ফাঁকা হচ্ছে ঢাকা

প্রকাশঃ জুন ১৩, ২০১৮

বুধবার বেলা ১২টায় মহাখালীর চিত্র। ছবি: বিডিমর্নিং

আসাদুল্লা লায়ন-

ইট-পাথর আর যান্ত্রিকতার ভিড়ে কাটে এই শহরের প্রতিটি মানুষের প্রতিটি দিন। তবে প্রতিদিনের সেই ব্যস্ততার চিত্র অনেকটাই নিভে গেছে পিচঢালা ব্যস্ত সড়কে। সামনে ইদ-উল ফিতর, বাড়ি ফিরছে কোটি মানুষ। কয়েকটা দিন পরেই একেবারে ভুতুরে পরিবেশে রুপ নেবে সাড়ে তিন কোটি মানুষের পদচাড়নায় মুখর এই রাজধানী।

আজ থেকেই যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় শুরু হয়েছে। গাবতলী ও মহাখালী থেকে নির্দিষ্ট সময়ে ছেড়ে যাচ্ছে। মহাখালী বাস টার্মিনাল ও বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসগুলো যাত্রীদের বাসে তুলে গন্তব্যে রওনা হচ্ছে। তবে বরিশাল, যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন রুটের যাত্রীদের আরিচা, পাটুরিয়া ও শিমুলিয়া ফেরিঘাটে পৌঁছে ফেরির জন্য অনেক সময় ধরে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ফেরি চলাচলে আরো বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছেন কতৃপক্ষ।

রোদ আর বৃষ্টি মাথায় নিয়ে সপ্তাহের শুরু থেকেই সড়কপথ, নৌপথ ও রেলপথে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে ঘরমুখো মানুষ। হাতে অগ্রিম টিকেট আর পরিবারের সাথে ইদের আনন্দ ভাগাভাগির স্বপ্ন নিয়ে নাড়ির টানে বাড়ি ফেররার গল্পটা অতটা সহজ হচ্ছে না মহাসড়কের অবস্থা খারাপ থাকায়। ফলে ভিড় জমছে রেস্টেশনে। উত্তরাঞ্চলের ২২ জেলার ৬২ স্থানে প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়ক বিলীন হয়ে গেছে, ৬৭ কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়ক বন্যায় তলিয়ে গেছে এবং ৫ হাজার ১১৫ কিলোমিটার মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত।

সওজ’র প্রতিবেদন অনুযায়ী গতবছর এই সময়ে ৩৯ ভাগ মহাসড়ক ভালো ছিল কিন্ত এবার মহাসড়কের ৫৭ দশমিক ১৩ ভাগ ভালো হলেও সারাদেশে এক হাজার ৭৩ কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা খারাপ এবং দেড় হাজার কিলোমিটারের বেশি রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ ও চলাচলের অযোগ্য। ২৬ দশমিক ৩২ শতাংশের অবস্থা বেহাল।

বুধবার রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালের পরিদর্শন শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, রাস্তার কারণে এবার কোথাও যানজট হবে না। কারণ, আমরা চন্দ্রা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ফোর লেন চালু করেছি। প্রস্তুতি আয়োজন গতবারের চেয়ে জোরদার করেছি। হাইওয়ে তৃণমূলে ৫টি মিটিং করেছি। হাইওয়ে পুলিশ, থানা ও জেলা পুলিশসহ স্থানীয় সরকারের নেতৃবৃন্দদের যানজট নিরসন ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করতে বলা হয়েছে।

এছাড়া কুমিল্লার পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন জানিয়েছেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের ৯৭ কিলোমিটার রাস্তা যানজট ও ঝামেলামুক্ত রাখতে কুমিল্লা জেলা ও হাইওয়ে পুলিশের ৫ শতাধিক সদস্য মোতায়েন থাকবে।পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক (ট্রাফিক ও নৌ নিরাপত্তা) আলমগীর কবির জানান, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল দিয়ে যথারীতি দেশের নৌপথের বিভিন্ন রুটের লঞ্চ চলাচল করেছে। লঞ্চে যাত্রীদের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। নির্দিষ্ট সময়েই প্রতিটি লঞ্চ ছেড়ে গেছে। নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।

প্রতিদিন ৬৬টি ট্রেন কমলাপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে যাচ্ছে জানিয়ে কমলাপুর রেলস্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী বলেন, প্রায় ৮০ হাজার যাত্রী প্রতিদিন যাত্রা করছে। রেলওয়ের যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে আমাদের সব ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সিডিউল বিপর্যয় যেনো না ঘটে সেদিকে গভীরভাবে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে।

বুধবার দুপুরে বিজয় সরণী সিগনাল এলাকা থেকে তোলা। ছবি: বিডিমর্নিং

এদিকে দু’কোটি মানুষের রাজধানী ঢাকা ঈদের ছুটিতে অনেকটা ফাঁকা হচ্ছে ফলে উদ্বিগ্ন থাকতে হয় ঢাকায় রেখে যাওয়া বাসা বাড়ির নিরাপত্তা ভাবনায়। আবার যারা ঢাকাতে আছেন তারাও ফাঁকা রাস্তায় ভোগেন নিরাপত্তাহীনতায়। এজন্য নগরীরর নিরাপত্তায় বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারীর পাশাপাশি প্রতিটি গলি ও মোড়ে এবার বাড়ানো হয়েছে সাদা পোশাকের টহল। তবে ফাঁকা নগরবাসীর নিরাপত্তায় টহল বাড়ানোর পাশাপাশি ট্রাইকিং ফোর্সসহ সর্বোচ্চ গোয়েন্দা নজরদারী রাখছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

ঈদকে সামনে রেখে বাসা-বাড়িসহ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরাগুলো সচল রাখা ও নিজস্ব নিরাপত্তা প্রহরীদের সতর্ক রাখার পরামর্শ দিয়ে যেকোন বিপদে, পুলিশ সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণকক্ষসহ ডিএমপির ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহযোগিতা নিতে পরামর্শ দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তর।

কমেন্টস