পুরাকীর্তি সংরক্ষণে উদাসীন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৭

খাইরুল ইসলাম বাশার-

ঢাকা নিয়ে একটি কথা অনেক আগে থেকেই প্রচলিত যে, মসজিদের নগরী ঢাকা। হ্যা, ঢাকার অলিতে-গলিতে অবস্থান মসজিদের। পৃথিবীতে মসজিদের সংখ্যা প্রায়ই ২৫ লাখ। তারমধ্যে বাংলাদেশেই মসজিদের সংখ্যা আড়াই লাখের বেশি।

নগরী হিসেবে বাংলাদেশে রাজধানী ঢাকায় মসজিদ সবচেয়ে বেশি। ইসলামিক ফাউন্ডেশন অনুযায়ী রাজধানী ঢাকায় মসজিদের সংখ্যা প্রায়ই ছয় হাজার। বহু পুরনো মসজিদ রয়েছে রাজধানী ঢাকার দখলে।

তেমনি ২৭১ বছরের পুরনো মসজিদ আজিমপুর নিউ পল্টন শাহী মসজিদ। এই বছরেই মসজিদের অর্ধেক অংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। মসজিদটি পরিচালনা করছে যে কমিটি তারা স্থান সংকুলান না হওয়ায় ভেঙ্গে ছয় তালা করতে চায়। আর তাই কমিটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে চিঠি দিলে তারা জানান, ‘মসজিদটি পুরাকীর্তি হিসেবে তাদের তালিকায় নাই। তাই ভেঙ্গে ফেলতে আর বাধা ছিল না।’

কিন্তু মসজিদটি ভাঙ্গা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তৈরি হয় বিতর্ক। গণমাধ্যমে চলে আসে বিষয়টি এখন পর্যন্ত কাজ বন্ধ আছে। মূলত মসজিদের গায়ে শিলালিপি দেখে ধারণা করা হয় ১৭৪৬ সালে নির্মিত হয়। গবেষকরা বলেন, সব মসজিদ শাহী মসজিদ নয়। সাধারণত একটি কবরস্থান ও বেশ কিছু বিষয় মেনে নবাবদের পৃষ্ঠপোষকতায় যে মসজিদ নির্মাণ হয় তাকে শাহী মসজিদ বলে। শুধুমাত্র জুমার আর ঈদের নামাজে স্থান সংকুলান হয় না বলে মসজিদ কমিটি ভেঙ্গে ফেলে অর্ধেক অংশ।

গবেষকরা মসজিদটির স্থাপত্য দেখে জানান, ‘মসজিদের গম্বুজের সাথে তুরুস্কের অটোম্যান আমলের এর স্থাপত্য শৈলীর সাথে অনেকটা মিল রয়েচে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে শুধু মাত্র স্থান সংকুলার এর জন্য যদি পুরনো স্থাপত্য ভেঙ্গে ফেলা হয় তাহলে ইতিহাস ধ্বংস হয় না কি?

তবে জানা যায়, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আর তেমন কোন বাধা নেই। একটি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয় তারা যতটুকু অক্ষত ততটুকু ঠিক রেখে সম্প্রসারণ করার সুপারিশ করবে। তবে যাই হোক এইসব সিদ্ধান্ত আর তালিকার বেড়াজালে ভাঙ্গা পড়লো ২৭১ বছরের পুরানো মসজিদ।

এলাকাবাসীর মধ্যে এ বিষয় নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। দেখার বিষয় হচ্ছে এভাবে আমরা যদি আমাদের অতীত ধ্বংস করি তাহলে আমাদের অতীত স্মরণ করার মত আর কিছুই থাকবে না। এই পুরনো মসজিদকে রক্ষা করা গেল না। কিন্তু ভবিষ্যতে আর কোন পুরাকীর্তি যেন ধ্বংস না হয় এইটুকু প্রত্যাশা। বাংলাদেশের যে কোন স্থানের পুরাকীর্তি পাক তার মর্যাদা। সরকার এবং সংশ্লিস্ট মন্ত্রণালয় এই দিকে সুনজর দিবে।

কমেন্টস