Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৫ মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৯ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

'ইজ্জত' নিয়ে নিজ বাবা-মা'র নোংরা বাণিজ্য ফাঁস করলো মেয়েটি!

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল ২০১৮, ১২:৪৭ PM আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০১৮, ১২:৫১ PM

bdmorning Image Preview


আন্তর্জাতিক ডেস্ক-

এত টাকা কোথা থেকে পেল সে? আর থানায়ই বা কেন এলো? কিশোরীর বয়স মাত্র পনের, তবে তার হাতে যে ব্যাগটি আছে তাতে ভরা আছে...। ব্যাগ নিয়ে দিল্লি পুলিশের আমানবিহার থানায় হাজির সে। পুলিশের সেন্ট্রি ছুটে এলো, কি জানি কী আছে ব্যাগে! বোমা নয় তো? কিন্তু ব্যাগ খুলে যা পাওয়া গেল তা দেখে থানার সবার চোখ ছানাবড়া। ব্যাগে বোমা নয়, থরে থরে সাজানো রয়েছে রুপির বান্ডিল- পুরো তিন লাখ! 

প্রশ্নের জবাবে যা বলল তা শুনতেও প্রস্তুত ছিল না অপরাধমূলক হাজারো ঘটনায় অভিজ্ঞ থানাওয়ালারা। মনে হচ্ছে এমন কথা শোনার চেয়ে ব্যাগে কোনো বোমা থাকলেই খুশি হতো তারা। কারণ, ঘটনা খুবই অস্বস্তিকর। পারিবারিক-সামাজিক ন্যায়নীতি আর মূল্যাবোধের পচে-গলে যাওয়ার জ্বলন্ত বয়ান রয়েছে এতে।

নিজ পরিবারের ওপর অভিমানাহত মেয়েটি বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে যা জানাল তার সারমর্ম হচ্ছে- গত বছর সে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছিল। সম্প্রতি এই টাকাগুলো তার পরিবারকে দিয়েছে ধর্ষক-চক্র যাতে মামলা তুলে নেওয়া হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, গত বছরের আগস্টে এক প্রপার্টি ডিলার চার সঙ্গীসহ মেয়েটিকে দলবেঁধে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় পুলিশ দোষীদের গ্রেপ্তার করে। আদালত তাদের জেলে পাঠায়। মামলা চলছে।

অপরদিকে, ধর্ষক-চক্র মেয়েটির পরিবারের সঙ্গে এক ন্যাক্কারজনক 'চুক্তি' করে। ধর্ষণপীড়িতের পরিবার ৩ লাখ ৯৬ হাজার রুপি 'মূল্য' নেয় ধর্ষকদের কাছ থেকে। বিনিময়ে মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এরপর মেয়েটির ওপর তার পরিবার চাপ দিতে থাকে মামলা প্রত্যাহারের। কিন্তু মেয়েটি বেঁকে বসায় ঘরের লোকজন তাকে মারপিট করে। এর সমান্তরালে ধর্ষকদের লোকজন মেয়েটিকে সরাসরি হুমকি দিতে থাকে।

এমন পরিস্থিতিতে সে কিছুই বুঝে উঠতে পারছিল না- কেন এমন হচ্ছে! নিজ পরিবারের সবাই তার বিরুদ্ধে বিভীষণের ভূমিকায় দাঁড়িয়েছে কেন? একপর্যায়ে সে জানতে পারে যে ধর্ষকদের সঙ্গে 'সওদা' করেছে তার বাবা-মা। মানসিকভাবে আরো বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে সে তখন। ভারতীয় পুলিশ সূত্র জানায়, মেয়েটি একদিন দেখে যে তাদের বিছানার নিচে অনেক টাকা রাখা আছে। তখনি সে পরিকল্পনা করে ফেলে তার 'ইজ্জত' নিয়ে নিজ বাবা-মা'র নোংরা বাণিজ্য সে ভেস্তে দেবে।

এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের লোকজন চাইছিল মেয়েটিকে পাশ কাটিয়ে মামলাকে কোনোমতে হাল্কা করে দিতে। যাতে ধর্ষকরা মুক্ত হয় আর তাদের কাছ থেকে নেওয়া রুপিগুলোও 'হালাল' হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ এপ্রিল পরিবারের লোকজন আদালতে যায়, শুধু তাকে বাড়িতে রেখে যায়। এই সুযোগে সে বিছানার নিচে তল্লাশি চালিয়ে তিন লাখ রুপি পায়। এরপর সবগুলো বান্ডিল একটি ব্যাগে ভরে হাজির হয় থানায়।

তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা জানান, সাধারণত একা কোনো নাবালক বা নাবালিকা যখন পুলিশ স্টেশনে আসে তখন পরিবারকে খবর দেওয়া হয়। তারপর পরিবারের অভিযোগের সূত্রে পুলিশ কর্মকাণ্ড শুরু করে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে মেয়েটির কথামতে পুলিশ পদক্ষেপ নেয়। গ্রেপ্তার করা হয় মাকে। বাবার খোঁজে তল্লাশি জারি রয়েছে।

চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিশনকেও খবর দেয় পুলিশ। তাদের লোকজন এসে মেয়েটিকে মানসিক প্রবোধ দেয়, সাহস ও সমর্থন জানায়। তাকে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখা হয়েছে। পুলিশের মতে, বিবেকের তাড়নায় নিজের পরিবারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কিশোরী মেয়েটি অসাধারণ সাহসের পরিচয় দিয়েছে।

Bootstrap Image Preview