Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২০ বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৫ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

স্কুলছাত্রীকে প্রাইভেট শিক্ষিকার স্বামীর 'ধর্ষণ'

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট ২০১৮, ০৯:০৪ PM আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০১৮, ০৯:০৮ PM

bdmorning Image Preview


গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:

গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায় প্রাইভেট পড়তে গিয়ে ৯ বছরের এক স্কুলছাত্রী শিক্ষিকার স্বামী কর্তৃক ধর্ষণের স্বীকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের সুত্রে জানা যায়, কোটালীপাড়া পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের মদনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেনীর ছাত্রী ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা ফেরদাউসীর কাছে প্রাইভেট পড়ে। গত ৮ আগষ্ট ওই স্কুলছাত্রী শিক্ষিকার বাড়ি পড়তে যায়, প্রাইভেট পড়া শেষে সকাল সাড়ে ৮টার সময় শিক্ষিকা ফেরদাউসী স্কুলে চলে যায়, এ সময় বৃষ্টি নামার কারণে তাকে একটু পরে যেতে বলে শিক্ষিকার স্বামী। পরে ওই ছাত্রীকে একা পেয়ে তার সর্বনাশ করে।

অত্যাচারের স্বীকার স্কুলছাত্রীর বাবা বলেন, আমি সেদিন ঢাকায় ছিলাম, সকাল নয়টার দিকে আমার স্ত্রী ফোন করে আমাকে এ ব্যাপারে জানায়। আমি এসে আমার মেয়ের কাছে জানতে পারি, ফেরদাউসী ম্যাডামের স্বামী এ সর্বনাশ করেছে।

তিনি আরো বলেন, ওই ধর্ষকের বড় ভাই মুজিবুল হক মুন্সি, ছোট ভাই মুকুল মুন্সি, এবং তার স্ত্রী হাতে পায়ে ধরে বলেন, আপনারা কোন মামলা কইরেন না, যে বিচার চান, সেই বিচার আমরা মাথা পেতে নিবো। এছাড়া আমাকে মোবাইলেও বার বার একই কথা বলে যাচ্ছে, যা আমার মোবাইলে ধারন করা আছে।

নির্যাতনের স্বীকার স্কুলছাত্রীর মা বলেন, আমার মেয়েকে ফেরদাউসী ম্যাডামের পড়ানোর কথা, কিন্তু আমার মেয়ে মাঝে মাঝে এসে আমাকে বলতো, মা আজ ম্যাডাম পড়াননি, ম্যাডামের স্বামী পড়িয়েছেন। ঘটনার দিন গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হয়েছিলো, মেয়ে প্রাইভেট পড়ে এসে স্কুলে যাবে, কিন্তু মেয়ের ফিরতে দেরি দেখে আমি আমার মেয়েকে এগিয়ে আনতে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি, পড়ানোর ঘরে আমার মেয়ে নেই, তারপর তাদের থাকার ঘরের দিকে যেতেই ওই নরপিশাচ ঘর থেকে বের হয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়, আর আমার মেয়ে বিছানার উপরে মুখ ও হাত বাধাঁ, বিবস্ত্র অবস্থায় চিৎকার করছে, আমি আমার মেয়েকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করতে থাকি, আমার চিৎকারে পাশের কয়েক জন লোকের সহাযোগিতায় ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই। হাসপাতালে নিলে লোকে নানান কথা বলবে, সেজন্য গোপালগঞ্জ কুয়াডাঙ্গা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে মেয়ের চিকিৎসা করি। এখনও আমার মেয়ে সম্পূর্ন সুস্থ না। আমার মেয়েকে যে নরপিশাচ এই সর্বনাশ করেছে, তার বিচার চাই।

নির্যাতনের স্বীকার ওই স্কুল ছাত্রীর বাবা গতকাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে উপযুক্ত বিচার চেয়ে একটি লিখিত আবেদন করেছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্তের স্ত্রী ফেরদাউসী বলেন, এটা একটা চক্রান্ত, সামাজিক ভাবে আমাদেরকে হেয় করার জন্য এগুলো করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্তের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। জানা যায়, ঘটনার পর থেকে তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন। ঘটনার পর থেকে তাকে এলাকায় কেউ দেখতে পাননি ।

কোটলীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মাহফুজুর রহমান বলেন,আমি ছুটিতে আছি , ছুটি থেকে এসে আইনী প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Bootstrap Image Preview