ট্যাবলেট ব্যাবসায়ীদের নজরে রোহিঙ্গা নারী, রাতের ক্যাম্প যেন পদে পদে ফাঁদ 

প্রকাশঃ মার্চ ২৭, ২০১৮

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আলো আঁধার চিত্র

এ এস এম সুজা উদ্দিন ।।

রাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প হয়ে উঠে এক রহস্যপুরী। কখন কি হয় কেউ বলতে পারে না। নিবন্ধিত দুই ক্যাম্পের নজরদারিতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। এরমধ্যে তিন গুণ রোহিঙ্গাদের আগমন নিরাপত্তা পরিস্থতি ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে। যদিও প্রশাসন  বলছে নিয়ন্ত্রণে আছে।দিনে সূর্যের আলোতে শত শত এনজিও কর্মীদের ভিড়ে অনেকটায় নিরাপদে থাকে ২০ বছরের নিচের অবিবাহিত তরুণীরা। কিন্তু মাঝে মাঝে এনজিও কর্মীর যৌন হয়রানীর শিকার হওয়ার ঘটনা সেই পরিবেশকে আরও ভয়ানক করে তুলে। বিডিমর্নিং এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য।

যে জায়গায় ৫ জনের বসবাস ছিল মিয়ানমারে সমপরিমাণ জায়গায় এখন পঞ্চাশ জন বাস করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। দিনে শামিম আরা কোনরকম চলে ফেরা করতে পারলেও রাতে অন্ধকারে ভয়ের কারণে তাও পারে না। তার উপর মানব পাচার,মাদক পাচার এবং দালালদের ভয়। ক্যাম্পের ভিতরের দালালরা হলো রোহিঙ্গারা। তাদের বেশিরভাগ পুরাতন রোহিঙ্গা যারা অনেক আগেই মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসেছে।

সারাদিন তারা এনজিও কর্মী বেশে কিংবা তাদের সাথে মিশে গিয়ে নানা এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। কোন ঘরে সুন্দরী অবিবাহিত মেয়ে দেখলে সেই ঘরে নানা অজুহাতে কথা বলার চেষ্টা করেন।

বালুখালি দুই নম্বর ক্যাম্পে আজ ৫ মাস ধরে আছেন আছিয়া আক্তার (ছদ্ম নাম)  তার দুই মেয়ে  ও এক ছেলে । স্বামী মারা গেছেন মিয়ানমার আর্মির গুলিবিদ্ধ হয়ে। তার সাথে কথা হলে তিনি জানান, ‘মেয়েরা রাতে ভয়ে ঘুমাতে পারে না। দিনেও মেয়েদের বাইরে বের হতে দিই না।  দিন-রাত এক ধরনের  বন্দী  মধ্য থাকে।

কেন আবদ্ধ  রাখা হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের মেয়েদের চেহারা কেউ দেখে নাই মিয়ানমারে। আজ এমন বিপদে বাইরে বের না হয়ে উপায় নেই। যাদের স্বামী আছে তাদের স্বামীরা যাচ্ছে ত্রাণ আনতে, আমাদের তো নিজেদের গিয়ে আনতে হয় । বেশ কিছুদিন ধরে শুনেছি কিছু মানুষ মেয়েদের বিক্রি করে দিচ্ছে। আর ট্যাবলেট ব্যবসায়ীরদেরতো কোন মা-বাপ নাই।

তার দুই মেয়ের সাথে কথা হলে তারাও একি কথা জানান, তারা বলেন, টয়লেটে যেতে পর্যন্ত ভয় লাগে। মাকে  দাঁড় করিয়ে দিয়ে তারপর যায়। কেমনভাবে জানি মানুষজন দেখে।ছোট মেয়ে ছফুরা বলেন, আমি ছয় ক্লাস পর্যন্ত পড়েছি , আমরা বুথিডং থেকে আসছি,এখন এখানে কিছুই করি না , সারাদিন বাসায় বসে থাকি মা বের হতে দেয় না ।

বিশ্বের অন্যতম সেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান এমএসএফ তাদের একটা রিপোর্টে বিষয়টি আরও পরিষ্কার করেছেন। তারা দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে বাংলাদেশে কাজ করছে। ২০০৯ সাল থেকে উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে কাজ করছে এই প্রতিষ্ঠানটি। ৩ হাজারের বেশি কর্মী কাজ করছে। তাদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নারী শিশু কেউ এখন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপদ নয়। একদিকে অন্ধকারের ভয়  আবার অন্যদিকে মানব পাচারকারীদের ভয়।

