Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২২ সোমবার, অক্টোবার ২০১৮ | ৭ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

শবেবরাতের রাতে হোটেল থেকে একসাথে বের হয়েছিল তাসফিয়া-আদনান, ধরা পড়ল সিসিটিভি ফুটেজে

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ মে ২০১৮, ০৯:২৬ PM
আপডেট: ০৩ মে ২০১৮, ০৯:৪৩ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক-

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত থেকে উদ্ধার হওয়া সানশাইন স্কুলের ছাত্রী তাসফিয়া আমিনের হত্যাকাণ্ড নিয়ে চাঞ্চল তৈরি হয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে প্রেমের হতাশা থেকে সে হয়তো আত্মহত্যা করেছে। অপরদিকে পরিবার বলছে তাসফিয়ার ‘প্রেমিক’ আদনান মির্জা তাসফিয়াকে হত্যা করেছে।

তাসফিয়ার ‘প্রেমিক’ আদনান মির্জাকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ, ভিডিও ফুটেজ, সৈকতে স্থানীয়দের সঙ্গে কথোপকথন, লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন এবং সর্বোপরি আদনানের কল লোকেশনের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে  আত্মহত্যার ধারণা করছে পুলিশ।

এরপরও পারিপার্শ্বিক আলামত, আদনানকে জিজ্ঞাসাবাদ ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত এটি হত্যাকাণ্ড না আত্মহত্যা সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারছে না পুলিশ। তবে প্রেমঘটিত কারণেই তাসফিয়ার মৃত্যু সে বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (বন্দর) আরেফিন জুয়েল বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে এটাকে হত্যা নয়, আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। হয়তো প্রেমের স্বপ্নভঙ্গের হতাশা থেকে স্কুলছাত্রী তাসফিয়া আবেগের বশে পতেঙ্গা সৈকতে গিয়ে বিষপানে আত্মহত্যা করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রেমিকের সঙ্গে প্রথম ডেটিংয়ে তার স্বপ্ন হয়তো পূরণ হয়নি। এ ছাড়া পরিবার থেকেও তাদের প্রেম নিয়ে বারণ ছিল। এরপরও প্রথম ডেটিংয়ে তারা বিকালে বাসা থেকে বের হয়ে প্রথমে সিআরবি যায়। সেখান থেকে স্টেডিয়াম সংলগ্ন গ্রিডিগার্টস রেস্টুরেন্টে বসে সেখানেও কিছু খায়নি তারা। পরে দু’জন সিএনজি অটোরিকশা করে গোলপাহাড় মোড়ের চায়না গ্রিল রেস্টুরেন্টে যায়। সেখান থেকে পরে দু’জন দুটি সিএনজিতে করে চলে যায়।’

জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে গোলপাহাড়ের মোড়ে অবস্থিত রেস্টুরেন্ট চায়না গ্রিল থেকে সিসিটিভির একটি ভিডিও ফুটেজ উদ্ধার করা হয়। ওই রেস্টুরেন্ট থেকে তাসফিয়া ও আদনানকে একসঙ্গে বের হতে দেখা যায়। এ সময় আদনানকে বিল দিতেও দেখা যায়।

চায়না গ্রিল রেস্টুরেন্টের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে প্রবেশ করে তাসফিয়া ও আদনান। তারা ৬টা ৩৭ মিনিটে বের হয়ে যায়। ওই রেস্টুরেন্টের যে কর্মচারী তাদের আইসক্রিম সার্ভ করেছিলেন তার নাম উজ্জ্বল দাস।

তিনি জানান, তাসফিয়া ও আদনান ২০-২২ মিনিট দোকানে ছিল। তারা দুটি আইসক্রিম অর্ডার করেছিল। দুটি আইসক্রিমের দাম আসে ভ্যাটসহ ৩৭৫ টাকা।

উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার সকালে পতেঙ্গায় অজ্ঞাত তরুণীর লাশ উদ্ধার হওয়ার খবর পাওয়ার পর তাসফিয়ার বাবা-চাচারা পতেঙ্গা থানায় যান। সেখানে গিয়েই তারা দেখতে পান তাসফিয়ার লাশ। সকালে সৈকতের ১৮ নম্বর ব্রিজের উত্তরপাশে পাথরের ওপর তরুণীর মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। তারা পুলিশকে খবর দেয়।

তাসফিয়া আমিনদের গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারের টেকনাফের ডেইলপাড়া এলাকায়। তার পরিবার নগরীর ওআর নিজাম আবাসিক এলাকার তিন নম্বর সড়কের কেআরএস ভবনে থাকে।

Bootstrap Image Preview