Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২০ শনিবার, অক্টোবার ২০১৮ | ৫ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

এ নিখাদ আবেগ ফুরাবার নয়!

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬ মে ২০১৮, ০৬:০১ PM
আপডেট: ১৬ মে ২০১৮, ১০:০৭ PM

bdmorning Image Preview


সাব্বির আহমেদ।।  'আপনি কোথায়? এইতো আমি চলে আসছি; আমরা কলেজ অডিটোরিয়ামের সামনে। আপনি চলে আসুন। এভাবেই মুঠোফোনে স্বল্প আলাপে ছড়িয়েছে দীর্ঘ উচ্ছ্বাস। কেউবা নির্ধারিত সময়ের একটু আগে এসে ক্যাম্পাসের ছবি নিজেদের গ্রুপে দিচ্ছেন। যা অন্যকে আসতে যুগিয়েছে বাড়তি উন্মাদনা। বড় একটি উপলক্ষে এ আগমন। উদ্দেশ্য বড় উপলক্ষটিকে ঘটা করে পালন। তখন মঙ্গলবার দুপুর বারোটা ছুঁইছুঁই। একে একে সবাই নিজের স্মৃতিবিজড়িত ক্যাম্পাসে আসছেন। নানা ইতিহাসের সাক্ষী রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজ। গেল বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়া কলেজটি ৫০ বছর পেরিয়ে ৫১তে পা দিয়েছে। প্রিয় ক্যাম্পাসের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে সাবেক শিক্ষার্থীদের এ আগমন। সাবেকদের সবাই গণমাধ্যমের সাথে জড়িত। দুজন আবার সাংবাদিকদের পেশাদার সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাদের এই আগমনে ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও বেজায় খুশি। এবার কলেজের অভিভাবকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ। প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষার্থীর অভিভাবক প্রফেসর আশরাফ হোসেনও তাদের পেয়ে বেশ মুগ্ধ। পরিচিতি পর্ব শেষে স্ব-স্ব স্মৃতি তুলে ধরে রোমন্থিত সবাই। অধ্যক্ষ নিজেও তার জীবনের পেছনের গল্পগুলো ছোট্ট পরিসরে তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে তুলে ধরেন কলেজের সার্বিক চিত্র। বেশ মোহিত হন সবাই। ঘণ্টা দেড়েকের আলাপচারিতায় কিছুটা চাপা ক্ষোভও ফুটে উঠে। যদিও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। আর কেনই বা হবে; আবেগ আর ভালবাসার ক্যাম্পাস নিয়ে কোন ক্ষোভ থাকতে পারে না। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আসা ক্যাম্পাসের নানাদিক নিয়ে বিশদে আলোচনা হয়। কলেজের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে বেশ কিছু মতামত তুলে ধরা হয় সাবেকদের পক্ষ থেকে। যাতে সায় দিয়েছেন অধ্যক্ষও। সমন্বিত উদযাপনে অভিন্ন মত সবার। এমন অনিন্দ্য উদযাপনে সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা জানান কলেজ ছাত্রসংগঠনের নেতারা। গণমাধ্যমে কর্মরত অনেকের নাম আলাপচারিতায় উঠে আসে যারা গতকাল ব্যস্ততায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি। আলোচনা শেষে নবনিযুক্ত অধ্যক্ষকে ফুল দিয়ে বরণ। পরে তিতুমীর কলেজের ৫০ বছর পূর্তিতে সকলের অংশগ্রহণে কাটা হয় একটি কেক। সবশেষে শিক্ষকদের সঙ্গে সাবেক শিক্ষার্থীদের ফটোসেশন।
 
এবার বের হবার পালা। তবে কি প্রিয় ক্যাম্পাসকে একটু না দেখে আসা যায়! দলবেঁধে খানিকটা ঘুরোঘুরি করে পুরনো স্মৃতি হাতড়ে বেড়ানো, সেলফিতে ক্যামেরাবন্দি, আগের আড্ডাময় চত্ত্বরগুলো ঘুরে দেখা- সবই ছিল এই স্বল্প সময়ে। আর পুরো সময় জুড়ে ছিলেন সবার শ্রদ্ধেয় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু জাফর সূর্য। যার টিপ্পনীতে সবাইকে বেশ বিমোহিত করেছেন। তার কাব্যিক কথায় যুগিয়েছে ভিন্ন রসদ। সব কিছু ছাপিয়ে ভাল থাকুক নিখাদ আবেগ আর ভালোবাসার প্রিয় ক্যাম্পাস- এমনটাই প্রত্যাশা সাবেক শিক্ষার্থীদের।
Bootstrap Image Preview