‘এসিএসডিইএম’ মডেল গ্রহণ করলেন শিক্ষামন্ত্রণালয়!

প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৮

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে এবং আধুনিক শিক্ষা কমিশন গঠনের লক্ষ্যে ইঞ্জিনিয়ার আরিফ চৌধুরী শুভ’র ‘এসিএসডিইএম’ মডেলটি গ্রহণ করলেন শিক্ষামন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় (২২ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষামন্ত্রণালয়ের এক জরুরি বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী প্রশ্নপত্র না ছাপিয়ে পরীক্ষার হলে স্লাইডের মাধ্যমে ডিজিটাল পরীক্ষা পদ্ধতির কথা বলেছেন সাংবাদিকদের।‘এসিএসডিইএম’ মডেলটির ৬টি ধাপের একটি ছিল পরীক্ষা কমিশন। এ ধাপটিতে শিক্ষার্থীর হাতে ছাপা প্রশ্নপত্র না দিয়ে ডিজিটাল স্লাইডের মাধ্যমে পরীক্ষা পদ্ধতির কথা স্পষ্ট উল্লেখ ছিল।

‘এসিএসডিইএম’ মডেল

প্রশ্ন ফাঁস হবে না, মন্ত্রী সাহেব সব পরীক্ষা নিন ‘এসিএসডিইএম’ মডেলে! শিরোণামে

‘এসিএসডিইএম’ মডেলটি ৬ জানুয়ারি প্রথম প্রকাশিত হয়েছে বিডিমর্নিং এ। তারপর দৈনিক জনকণ্ঠসহ দেশের প্রথম সারির পত্রিকা ও অনলাইনগুলো গুরুত্বের সাথে মডেলটি প্রকাশ করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মডেলটি ভাইরাল হয়েছে।

ইতিমধ্যে চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে রিমোট আনলক স্মার্ট বক্স’ পদ্ধতি নামে আরেকটি পদ্ধতি উদ্ভাবনের কথা শোনা যায়।

প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে আধুনিক দুই পদ্ধতির প্রস্তাব! নামে আরেকটি নিউজ প্রকাশ করে বিডিমর্নিং।

বৃহস্পতিবার শিক্ষামন্ত্রণালয়ের জরুরি বৈঠকে এমন সিদ্ধান্তের পর বিডিমর্নিং এর পক্ষ থেকে ইঞ্জিনিয়ার আরিফ চৌধুরী শুভ’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিডিমর্নিংকে বলেন, এটাতো নিশ্চয় খুশির সংবাদ। আমি চাই গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন। মডেলটি প্রকাশিত হওয়ার পরে পত্রিকার কয়েকটি কপি আমি  শিক্ষামন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর আইডিয়া সেলসহ পরীক্ষা পদ্ধতির সাথে জড়িত ব্যক্তিদের নিকট জমা দিয়ে এসেছি। তবে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের বিশেষ করে শিক্ষামন্ত্রীর এমন উদ্যোগে তাঁকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। যেভাবে মহামারির মতো প্রশ্নফাঁস হচ্ছে সেই জায়গা থেকে পরিত্রাণের উত্তম পন্থা হিসাবে আমি দীর্ঘ গবেষণা করে ‘এসিএসডিইএম’ মডেলটি আবিষ্কার করেছি। মডেলটির বাস্তবতাই আশা করি।

‘এসিএসডিইএম’ মডেল গ্রহণ সম্পর্কে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিমর্নিংকে বলেছেন, শিক্ষামন্ত্রণালয়ে ‘এসিএসডিইএম’ মডেল নামে পরীক্ষা পদ্ধতির একটি মডেল জমা হয়েছে। এখনো এ বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়ার মতো আমাদের নির্দেশনা নাই। তবে মডেলটির আদলেই পরীক্ষা পদ্ধতির কথা চিন্তা করছেন সবাই। শিক্ষামন্ত্রীও একমত পোষণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে এপারমেটিভ ইঙ্গিত দিলেই বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পাবলিক পরীক্ষায় আর প্রশ্নপত্র ছাপানো হবে না। ডিজিটাল ‘প্রশ্নব্যাংকের’ মাধ্যমে অটোমেটিক (স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাৎক্ষণিক) প্রশ্নপত্র তৈরি করা হবে। পরীক্ষা শুরুর আগে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রশ্নের ‘কোড’ জানিয়ে দেওয়া হবে। পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ আসনে বসলেই একটি করে ডিজিটাল ডিভাইস দেওয়া হবে। পরীক্ষা শুরুর কিছু আগে ডিভাইসে অটোমেটিক প্রশ্ন ভেসে উঠবে। তা দেখেই পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেবে। প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে নতুন এই পদ্ধতি চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা থেকে পদ্ধতিটি চালু হবে। এর আগে সেমিনারের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হবে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে চলমান এসএসসি পরীক্ষায় ধারাবাহিকভাবে প্রশ্ন ফাঁসের ছয়টি কারণ চিহ্নিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার বিকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দুই ঘণ্টাব্যাপী আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় সভায় এসব কারণ তুলে ধরা হয়। প্রশ্ন ফাঁসে আইসিটি বিভাগ, মাঠ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দায়ী করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে নিতে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের সহযোগিতা চেয়েছেন বলে সভা সূত্রে জানা গেছে। সভা শেষে ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলে সাংবাদিকদের জানান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহবার হোসাইন সভা শেষে বলেন, ‘বর্তমান পদ্ধতিতে কোনোভাবেই প্রশ্ন ফাঁস ঠেকানো সম্ভব না। আমরা আর প্রশ্ন ছাপাতে চাই না। সবাই একমত হয়েছি অনলাইন প্রশ্নব্যাংকের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়ার। সভায় অনেকে কেন্দ্রে প্রশ্ন ছাপিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার  মতামত তুলে ধরেন। তবে সারা দেশে সাড়ে তিন হাজার পরীক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে প্রত্যন্ত এলাকায় অসংখ্য কেন্দ্র রয়েছে। যেখানে বিদ্যুৎ নেই, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। সেসব কেন্দ্রে প্রশ্ন ছাপিয়ে পরীক্ষা নিতে গেলে হঠাৎ জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তখন মহাকেলেঙ্কারি ঘটে যাবে। এ সংকটের কথা ভেবে পরীক্ষার্থীদের একটি করে ডিভাইস (ট্যাব) দেওয়ার কথা ভাবছি। পরীক্ষার হলে ডিভাইসে অটোমেটিক প্রশ্ন ভেসে উঠবে। তা দেখে পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেবে। এই সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের আগে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি সেমিনার করবো।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নতুন এই পদ্ধতি চালু করা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এইচএসসি পরীক্ষায় চালু করা সম্ভব হবে না। আগামী এসএসসি পরীক্ষায় নতুন পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হবে।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আজ বিকাল সাড়ে ৩টায় সমন্বয় সভা শুরু হয়। যা সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় শেষ হয়। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শুরুর কিছু সময় পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চলে যান। এছাড়া সভায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোজাম্মেল হক খান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব সুবীর কিশোর, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, বিটিআরসির চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ, মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর মো. মাহাবুবুর রহামানসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।

কমেন্টস