Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৫ মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

খুনসুটিতে কথা শোনেনি বয়স

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ মার্চ ২০১৮, ০৫:৪৭ PM আপডেট: ২৭ মার্চ ২০১৮, ০৬:০৫ PM

bdmorning Image Preview


সাব্বির আহমেদ।। এটি বাগড়া নয় পূর্বাভাস। শুরুর ঠিক ১২ঘণ্টা আগে আকাশে মেঘ, আর সে মেঘ গড়িয়ে বৃষ্টি। ক্ষণে ক্ষণে রূপ বদলালো সে বৃষ্টির সঙ্গে বাড়তে থাকে উৎকন্ঠা। ভর করে সব কিছু ভেস্তে যাওয়ার উদ্বেগ। কিন্তু না, কোন বাগড়াতেই রদ করা গেলা না কাঙ্ক্ষিত সেই যাত্রা তখনো পাখপাখালি আড়মোড়া দিয়ে তাদের নীড় ত্যাগ করতে দেরি করছে বৈকি, উৎসবে শামিলের উদ্দেশে উতসুক সবার প্রস্তুতি পরিপাটি। অপেক্ষা তখন গাড়ির। যে গাড়িবহর ঢাকা থেকে ছুটবে সুদূর গাজীপুর। ঢু দিবে বাঘের বাজারে অবস্থিত সাবাহ গার্ডেনে। নির্দিষ্ট সময়ে চার চাকার দুটি গাড়ি ছুটলো আপন বেগে। পথিমধ্যে বহরের অপেক্ষায় প্রহর গুনা অনেকের আক্ষেপও ঠিক সময়েই ঘুচলো। কারণ ছুটির দিন হওয়ায় চিরচেনা রাজধানীতে জ্যামের অনুপস্থিতি ছিল বেশ। এক গাড়িতে চড়বে বলে বয়সে কনিষ্ঠ কতেক তরুণ আগেই দল পাকিয়েছিল। কিন্তু দ্বৈবক্রমে তা ভেস্তে যায়। সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ কয়েকজনের সাথে যাত্রাপথে আলাদা হয়ে যায় তরুণেরা। পূর্বের পরিকল্পানা দুই গুণ দুই না হওয়ায় স্বভাবত যাত্রাপথের আনন্দটা ম্রিয়মাণ হওয়ারই কথা। তবে কিসের কী, আনন্দ কি আর বয়সে বাধ সাধে। সত্যিই কবি কাজী নজরুল ইসলামের সেই যৌবনের গান গল্পের মতো পঞ্চাশোর্ধ আনিসুর রহমান তপন কথার খৈ ফুটাতে থাকেন। তার কথার জু যেন শেষ হতেই চায় না। একেবারে পেছনের সারিতে জড়সড়ভাবে বসে থাকা তরুণ আর সামলাতে পারেনি তার তোর। কথা বলতে উসখুস করতে থাকা সে তরুণ এবার কানে গুজে থাকা হেডফোন পকেটে ভরে। শুরু হয় ইনিয়ে বিনিয়ে কথা। আর কথায় কথায় চলে খুনসুটি। ঝাপসা সেলফিও কম হয়নি। সাথে ছিলেন একবারে নীরব ভাইয়ের সরব অর্ধাঙ্গিনী। সব কিছুতে জানাশোনা ওই অর্ধাঙ্গিনী তো ওনার বরকে কথা বলার সময়ই দেননি। কথার ফুলঝুরিতে মাতিয়ে রাখেন সবাইকে। চোখে কোকিলের ন্যায় কালো সানগ্লাস, পরনে লাল-খয়েরি রঙের পাঞ্জাবি ও ধবধবে সাদা পায়জামা আর উজ্জ্বল হাতঘড়ি পরে চালকের পাশে বসে আছেন জিএম ফয়সাল আলম নামে এক মধ্যবয়সী ভদ্রলোক। পেছনের সারিতে বসা সিনিয়র-জুনিয়রদের খুনসুটিতে রেহাই পায়নি একযোগে দুই মুঠোফোন চাপতে থাকা সেই ভদ্রলোকের ভদ্রতাও। পরে যদিও তিনি ইচ্ছাকৃত শামিল হোন খুনসুটির আসরে। নিজের গ্রামের ঘনিষ্ঠ অগ্রজ ভাই থাকায় পেছনের সারির সেই তরুণ মাঝেমধ্যে থমকেও গিয়েছিল। যাহোক, এবার ঢুকতে হবে সাবাহ গার্ডেনে। গুগুল ঘাটাঘাটি করেও নির্দিষ্ট করে কেউ জায়গাটি চিনতে না পারায় ক্ষানিকটা আসফাস করছিল সবাই। নিজের এলাকার জায়গাটি চিনতে না পারায় স্বয়ং গাড়ির চালকও টিপ্পনী কাটছিল। তবে তার টিপ্পনী দীর্ঘ হতে দেয়নি সেই তরুণ। হুটকরে তরুনের চোখবন্দি হয় সাবাহ গার্ডেনের সাইনবোর্ড। এবার বেজায় খুশি সবাই। দিনভর আড্ডা ও খাওয়া-দাওয়া ছিল জম্পেশ। ভরদুপুরে ছিল গা গরমের খেলা ফুটবল। যেখানে সিনিয়র জুনিয়রের জন্য ছিল লেভেল প্লায়িং ফ্লিল্ড। ছিল নায়ে চড়া। কষ্ট করে আনন্দঘন মুহূর্ত সেলফিবন্দি করা। বৃক্ষের ডালে ওঠে, জমিনে শুয়ে নানা ঢংয়ে ছবি তোলা। নামের ইতিবাচক বিকৃতিতে উপস্থিত সবার মধ্যে হাসির রোল পড়ে যাওয়া। 'অনেক কষ্ট করেছি, একটা ছবি তোলেন ভাইয়া' বাক্যটি নতুন করে হাসির খোরাক এনে দেয়। এবার ঝিলমিল পেপারে মোড়ানো উপহার নিয়ে ফেরার পালা। আবারো সেই বৃষ্টির বাঘড়া। তবে সবাই গাড়ির ভিতরে বাইরে বৃষ্টি। দারুণ উপভোগ্য এ বৃষ্টিতে চলে মৃদুস্বরে গান, আবেগী খুনসুটি। অনেকে স্মৃতি রোমন্থন হন। রাজধানীতে বিভিন্ন গণ্যমাধ্যমে কাজ করা গাজীপুর নিবাসী সংবাদকর্মীদের নিয়ে গঠিত ঢাকাস্থ গাজীপুর সাংবাদিক ফোরামের প্রথম ফ্যামিলি ডে' ও সাধারণ সভা ছিল গতকাল সোমবার। সাংবাদিকদের একঘেয়েমি দূর করতে ঢের কাঙ্ক্ষিত এ দিনটি নিঃসন্দেহে অমলিন হয়ে থাকবে স্মৃতির মিনারে।
Bootstrap Image Preview