আঠারো বছরের রোহিঙ্গা নারী শামিম আরা  বলেন ,’বিশেষ করে রাতে আমি বেশি ভয় পাই ,আমি বাইরে একা হাঁটতে বের হই না,এমনকি টয়লেটে এবং গোসলখানায় যেতেও ভয় লাগে। আমরা আমাদের ঘরের দরজা বন্ধ করতে পারি না ,বাবাও সারা রাত জেগে থাকে। আমার মনে সব সময় এই ভয়  কাজ করে যে, যেকোন  মুহূর্তে কিছু একটা ঘটতে পারে ।

তিনি আরও বলেন । আমি একজনকে চিনি যিনি মিয়ানমার আর্মির  ধর্ষণের শিকার হয়েছে কিন্তু এখানে এসেও তার শান্তি নেই। আশেপাশের লোকজন তাকে নিয়ে নানা কথা বলে।  অনেকে তার আচরণ দেখে তাকে বিভিন্নভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে। কিন্তু তাকে কেউ  সাহায্য করতে আসে যেন সে এই অবস্থা থেকে রেহায় পেতে পারে।

তার ব্লকের লোকজন তাকে অবহেলা করে এমনকি, তার যেকোন ব্যাপারে সহযোগিতা কিংবা খেয়েছে কিনা কেউ জিজ্ঞেস করে না। যে মহিলা ধর্ষণের শিকার হয়েছে আমি তার ব্যাপারে বলতে চাই এটা তার অপরাধ না। সে তো ইচ্ছাকৃতভাবে  ধর্ষণের শিকার হয়নি। যে কেউ এই পরিস্থিতির শিকার হতে পারে । আমি নারীদের এসব ব্যাপারগুলোতে সচেতন আছি।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টের প্রজেক্ট ডিরেক্টর (পিএমও) ইকরাম ইলাহির সাথে কথা বললে তিনি ব্যাপারটা নিশ্চিত করেন।তিনি বলেন এই ধরণের ঘটনার কথা আমরা শুনেছি এবং আমাদের একটা প্রজেক্ট আছে। যেটার নাম হল সাইকো সোশ্যাল সাপোর্ট।  এইখানে আমরা যারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যৌন হয়রানীর শিকার হচ্ছে তাদেরকে মানসিক চিকিৎসা দিচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, সাধারণত কিছু অসৎ লোক এসব কাজে জড়িত। যেসব মেয়ে নিজের নিকট আত্মীয় দ্বারা যৌন হয়রানীর শিকার হচ্ছে। তারা কাউকেই এই ব্যপারগুলো প্রকাশ করছে না। কারণ তারা মনে করে যে এটা যদি প্রকাশ হয়ে যায় তাহলে তাদের যে সকল সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে হয়তো তা বন্ধ হয়ে যাবে বলে ।

তিনি আরও বলেন, আমরা অনেকের সাথে কথা বলেছি এবং তাদেরকে সচেতন করার চেষ্টা করছি। যাতে করে তারা অভিযোগ করেন কিংবা তাদের কাছের কাউকে এই ব্যাপারটা শেয়ার করেন। রাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অন্ধকার ভয় থাকে যদিও তাদের অনেকের কাছে সোলার আছে। কিন্তু এতে খুব বেশি  আলো পাওয়া যায় না । তারা যেহেতু একটা ভয়ানক পরিস্থিতির শিকার হয়ে এদেশে এসেছে। তাদের আসলে অনেকগুলো  ব্যাপার কাজ করছে ।

অনেকে এখনো  রাতে ঘুমের ঘোরে আগুন আগুন বলে চিৎকার করে, ভয় পেয়ে ঘুম ভাঙে মাঝারাতে, এটা হলো রোহিঙ্গা ক্যাম্পের প্রতি রাতের আলো-আঁধারীর ঘটনা। মানব পাচার এবং রোহিঙ্গা নারীদের নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ার ব্যাপারে  জানার জন্য পরিচয় গোপন রেখে এক রোহিঙ্গা দালালের সাথে যোগাযোগ করা হয় ।

তিনি জানান, তিনটি চক্র এই কাজে সরাসরি জড়িত।

এক । পুরাতন রোহিঙ্গা,  যে অনেক আগে বাংলাদেশে এসেছে।  তার কাজ হল স্থানীয় দালালদের সাথে যোগাযোগ করা এবং নতুন রোহিঙ্গার মাধ্যমে  কোন্ কোন্ ব্লকে সুন্দরী নারী আছে তার খবর নেওয়া । তার বেশির কাজ হয় দিনে।

