Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২২ সোমবার, অক্টোবার ২০১৮ | ৭ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

বাল্যবিবাহ বন্ধে তারুণ্যের অগ্রযাত্রা

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর ২০১৭, ০৭:৫৭ PM
আপডেট: ২৯ নভেম্বর ২০১৭, ০৭:৫৭ PM

bdmorning Image Preview


নিলয় কুমার মুস্তফী-

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর চল চল চল কবিতাটি প্রতিটা তরুণ সমাজের মধ্যে জেগে উঠেছে। বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা অগ্রযাত্রায় বিভিন্ন সরকারি- বেসরকারি সংস্থার পাশাপাশি তরুণ সমাজও বিশেষ অবদান রাখছে।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা অর্জনে সমাজের বাল্যবিবাহ বন্ধে সকলের এগিয়ে এসে একটি সুশিক্ষত সমাজ গড়ে তুলতে হবে। কারণ বাংলাদেশের বাল্যবিবাহ একটি মারাত্মক সমস্যা।

সমাজের সুবিধা বঞ্চিত মানুষের পাশে থেকে আমাদের কাজ করতে হবে। ইউনিসেফের শিশু ও নারীবিষয়ক প্রতিবেদনে অনুসারে বাংলাদেশর ৬৪% নারীর বিয়ে হয় ১৮ বছরের আগে। বাল্যবিবাহনিরোধ আইন অনুসারে ছেলেদের বিবাহের বয়স ন্যূনতম ২১ বছর এবং মেয়েদের ১৮ হওয়া বাধ্যতামূলক। টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা অর্জনে ১৬ নং এজেন্ডা পূরণে তরুণদের কাজ করা প্রয়োজন। বাল্যবিবাহের কারণসমূহ: ১ : যারা বাল্যবিবাহে ইচ্ছুক তারা যে কোন উপায়ে জন্ম নিবন্ধনে মেয়ের বয়স টাকার বিনিময়ে বৃদ্ধি করে নেয়। এর ফলে আইনানুগত ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

২: এক্ষেত্রে কিছু কাজীও দায়ী থাকে এবং এরা মেয়ের বয়স বৃদ্ধি দেখিয়ে বিয়ে দিতে বর এবং কনে পক্ষকে সহায়তা করে।

৩: সাধারণত মেয়েদের অর্থনৈতিক অবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বাল্যবিবাহে উৎসাহিত করে ছেলেদের পরিবার।

৪: কখনো কখনো তাড়াতাড়ি বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা থেকেও বাল্যবিবাহের দিকে ঝুঁকে পড়ে গ্রাম্য পরিবারগুলো। উল্লেখযোগ্য এই কারণগুলো ছাড়াও আরও অনেক কারণেই বাল্য বিবাহ দেওয়া হচ্ছে।

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের উপায়ঃ ১. বাল্যবিবাহনিরোধ আইনটি বাস্তবায়নে ব্যাপক প্রচার প্রয়োজন৷ ২. রেডিও, টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের মাধ্যমে বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা যেতে পারে৷ ৩. গ্রাম পর্যায়ে উঠান বৈঠক ও মা সমাবেশ এক্ষেত্রে ফলপ্রসূ হবে৷ বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করার জন্য প্রয়োজনে প্রশাসনের পক্ষ করা যেতে পারে৷ ৪. জন্ম নিবন্ধন সনদ ব্যতীত কোন আবস্থায় নিকাহ রেজিস্ট্রার যেন বিবাহ নিবন্ধন না করেন, সেরূপ আইন প্রণয়ন করা যেতে পারে৷

৫. প্রতিটি ইউনিয়নে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা যেতে পারে৷ ৬. নবম ও দশম শ্রেণির পাঠ্য বইতে এ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হলে এর সুফল পাওয়া যাবে৷

লেখক: শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ; স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

Bootstrap Image Preview