Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৮ বৃহস্পতিবার, অক্টোবার ২০১৮ | ৩ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

টাকায় লেখা নম্বরে ফোন, পরকীয়া, অতঃপর....

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬ জানুয়ারী ২০১৮, ০৭:২৯ PM
আপডেট: ১৬ জানুয়ারী ২০১৮, ০৭:৩১ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক-

আমরা অনেকেই টাকার মধ্যে অনেক ফোন নাম্বার পেয়ে থাকি। এবার টাকায় লেখা নাম্বার নিয়েই হয়ে গেলো বিশাল কাহিনী। টাকায় কুলসুম নাহারের ফোন নম্বর পেয়েছিলেন রুহুল আমিন; তারপর পরকীয়া। এরই জের ধরে প্রেমিক রুহুল আমিনকে নিয়ে স্বামী মোশাররফকে হত্যা করেন স্ত্রী কুলসুম।

এ বিষয়ে মামলা হলে আজ মঙ্গলবার রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরীন কবিতা আখতার কুলসুম ও তাঁর প্রেমিক রুহুল আমিনসহ তিনজনকে ফাঁসির আদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য ব্যক্তি হলেন পাবনার আতাইকুলা উপজেলার রানীনগর গ্রামের সোলেমান আলী (৪৫)। ফাসির সাথে তাঁদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে।

কুলসুম নাহার ওরফে বিউটি (৪৬) পাবনা সদর থানার গোপালপুর এলাকার বাসিন্দা আর রুহুল আমিনের (৪৭) বাড়ি রানীনগর গ্রামে। কুলসুসের স্বামী মোশাররফ হোসেন, মৃধাকে (৫০) শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে তাঁদের এই দণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আদালতে শুধু উপস্থিত ছিলেন কুলসুম নাহার। বাকি দুই আসামি ঘটনার পর গ্রেপ্তার হলেও জামিন নিয়ে পালিয়ে গেছেন। তবে তিন আসামিই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন। রায় ঘোষণার পর কুলসুমকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

ওই আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এন্তাজুল হক বলেন, টাকার নোটের ওপর মোবাইল নম্বর পেয়ে তিন সন্তানের মা কুলসুমের সঙ্গে কথা শুরু করেন রুহুল আমিন। পরে তাঁদের মধ্যে পরকীয়া গড়ে ওঠে। এক বছর ধরে চলা এ সম্পর্কের জেরে অনৈতিক সম্পর্কেও জড়িয়ে পড়েন তাঁরা। একপর্যায়ে ‘পথের কাঁটা’ মনে করে মোশাররফকে হত্যার পরিকল্পনা করেন কুলসুম ও রুহুল আমিন।

এন্তাজুল হক আরও বলেন, সে অনুযায়ী ২০১১ সালের ৩০ জুন রাতে রুহুল আমিন তাঁর বন্ধু সোলেমান আলীকে নিয়ে পাবনা শহরের কালাচাঁদপাড়া মহল্লায় মোশাররফের বাসায় যান। এরপর তাঁরা মোশাররফের ঘরে লুকিয়ে থাকেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসায় ফেরার পর মোশাররফকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন কুলসুম, রুহুল আমিন ও সোলেমান। এরপর গুম করতে বস্তার ভেতর লাশটি ঢোকানো হয়। কিন্তু প্রতিবেশীরা টের পেলে রুহুল আমিন ও সোলেমান পালিয়ে যান। ওই রাতেই মোশাররফের বাড়ি থেকে তাঁর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় কুলসুমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন থানায় হত্যা মামলা করা হয়। এ মামলায় ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

Bootstrap Image Preview