যা বলছে মিয়ানমারের থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা হিন্দু শরণার্থীরা

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ১, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

কক্সবাজারের উখিয়ায় কুতুপালং শরণার্থী শিবিরের কাছে একটি মন্দিরের পাশে একটি খোলা জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় ৫০০ রোহিঙ্গা হিন্দু নারী-পুরুষ ও শিশু। মিয়ানমারের রাখাইনে এখন যে ব্যাপক সহিংসতা চলছে, এরাও তার শিকার হয়ে সেখান থেকে পালিয়ে এসেছেন।

রোহিঙ্গা মুসলিমরা হাজারে হাজারে রাখাইন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিলেও এই প্রথম রোহিঙ্গা হিন্দুদের সেখান থেকে পালিয়ে আসতে দেখা গেছে। কুতুপালং এর মন্দিরে আশ্রয় নেওয়া কয়েকজন রোহিঙ্গা হিন্দু নারী-পুরুষ বর্ণনা করেছেন- কেন তারা সেখান থেকে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন। যে হিন্দু গ্রামটি সবচেয়ে বেশি হামলার শিকার হয়েছে সেটির নাম ফকিরাবাজার।

দেনাবালার বাড়ি ছিল এই ফকিরাবাজার গ্রামে। তিনি বলেন, “আমাদের গুলি করেছে। ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। ভাত-পানি খেতে দেয়নি। আমরা হিন্দু মানুষ। আমাদের মেরেছে-কেটেছে।

আমাদের মন্দির পুড়িয়ে দিয়েছে। সেজন্য আমরা চলে এসেছি। এক গ্রাম থেকেই আমরা ৪০০ জনের মতো এসেছি। যারা মারতে এসেছিল, তারা কালো পোশাক পরে এসেছিল। ওদের চিনি না। শুধু চোখ দেখা যাচ্ছিল। “

বকুলবালা নামে আরেক শরণার্থী জানান, ফকিরাবাজার থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে চিকনছড়িতে ছিল তার বাড়ি। মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলেন ফকিরাবাজারে। তার স্বামী মেয়েকে দেখার জন্য ফকিরাবাজার যান। সেখানে তার স্বামী, মেয়ে এবং নাতি সবাই নিহত হয়েছে। তিনি বলেন, “সেখানে সব মানুষকে কেটে ফেলেছে। সেখানে আমার মেয়েকে কেটে ফেলেছে। আমার মেয়েকে দেখতে গিয়েছিল আমার স্বামী। আমার স্বামীকেও কেটে ফেলেছে। আমার নাতি ছিল। তাকেও কেটে ফেলেছে। “

হামলাকারীদের চিনতে পেরেছিলেন কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে বকুলবালা বলেন, “কালো কালো পোশাক পরে ওরা এসেছিল। চোখ ছাড়া আর কিছু দেখা যায় না। চিনতে পারিনি। ওরা কাটছিল, মারছিল, গুলি করছিল। সবাইকে মেরে ফেলেছে। ওরা কখনও বার্মিজ ভাষায় কথা বলছিল, কখনও  বাংলা বলছিল। ওদের হাতে অনেক ধারালো অস্ত্র ছিল। চিকনছড়িতে যখন ওরা এসে পৌছায়, তার আগেই আমরা পালিয়ে যাই। “

শিবকুমার নামে আরেকজন জানিয়েছেন, তার মা বাবা খালা সবাইকে হামলাকারীরা মেরে ফেলেছে। তিনি বলেন, “হিন্দু-মুসলমান সবাইকে মেরেছে। গুলি করেছে। ওরা কালো পোশাক পরা ছিল। আমি চিনি না। চারদিক থেকে ঘেরাও করে আমাদের মারছে। হিন্দু-মুসলমান সবাই এক সঙ্গে পালিয়ে এসেছি। “

এদিকে শুক্রবার ভোরে কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীতে ভেসে এসেছে ১৬ রোহিঙ্গার মরদেহ। মরদেহের অবস্থা দেখে বাংলাদেশের সীমান্ত কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, দুই-তিন দিন আগে তাঁদের হত্যা করে মরদেহ পানিতে ফেলে দেয়া হয়েছে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার টেকনাফের শাহ পরীর দ্বীপে উদ্ধার করা হয় ১০ শিশু ও নয় নারীর মরদেহ। বুধবার নদী পাড়ি দিতে গিয়ে নৌকাডুবিতে নিহত চার রোহিঙ্গার মরদেহ উদ্ধার করে বাংলাদেশ পুলিশ।

গত কয়েকদিনে সীমানা অতিক্রম করে পালানোর সময় ওপার থেকে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে মর্টার ব্যবহারের কথাও জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

গুলিবিদ্ধ হয়ে অন্তত ৩৩ জন রোহিঙ্গা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতালেই মারা গেছেন গুরুতর আহত দু’জন।

কমেন্টস