অপু ক্ষমা চাইলে আবার সংসার শুরু করতাম: শাকিব

প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৮

বিনোদন ডেস্ক-

বহু নাটকীয়তার পর অবশেষে শাকিব খানের ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত মেনে নিলেন অভিনেত্রী ও তার স্ত্রী অপু বিশ্বাস। গতকাল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পারিবারিক আদালতে এই তারকা দম্পতির বিয়েবিচ্ছেদ নিয়ে দ্বিতীয় সালিশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই অপু বিশ্বাস জানিয়ে দেন, শাকিব খানের বিয়েবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন তিনি। যে জন্য দ্বিতীয় সালিশে যাওয়ার আর কোনো দরকার আছে বলে মনে করেন না।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে শাকিব খানের করা ডিভোর্সের আবেদনের দু’দফা সমঝোতা বৈঠকে ঢালিউড সুপারস্টার উপস্থিত না থাকায় ভেস্তে গেছে তাদের নতুন করে সংসার গড়ার পথ। এদিকে, আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি পূর্ণ হবে ডিভোর্স আবেদনের তিন মাস। একই সঙ্গে কার্যকর হবে ডিভোর্স।

এ প্রসঙ্গে শাকিব খান বলেন, ‘সহ্যের সীমা আছে, তার জন্য কী করিনি, সে আমাকে স্বামী হিসেবে কখনো মানেনি চেয়েছিলাম সুখে শান্তিতে ঘর করতে। তারপরেও সে নানাভাবে আমাকে মানসিক যন্ত্রণা দিয়েছে। সর্বশেষ গত বছরের ১০ এপ্রিল আমার বিরুদ্ধে আমার সন্তানকে নিয়ে টেলিভিশন চ্যানেলে লাইভ অনুষ্ঠানে যাওয়া কি তার উচিত ছিল? তারপরেও আমি তার ও আমার সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বার বার সব ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করেছি।’

শাকিব খান বলেন, ‘১০ এপ্রিলের ঘটনার পরেও নিয়মিত তার বাসায় যেতাম, তার ও আমাদের সন্তানের খোঁজখবর নিতাম। মাসে যা ভরণ-পোষণ দরকার সবই দিচ্ছি। এত কিছুর পরেও সে কখনো আমাকে ঘিরে তার করা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের জন্য একবারও সরি বলেনি। সে শুধু আমাকেই অপমান করেনি। আমার বাবা-মাকেও অসম্মান করেছে। সে যদি একবার সবার সামনে এর জন্য ক্ষমা চাইত আমি অবশ্যই সব ভুলে গিয়ে আবার ঘর সংসার শুরু করতাম।

শাকিব দুঃখ করে বলেন, এরপর আবার সে আমার বাচ্চাকে বাসায় কাজের মানুষের কাছে রেখে ঘর তালাবদ্ধ করে দেশের বাইরে চলে যায়। এমন খবরে সন্তানের জন্য চরম উৎকণ্ঠিত হয়ে দেশে এসে সন্তানকে উদ্ধারে নিকেতনে তার বাসায় ছুটে যাই। সেখানে গিয়ে জানতে পারলাম, দরজায় তালা দিয়ে অপু চাবি নিয়ে চলে গেছে। এরপর বাবা হিসেবে আমি কেমন মানসিক যাতনায় ছিলাম তা কারও বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।’

ঢালিউড সুপারস্টার বলেন, ‘এরপরও কিছু বলিনি। অপু ফিরে এসে এর জন্য আমার কাছে ক্ষমা তো চায়নি বরং আমার বিরুদ্ধে আবার বিষোদগার শুরু করে। এই অবস্থায় তাকে ডিভোর্স দেওয়া ছাড়া আমার আর কোনো পথ ছিল না। ২২ নভেম্বর বাধ্য হয়ে আইনজীবী মারফত ডিভোর্স লেটার পাঠাই।’

ডিভোর্সের বিষয়ে অপু বলেন, ‘দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রখতে হলে একে অপরের প্রতি আস্থা থাকতে হয়। মনের মিল না হলে কোনো সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা যায় না। একজন স্ত্রীর পক্ষে যা কিছু মেনে নেওয়া সম্ভব, তা মানার চেষ্টা করেছি আমি। তারপরও শাকিব তার সিদ্ধান্তে অনড় থেকেছে। শাকিব যেটা ভালো মনে করেছে, সেটাই করেছে। আমিও তাই ডিভোর্স মেনে নিয়েছি।’

অপু আরও বলেন, ‘সবাইকে কোনো না কোনো কিছু আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকতে হয়। আমার এখন একটাই অবলম্বন- আব্রাম। তাকে নিয়েই আগামী দিনগুলো নতুন করে সাজাতে চাই।’

এ প্রসঙ্গে অপু বিশ্বাস বলেন, ‘শাকিব খান আগেই আমাকে বলেছিলো, আমাদের সন্তান হলেই সে আমাকে ডিভোর্স দিয়ে দেবে। তখন আমি বিষয়টিকে গুরুত্ব দেইনি। কথার কথা মনে করেছিলাম। কিন্তু আজ বুঝতে পারছি বিষয়টা কতটা সত্যি।’

তিনি আরো বলেন, ‘শাকিব খানের চরিত্র খারাপ কিন্তু এত খারাপ জানতাম না। যে সব মেয়েদের সাথে তার ওঠা-বসা, আমি ভেবেছিলাম সন্তান হলে সে এই পথ থেকে সরে আসবে। কিন্তু ঘটেছে তার উল্টো। বাবা হয়ে সন্তানের স্বার্থেও সে ছাড় দিতে পারে নি। শাকিব খান যে কাজগুলো করেছেন দর্শক তাদের বিবেক দিয়ে নিশ্চয়ই তা বিবেচনা করবেন। আমি তাকে ভালোবেসে ঘর ছেড়েছি, পরিবার ছেড়েছি, ক্যারিয়ার ছেড়েছি। বিনিময়ে পেয়েছি অবহেলা আর অসম্মান।

শাকিব বর্তমানে শুটিংয়ের জন্য আরেক চিত্রনায়িকা বুবলিকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন। তার পক্ষের আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম জানান, আইন অনুযায়ী ২২ ফেব্রুয়ারি শাকিব-অপুর তালাক কার্যকর হবে। এর পর শাকিব দেনমোহরের টাকা পরিশোধ ছাড়াও প্রতি মাসে সন্তানের খরচ বাবদ অপুকে এক লাখ টাকা প্রদান করবেন।

কমেন্টস