‘মালিক হিসেবে দুর্ঘটনার জন্য আমি নিজেও দায়’

প্রকাশঃ আগস্ট ১০, ২০১৮

বিডিমর্নিং ডেস্ক :

শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীকে বাসচাপায় মেরে ফেলার মামলায় জাবালে নূর পরিবহনের সেই বাসটির মালিক শাহাদাত হোসেন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর হাকিম গোলাম নবী জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে শাহাদাতকে কারাগারে পাঠানো হয়।

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গতকাল বৃহস্পতিবার স্বীকারোক্তি দেন শাহাদত। এর আগে ১ আগস্ট তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাঁকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। গতকাল রিমান্ড শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক কাজী শরিফুল ইসলাম শাহাদতকে আদালতে হাজির করেন। একই সঙ্গে তাঁর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার জন্য আবেদন জানান।

চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামান হিরো আসামির জবানবন্দি নেওয়ার জন্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম নবীকে দায়িত্ব দেন। তিনি আসামিকে পর্যাপ্ত সময় দিয়ে নিজের খাস কামরায় জবানবন্দি নেন।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, স্বীকারোক্তিতে শাহাদত বলেছেন যে দুই শিক্ষার্থীকে চাপা দিয়ে হত্যার ঘটনার পর তিনি জানতে পারেন যে ওই বাসের চালক মাসুম বিল্লাহর বাস চালানোর লাইসেন্স ছিল না। তার লাইসেন্স ছিল হালকা গাড়ি চালানোর।

শাহাদত হোসেন বলেন, ‘নিজের গাড়ির চালক নিয়োগ দেওয়ার আগে তার কাগজপত্র পরীক্ষা করা উচিত ছিল। মালিক হিসেবে দায়িত্বও ছিল। কিন্তু দায়িত্বে অবহেলা করে চালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সে কারণে দুর্ঘটনার জন্য আমি নিজেও দায়ী।’ জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আসামি শাহাদত হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন আদালত।

মাসুম বিল্লাহ স্বীকারোক্তিতে বলেন, জাবালে নূর বাসের (যার রেজি. নম্বর ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৯২৯৭) চালক আমি। ২৯ জুলাই জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারে ওঠার পর বেশি ভাড়া পাওয়ার আশায় আগে যাত্রী উঠানোর জন্য জাবালে নূরের আরেক বাসের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছিলাম। ফ্লাইওভারের নিচে নামার সময় দেখি সেখানে জাবালে নূরের আরেকটি বাস। তখন ফ্লাইওভারের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ১৪ থেকে ১৫ জন ছাত্রছাত্রীর ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়ি উঠিয়ে দিয়ে তাদের গুরুতর জখম করি। এরপর আমি গাড়ি থেকে নেমে পালিয়ে যাই। আমার গাড়ির আঘাতেই রমিজ উদ্দিন কলেজের দুজন শিক্ষার্থী নিহত হয়। আট থেকে দশজন আহত হয়।

জাবালে নূর পরিবহনের অন্য দুটি বাসের দুই চালক ও দুই হেলপারকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। গত ৬ আগস্ট তাদের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

গত ২৯ জুলাই কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে এমইএস বাসস্ট্যান্ডে জাবালে নূর পরিবহনের তিনটি বাসের রেষারেষিতে একটি বাস শিক্ষার্থীদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দিয়া খানম মীম ও আব্দুল করিম রাজীব নামে দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। আহত হয় ১০-১৫ জন শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় নিহত মীমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন।

কমেন্টস