ঢাকায় বিক্রি হচ্ছে জাদুকরী ওষুধ, যা সমর্থন করছে না আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৭

ইসতিয়াক ইসতি।। 

চর্ম, যৌন, জন্ডিস, হাঁপানি, বাতের ব্যথা, গ্যাস্টিক, রং ফর্সা,মোটা চিকন লম্বা হওয়া। এমনকি মনোরোগও ভালো হয়ে যাবে তাদের এই এক ওষুধ।এককথায় সর্ব রোগের মহাওষুধ।এমন বিচিত হারবাল ওষুধ এখন পাওয়া যাচ্ছে ঢাকার প্রায় প্রতিটি মহলাতে। মানব শরীররে জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক  উপাদান দিয়ে তৈরি করা এই হারবাল ওষুধগুলো স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে খুব সহজে যাদুকরী কথা ও  চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে  বিক্রি করা হচ্ছে।

রাজধানীর ফার্মগেট তেজগাঁও কলেজের সামনের  গিয়ে  দেখা যায় ‘পাগলা মলম’ একটি ক্রিমের মার্কেটিং করা হচ্ছে একটি ভ্যানে করে। তাদের দাবি আগুনে পুড়া , চুলকানি, দাউদ, একজিমার মত সমস্যার ১০০% গ্যারান্টি দিয়ে ঠিক করে দিবে এই মলমটি এবং  মলমের সাথে রাখে হয়েছে  বিভিন্ন যৌন সমস্যার ওষুধও। তাদের দাবি প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থা যেখানে অচল সেখান থেকেই  তাদের এই ওষুধের কার্যক্রম  শুরু।

ওষুধ কিনতে আসা  রতনের(১৯) সাথে কথা হলে তিনি বলেন, কম টাকায় এই ওষুধ পাওয়া যায় বলেই এই ওষুধ ক্রয় করছেন তিনি। তার আসলে কি সমস্যা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে আমার মূলত গোপন স্থানের সমস্যা। তাই নিচ্ছি এই হারবাল ওষুধ।

ওষুধের গায়ের ঠিকানা ধরে দক্ষিন জুরাইনের একটি বাসাতে গিয়ে কোনো কারখানা পাওয়া না গেলেও তার পাশের একটি বাড়ির নিচ তলাতে একটি হারবাল ওষুধের কারখানার সন্ধান পাওয়া যায়। কিন্তু কঠোর নিরাপত্তার মাঝে ভিতরে চলছে হারবাল ও ভেষজ ওষুধ তৈরির কার্যক্রম।একাধিক বার চেষ্টা করেও ভিতরে প্রবেশ করা যাইনি।তবে পরে ভিতরের একজনের সাথে বাইরের চায়ের দোকানে দেখা হলে গল্পে গল্পে তিনি জানান যে তাদের কারখানার ওষুধ তৈরির মূল ক্যামিকেল আছে মিডফোড থেকে এবং কিছু গাছের শিকড়ের সাথে এই ক্যামিকেল গুলো জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হয় এই ওষুধ গুলো।

শনি আখড়ার একটি হারবাল কারখানাতে গিয়ে দেখা যায়, তারা সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করার জন্য বান্ধবী নামে ওষুধ বানাচ্ছে। যা আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত মানুষগুলো বিশ্বাস করে ক্রয় করছে। কারখানার ভিতরে গিয়ে দেখা যায় এখানেও কোঠার নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে রাখা হয়েছে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বললে তারা জানা, এই কারখানার মালিক মো. কবির উদ্দিন হুজ্জা বছর চার আগেও পেশায় একজন পান সিগারেট বিক্রেতা ছিলেন। কিন্তু কিভাবে তিনি হারবাল চিকিৎসক হলেন তাদের জানানেই। অন্য একজন জানান আমার বাড়ির ভাড়াটিয়া বাচ্চা হবার ওষুধ নিয়েছিল কবিরের কাছ থেকে কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মেসির অধ্যাপক ড. মুনীরউদ্দিন আহমদের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, প্রতি ১ হাজার জন্যের মাঝে মধ্যে ৪০ শতাংশ পুরুষদ ‘ইরেকটাইল ডিসফাংশন (ইডি)’ একটি গুরুত্বপূর্ণ জটিল অবস্থা মধ্যে দিয়ে যায়। আর এই অবস্থা সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ভেষজ নামে বাজারে যে বিভিন্ন যৌন সমাধান ওষুধ বিক্রি করছে তা আসলে হারবাল ওষুধ না। মূলত ভায়াগ্রার ও এর বিকল্প ওষুধ এর মিশ্রণ দিয়ে তৈরি করা হয় এগুলো। আর কেউ যদি এইভেজাল ভেষজ ওষুধগুলো  নিয়মিত খায়  তাহলে তা তার  শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগর অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বলেন, এগুলো খেয়ে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হয়। যার ফলে অনেকে ধরে নেয় অনেক ভালো ওষুধ এগুলো।কিন্তু এর ফলে তার হার্ট নষ্ট হচ্ছে, ব্লাড পেসার বেড়ে যাচ্ছে। আর একটা ওষুধের মাঝে এত সমাধান কিভাবে সম্ভব ? আমি আগে কখন এমন ওষুধ দেখিনি। ওষুধ প্রযুক্তি এমন কোনো ওষুধ কে সমর্থন করে না।

কমেন্টস