শুধুই মুখ বুঝে কাঁদছেন রাজ্জাকপত্নী লক্ষ্মী

প্রকাশঃ আগস্ট ২১, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

নায়করাজের এমন মৃত্যু কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তার স্ত্রী লক্ষ্মী। স্বামীর  শোকে পাথর হয়ে গেছেন।কারো সাথে কোনো কথা বলছেন না। শুধু  শুধুই মুখ বুঝে কাঁদছেন।এমন চিত্র দেখা গেল রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে গিয়ে। যে রুমে রাজ্জাকের মরদেহ রাখা ছিল তার বাইরেই বসে ছিলেন রাজ্জাকের স্ত্রী লক্ষ্মী।

এসময় রাজ্জাকপত্নী লক্ষ্মীকে একে একে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার, আলমগীর, সুচরিতা, ওমর সানি, মৌসুমী, শাকিব খান, ফেরদৌস, সাইমন ও জায়েদ খান।

সবাইকে জড়িয়ে ধরে শুধু গুমড়ে কেঁদেছেন লক্ষ্মী। তার পাশেই ছিলেন রাজ্জাকের ছোট ছেলে সম্রাট।

আজ (সোমবার) ৬টা ১৩ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন নায়করাজ রাজ্জাক। তার মৃত্যুতে চলচ্চিত্রাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর বিকেলে রাজ্জাকের শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়। এরপর তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক ডা. মোমেনুজ্জামান জানান রাজ্জাকের পালস ও প্রেসার পাওয়া যাচ্ছিল না। তারপর তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

বর্তমানে রাজ্জাকের মরদেহ ইউনাইটেড হসপিটালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার বাদ জোহর তার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে গুলশানের আজাদ মসজিদে। দাফন কিংবা এফডিসিতে কখন জানাজা হবে তা এখনও জানা যায়নি।

এর আগে হঠাৎ শরীর অসুস্থবোধ করলে নায়করাজ আব্দুর রাজ্জাককে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে ইউনাইটেড হসপিটালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, ওই সময় নায়করাজ রাজ্জাকের নাড়ী (পালস্) ও রক্তচাপ (ব্লাড প্রেসার) পাওয়া যাচ্ছিল না। এটিকে একটি কার্ডিয়াক ইমার্জেন্সি বিবেচনা করে চিকিৎসকরা সঙ্গে সঙ্গেই কোড ব্লু ঘোষণা করেন।  তারপর কার্ডিয়ো পালমোনারী রিসাসিটেশন দিয়ে ওনার শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক করা ও জ্ঞান ফিরিয়ে আনার জন্য ৪০-৪৫ মিনিট চেষ্টা করা হয়।

এই সময় অন্যান্য চিকিৎসকদের সঙ্গে ইউনাইটেড হসপিটালের চিফ কার্ডিওলজিস্ট ডা. মোমেনুজ্জামান ইমার্জেন্সী বিভাগে নায়করাজ রাজ্জাকের পাশে ছিলেন। কিন্তু চিকিৎসকদের সকল চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিটে ইন্তেকাল করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

প্রসঙ্গত , নায়করাজ রাজ্জাক গত কয়েক বছর ধরে ইউনাইটেড হসপিটালের চীফ কার্ডিওলজিস্ট ডা. মোমেনুজ্জামান এর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। হৃদরোগ ছাড়াও তিনি ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারী ডিজিজ, উচ্চ রক্তচাপ ও উচ্চ মাত্রায় ডায়াবেটিস রোগে দীর্ঘদিন যাবৎ ভুগছিলেন।

এর আগেও তিনি ইউনাইটেড হসপিটালে ভর্তি ছিলেন এবং আই.সি.ইউতে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস যন্ত্রের সহায়তায় চিকিৎসাধীন ছিলেন।

Advertisement

কমেন্টস