Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৮ বৃহস্পতিবার, অক্টোবার ২০১৮ | ৩ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

‘ইয়াবার কল্যাণেই’ কক্সবাজারের লাইনম্যান থেকে সৌদি আরব ও দুবাইয়ের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী!

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৬ মে ২০১৮, ১১:১৮ PM
আপডেট: ২৬ মে ২০১৮, ১১:১৮ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক-

এক সময় দৈনিক ২শ’ টাকায় বাসের লাইনম্যান হিসেবে কাজ করতেন তিনি। এখন তিনি কক্সবাজারের ধনাঢ্য ব্যক্তি। নিজের ব্যবসা চালু করেছেন সৌদি আরব ও দুবাইতেও। কলাতলিতে অভিজাত হোটেল, আলিশান বাড়ি-গাড়ি সবই করেছেন। আর এসবই করেছেন ইয়াবা ব্যবসার মাধ্যমে। তিনি হলেন কক্সবাজারের শাহাজান আনসারী। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে তিনি কক্সবাজার শহরের সবচেয়ে বড় ইয়াবা ব্যবসায়ী।

গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, বর্তমানে কলাতলিতে ৩টি হোটেল ভাড়া নিয়ে ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেএকটি  সিন্ডিকেটটি। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন শাহাজান আনসারী ও কাশেম আনসারী নামের দুই ভাই।

কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের টার্গেট করে এই সিন্ডিকেটটি যাত্রা শুরু করে। এখন এই সিন্ডিকেটটি কক্সবাজারের বাস টার্মিনাল থেকে কলাতলি পর্যন্ত পুরো পর্যটন কেন্দ্রটিকে ইয়াবার রমরমা হাটে পরিণত করেছে। কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের জন্য হোম ডেলিভারি সার্ভিস চালু করেছে এই সিন্ডিকেট। বিভিন্ন হোটেলে আগত পর্যটকদের রুমে রুমে ইয়াবা পৌঁছে দিচ্ছে তারা।

ইয়াবা আসক্ত পর্যটকদের খুঁজে আনার জন্য ৪টি মোটরসাইকেলে করে ৮ জন যুবককে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। ওই ৮ যুবকের নেতৃত্বে রয়েছে ১০টি সিএনজি-চালিত অটোরিকশা, ১০টি ব্যাটারিচালিত টমটম ও ১০টি রিকশা।

ওই বাহনগুলো বাস থেকে নামা পর্যটকদের টার্গেট করে। পর্যটকদের ফুসলিয়ে ইয়াবার অফার দিয়ে তাদের শাহাজান আনসারীর হোটেলে নিয়ে যায়।

সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, শাহাজান আনসারীর পরিচালিত কলাতলির লেগুনা বিচ হোটেল হলো ইয়াবার গোডাউন। এই হোটেলে পর্যটকের ছদ্দবেশে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা অবস্থান নেয়। পরে ওই ব্যবসায়ীরা হোটেল থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যায়।

শুধু তাই নয় শাহাজাহান আনসারী তার অবৈধ টাকা দিয়ে এখন কক্সবাজারের ক্রীড়াঙ্গনও নিয়ন্ত্রণ করছেন তিনি। কোনো ধরনের যোগ্যতা ছাড়াই হয়েছেন কক্সবাজার সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক। এর পরে তার চোখ পড়ে জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের উপর।

জানা গেছে, শাহাজাহান আনসারী বিপুল টাকা খরচ করে হয়ে যান জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি।

ফুটবলের সাথে শাহাজাহান আনসারীর জড়িয়ে যাওয়ার পেছনেও রয়েছে ইয়াবার কানেকশন। টেকনাফে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবল। টেকনাফে ফুটবলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হলেন দেশের ১ নাম্বার ইয়াবা ব্যবসায়ী হাজী সাইফুল করিম। আর হাজী সাইফুলের ইয়াবা পার্টনার হলেন শাহাজান আনসারী। কক্সবাজার জেলা ফুটবল দলের সাবেক এক অধিনায়ক ও এক ফুটবলারকে হাত করেই জেলার ফুটবল জগতে নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন শাহাজান আনসারী।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল জানিয়েছেন, শাহাজান আনসারীসহ কক্সবাজারের লিস্টে ইয়াবা ব্যবসায়ী ও গডফাদারদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। তবে তারা সবাই গা ঢাকা দিয়েছে। এইবার সরকার মাদককে আর ছাড় দিবে না। মাদক ব্যবসায়ীদের যত শক্তিশালী সিন্ডিকেট হোক, তা ভেঙে দেয়া হবে।

Bootstrap Image Preview