দুই, নতুন রোহিঙ্গা যে আসলে তার এলাকার খবর জানে। সে নানা কৌশলে ফাঁদে ফেলে  রোহিঙ্গা তরুণীদের  সাথে সে সরাসরি যোগাযোগ করে ।

তিন, স্থানীয় দালাল যিনি সরাসরি খদ্দের পৌঁছিয়ে দেয়। তার সাথে কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেলের সরাসরি যোগাযোগ এবং তিনি নিজেও ব্যক্তি পর্যায়ে হোটেল ম্যানেজ করে দেন ।

স্থানীয় দালাল যদি কখনো  নজরদারীতে  আসে তখন সরাসরি পুরাতন রোহিঙ্গা বিষয়টি দেখেন। এবং তাদের মধ্য অনেকে কয়েক ধরনের ভাষা জানেন।

এদের অধিকাংশ মালয়েশিয়া থেকে আসা যারা  অনেক আগে নৌকায় করে মালয়েশিয়া পাড়ি জমান এবং সেখানে থেকে চলে আসেন ২০১৭ সালে। ইংরেজি , মালয়সহ অনেকে থাই ভাষাও জানেন। এদের সাথে দেশে বিদেশের বড় বড় লোকজনের সাথে যোগাযোগ।

সম্প্রতি বিদেশি নাগরিকরাও খদ্দরে পরিণত হওয়ার ব্যাপাটা  গণমাধ্যমে কল্যাণে উঠে আসে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পিএমও ইকরাম ইলাহির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শতকরা ৩০ ভাগ বিদেশি ডেলিগেট বাংলাদেশের এই ইস্যুতে আসছে কাজ করতে। আর বেশিরভাগ কাজের নামে বিনোদন করতে আসে।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের একজন কাজ করলে যে পরিমান  বেতন  দিতে হয় সেই পরিমান বেতন দিয়ে বাংলাদেশি ১০ জন ছেলেকে দিয়ে  কাজ করানো যায় ।  যেটা ক আমি মনে করি বিদেশি ডেলিগেটদের ব্যাপারে সরকারের আরো নজর দেওয়া উচিৎ ।

রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রত্যাবর্তন কমিটির এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, আমাদের আসলে কোন পরিকল্পনা নাই । দেশের বাইরে থেকে অনেকে প্রেস কিংবা কাজের ভিসার জন্য আবেদন করলেও তাদেরকে টুরিস্ট ভিসা দেওয়া হয় এবং অনেক দেশের বড় বড় ডেলিগেটরা যখন আমাদের আগামীর পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চায় ,তখন  আমরা কিছুই বলতে পারি না। অনেকেই করছেন এসব  অসঙ্গতির কারণে দিন দিন এই এলাকার  অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক রোহিঙ্গা অনেকটা ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, আমাদের মা বোনরা মিয়ানমারে ছিল মিলিটারির অত্যাচারে। আর এখানে ট্যাবলেট ব্যবসায়ীদের কুনজরে শেষ হয়ে যাচ্ছে। কোথাও শান্তি নেই ।

তিনি আরও  বলেন, শুধু হোটেল নয় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অনেক ঘর এখন দেহ ব্যবসায়  ব্যবহৃত হচ্ছে।

মিয়ানমার থেকে এসে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যৌন হয়রানীর শিকার হওয়া এক রোহিঙ্গা নারী কাছ থেকে জানা যায় বেশ কয়েকটা ধাপে এই ধরনের কাজগুলো চলছে।

তিনি জানান, যখন তারা প্রথম দিকে রোহিঙ্গা এলাকা থেকে পালিয়ে আসছিল, তখন অনেক রোহিঙ্গারা  প্রাণ  বাঁচাতে মিয়ানমার মিলিটারির হাতে তাদের কন্যা ও স্ত্রীদের বিসর্জন দিতে হয়েছে । তাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে প্রায় চার পাঁচ দিন পথেই কেটে যায় । কখনো পাহাড়ে ,কখনো ধান ক্ষেতে লুকিয়ে থাকতে হয়েছে দলবেঁধে।  সারাদিন হাঁটে আর রাতের বেলায় যেখানে ঘুম আসে সেখানে শুয়ে পড়তে হয়েছে। সে সময় অনেক রোহিঙ্গা নারী ধরনের ঘটনার শিকার হয়। কারণ অনেকে এক কাপড়ে, অনেকে আবার অর্ধনগ্ন অবস্থায় ঘর থেকে  বের হতে  হয়েছিল ।

