বাংলাদেশ সীমান্তে গুলিবর্ষণ করায় বিজিবির প্রতিবাদে মিয়ানমার বাহিনীর দুঃখ প্রকাশ

প্রকাশঃ আগস্ট ২৬, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা শুরুর পর শত শত রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ পালিয়ে বাংলাদেশের দিকে আসতে থাকে। সীমান্তে তাদের বাধা দেয় বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এদিকে, বাংলাদেশ সীমান্তে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)। শনিবার (২৬ আগস্ট) দুপুরের দিকে তুমব্রু’র ২টি পয়েন্ট দিয়ে ৮ থেকে ১০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করেছে তারা। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরে বিজিপি দুঃখপ্রকাশ করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্নেল মনজুরুল হাসান খান বলেন, ‘মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) গুলিবর্ষণের ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়েছে বিজিবি। প্রতিবাদে বিজিপি এজন্য ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছে। গুলির এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।’

বিজিপি’র এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘সীমান্তে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে খুব শক্ত অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী। বিজিবি’র পাশাপাশি সরকারের অন্যান্য সংস্থাও সীমান্তে কাজ করছে। গত দুইদিন ধরে অসংখ্য রোহিঙ্গা প্রাণভয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিল। কিন্তু বিজিবি কঠোর হাতে দমন করেছে।’

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাতে রাখাইন রাজ্যে একসঙ্গে ২৪টি পুলিশ ক্যাম্প ও একটি সেনা আবাসে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর ‘সন্ত্রাসীদের’ সঙ্গে দেশটির নিরাপত্তাকর্মীদের সংঘর্ষে মোট ৭১ জন নিহত হয়। এর মধ্যে ১২ জন নিরাপত্তাকর্মী ও ৫৯ জন ‘বাঙালি সন্ত্রাসী’ রয়েছেন বলে গতকাল শুক্রবার মিয়ানমারে রাষ্ট্রীয় পরামর্শদাতার কার্যালয় জানিয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ১২ নিরাপত্তাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া ৫৯ জন ‘বাঙালি সন্ত্রাসীর’ লাশ সেখানে পাওয়া গেছে।

এই ঘটনার পর অনেক রোহিঙ্গারা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশের দিকে ছুটে আসছে। মিয়ানমারে জাতিগত নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে আছে কয়েক দশক ধরে। মুসলিম রোহিঙ্গাদের নিজ দেশের নাগরিক হিসেবে অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার সরকার।

 

Advertisement

কমেন্টস