‘গ্রন্থাগার আইন’ পাশের ১৬৮ বছর পর বাংলাদেশে প্রথম পাঠাগার দিবস পালন!

প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৮

আরিফ চৌধুরী শুভ।।

এ বছরে আমাদের জন্যে একটি শুভ সংবাদ দিল বর্তমান সরকার। এ সরকারের উদ্যোগেই প্রতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারিকে জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস হিসাবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথম বারের মতো ৫ ফেব্রুয়ারি পালিতও হয়েছে গ্রন্থাগার দিবসটি।দিবসটি উপলক্ষে সরকারের নানা পরিকল্পনার দৃশ্যমান করেছে গ্রন্থাগার অধিদপ্তর।

ইংল্যান্ডে ১৮৫০ খ্রিস্টাব্দে ‘গণগ্রন্থাগার আইন’ আইন পাশ হবার পরে এই উপমহাদেশে প্রথম পাঠাগার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন শুরু হতে শুরু করেছে। পাঠাগার আইন পাশ হবার ১৬৮ বছর পরে এসে আমরা এই প্রথম পাঠাগার দিবস পালন করলো। পাঠক ও পাঠাগার প্রেমিরাও এখন জেনেছে বই ও পাঠাগারের প্রতি সরকারের আন্তরিকতা জেগেছে। এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানানোর দরকার। এই দিবস পালনের মাধ্যমে গ্রন্থাগার নিয়ে যারা দীর্ঘদিন কাজ করে যাচ্ছে, তাদের উৎসাহ বোধ জাগ্রত হবে।

ডিজিটালাইজেশনের যুগে মানুষের আগ্রহ কোন দিকে বেশি, পাঠক কিভাবে বইকে কাছে পেতে চায়, সে ভাবেই গ্রন্থাগারগুলো আধুনিকায়ন করার এখনই সময়। কিন্তু আমরা কি তা এতদিনেও করতে পেরেছি? বই পড়া ও গ্রন্থাগার গড়ায় ব্যক্তি উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করছি রাষ্ট্রের ব্যর্থতার কারণে। যেখানে একপাওয়ালা রাষ্ট্র হাঁটা শিখতে শিখতেই সমস্যার ভারে নুয়ে পড়ে, সেখান থেকেই ব্যক্তি উদ্যোগে বহু গ্রন্থাগারের হাল ধরেছে উদ্যোক্তারা। তাদের চেষ্টাকে স্বাগত জানানো উচিত সরকারকেও। তাদের সাথে নিয়ে গ্রন্থাগারের উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা করা যেতে পারে।

‘বিশ্ব গ্রন্থ ও গ্রন্থস্বত্ব দিবস’ হলো ২৩ এপ্রিল। ১৯৯৫ সালে ইউনেস্কো এই দিনকে ‘বিশ্ব গ্রন্থ ও গ্রন্থস্বত্ব দিবস’ হিসাবে ঘোষণা করে। এই দিনকে ‘বিশ্ব গ্রন্থ ও গ্রন্থস্বত্ব দিবস’ নির্বাচনের অন্যতম কারণ হলো বিশ্ব সাহিত্যের দুই মহান ব্যক্তি শেক্সপিয়র ও সারভান্তেস এই দিনেই জন্মগ্রহণ করেছেন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে বাংলাদেশেও ২০০০ সাল থেকে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। আশা করি এবারও দিবসটি ঘটা করে পালন করার উদ্যোগ নেবে সরকার।

কমেন্টস