প্রথম দিকে যেহেতু বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের চোখ ফাঁকি দিয়ে আসতে হতো ,তখন নৌকা দিয়ে পার হয়ে বাংলাদেশে এসে কিছু সময়ের জন্য্‌ এক বাংলাদেশি বা পুরাতন রোহিঙ্গার ঘরে আশ্রয় নিতে হতো তাদের। সেখানে আশ্রয়দাতারা  নানা ধরনের ভয় দেখাতো। অনেকে বলতো বিয়ে করবে বা ঘর তৈরি করে দিবে। যদি কথা না শুনা হয় তখন হুমকি দেয় ধরিয়ে দেওয়ার। বাঁচার তাগিদে মানুষ কত কিছুই না করে তখন পরিস্থিতির শিকার হয়ে অনেকে   জড়িয়ে পড়ে এই কাজে এবং তারা এখনো এই কাজে লিপ্ত আছে।

বেশ কয়েকজন পুরাতন রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ‘আগে ছিল কুতুপালং আর নয়া পাড়া ক্যাম্প ,সেখানেও এসব হয় বলে শুনতাম। কিন্তু এখন অনেক মানু্‌ষ, কে কখন কোন দিকে আসে আর কোন দিকে যায় তার কোন খবর নাই।

এসব পাচারকারী কিংবা দালালরা নানা কৌশল ব্যবহার করে। যেহেতু সন্ধ্যা ৫ টার পরে রোহিঙ্গা  ক্যাম্পে  এনজিও কর্মী কিংবা বহিরাগত প্রবেশ নিষেধ, সেহেতু   নিবন্ধিত ক্যাম্পে যারা থাকেন , দিনে  তারা ওষুধ কিংবা প্রসাধনীর মতো প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার অজুহাতে বের হয়। যদি কারো নজরে পড়ে  তখন এই অজুহাত দেন । রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাধারণত তেমন কোন  ধরনের গণনা কিংবা নজরদারী হয় না।  যদি কেউ কোন তথ্য দেন তখন হয়তো খবর নেন। এটা হল নিবন্ধিত ক্যাম্পের ক্ষেত্রে। কিন্তু লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী তারা কখন কোথায় যায় , তা নজর রাখা মুশকিল ।

স্থানীয় লোকজনের সাথে তাদের ভাষায় মিল থাকায় তারা সহজে মিশে যায় । সাধারণত টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা থেকে বের হলে বেশ কয়েকটা চেক পোস্ট আছে।  বাসে পুলিশ  তখনি তল্লাশি করে যখন তথ্য থাকে, না হলে তাও করে না ।

লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাঝে এসব দালাল চক্র হরহামেশা বিচরণ করছে । যখন রাষ্ট্র এবং বহি:বিশ্ব মিয়ানমারে তাদের ফেরত পাঠানো ব্যাপার নিয়ে ব্যস্ত এইসময় কিছু  অসাধু লোক কঠিন সময়কে কাজে লাগিয়ে নিজের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শুধু মানবপাচার কিংবা দেহ ব্যবসায় নয়, অনেকে বলছেন এখানে আধিপত্য বিস্তারের মতো অনেকগুলো বিষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

উখিয়ায় দীর্ঘ অনেক বছর ধরে বাপ দাদার ভিটায় বাস করছেন আব্দুর রহমান, রোহিঙ্গাদের বসতি স্থাপনের জন্য তার জায়গা ছেড়ে দিতে হয়েছে। তার কাছ থেকে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির ব্যাপারে জানতে চাইলে বলেন, দিনের বেলা কোন কাজ থাকলে যাই কিন্তু রাতের বেলা এই রাস্তাও ব্যবহার করি না। অনেক কিছু শোনা যাচ্ছে। কখন কি হয় বোঝার ঊপায় নাই । অন্ধকারে কেউ কাঊকে মেরে ফেললেও খুঁজে পাওয়া যাবে না কে মেরেছে । ছেলে মেয়ে নিয়ে চিন্তা হয় ‘।

এই মুহূর্তে  পৃথিবীর অন্যন্য দেশের জনমত তৈরি করার সাথে সাথে দেশের অভ্যন্তরীণ  ব্যাপারগুলো খতিয়ে  না দেখলে হয়তো এক সময় এটাই বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। রোহিঙ্গাদের নিজেদেরকে সচেতন হওয়া জরুরি বলে মনে করেন সচেতন রোহিঙ্গা নাগরিকরা।

কমেন্টস