের উচ্ছ্বাস ভরা স্বপ্ন। আমাদের তরুণদের মাঝে এমন একটি স্বপ্ন লুকায়িত আছে, সেটি কদিন আগেও এই বাংলাদেশ জানতো না। আমরা পৃথিবীকে জানান দিচ্ছি যে এই মুহুর্তে আমাদের একটি সম্মলিত আন্দোলনের দরকার আছে। আর সেটি হলো পাঠাগার গড়ার আন্দোলন।

একদিন আমরা এমনই একটি স্বপ্নের সন্ধান পেয়েছি সিরাজগঞ্জের বেলকুচির মুকুন্দগাঁতি গ্রামে। আমি ‘আলোকিত সাহিত্য কেন্দ্র’ পাঠাগার ও তার প্রতিষ্ঠাতা আল রাসেল সরকারের কথা বলছি। এমন তারুণ্যকে সেলুট জানানো উচিত আমাদের। যে বয়সে তরুণরা ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকে, সে বয়সে রাসেলরা সমাজকে আলোকিত করার জন্যে পাঠাগার গড়ে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বললেন, এখানেতো কোন লাভ নেই। তবুও আপনারা ছুটে যাচ্ছেন পাঠাগার গড়ার নেশায়। আমি তাঁকে বলেছি স্যার যারা এ পথে আসে তারা নিতে আসে না, দিতেই আসে সমাজকে। জাতীয় পাঠাগার আন্দোলন আজকের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মতো ভবিষ্যতেও তাদের পাশে দাঁড়াবে।

গত ২৫ অক্টোবর রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে জাতীয় পাঠাগার আন্দোলন আনুষ্ঠানিক ভাবে সারাদেশে ১০টি পাঠাগারের উদ্বেধন করেছে। আলোকিত সাহিত্য কেন্দ্র পাঠাগারটি তার মধ্যে একটি। আমরা বিশ্বাস করি, এই পাঠাগার বেলকুচির মুকুন্দগাঁতি গ্রামের জন্যে প্রদীপ হয়ে কাজ করবে। তাই রাসেলদের টিকিয়ে রাখতে হবে সমাজের জন্যে। প্রজন্মের জন্যে।

আপনাদের প্রত্যেকের কাছে আজ আমার অনুরোধ রইলো, আপনারা জাতীয় পাঠাগার আন্দোলনের সাথে পাঠাগার গড়ার সহযোগি হয়ে কাজ করুন। আমার বিশ্বাস একদিন বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামে অন্তত একটি করে পাঠাগার আমরা গড়তে পারবো। আমাদের প্রত্যেকেরই মনের মধ্যে যে পাঠাগারটি বসবাস করে আমরা কেন সেটির প্রকাশ ঘটাচ্ছি না। আসুন আমরা সবাই রাসেলদের মতো বাস্তবে সেই পাঠাগারের রুপ দেই। আমাদের স্লোগান বই পড়ি পাঠাগার গড়ি। আসুন আমরা শুধু নিজে পড়বো না, অন্যকে পড়ার জন্যে পাঠাগার গড়ে তুলবো। সবাইকে আবারো ধন্যবাদ।

 
Bootstrap Image Preview