এটা খুন, প্রমাণ করতে বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জ দিলেন সামিরা !

প্রকাশঃ আগস্ট ১৭, ২০১৭

বিডিমর্নিং বিনোদন ডেস্ক-

জনপ্রিয়, অমর ও কালজয়ী চিত্রনায়ক সালমান শাহ্’র মৃত্যুরহস্যের কিনারা হচ্ছে না বরং আরো বেশি জল ঘোলা হচ্ছে। আমেরিকান প্রবাসী বাঙ্গালি রুবি সুলতানার প্রকাশ করা পর পর ৩টি ভিডিও ও সামিরার বিরুদ্ধে দেয়া অপবাদ ও মন্তব্য ফের প্রশ্ন তুলেছে এই মৃত্যু নিয়ে। দেশবাসী ফের আশা নিয়ে চাইছেন প্রিয় নায়ক হত্যার বিচার হোক। তবে সালমান শাহ’র মা নীলা চৌধুরী ও তাঁর পরিবারের সন্দেহ ও অভিযোগ অনুযায়ী সামিরা অ তাঁর পরিবার সালমানকে হত্যা করেছে। কিন্তু সামিরার দাবি (ইমন) সালমান শাহ্‌ আত্মহত্যা করেছেন মানসিক অবসাদ ও তাঁর মায়ের কারণে।

রুবি সুলতানার ভিডিও বার্তার পর সামিরার সাথে যোগাযোগে চেষ্টা হলে তিনি মিডিয়ার সামনে আসেননি, করেননি কোন মন্তব্য। তবে সম্প্রতি তিনি ফোনে বার্তালাপে জানিয়েছেন তাঁর কথা।

কেন সামিরা মিডিয়ার সামনে আসেন না? সামিরাকে এমন প্রশ্ন করা হলে সামিরা বলেন, ‘আমি কেন মিডিয়াতে আসিনি কারণ আমি ইমনকে নিয়ে কোন একটা নেগেটিভ স্টেটমেন্ট দিতে চাই না, এজন্য নয় যে সালমান শাহ’র ভক্তদের আমি ভয় পাই বা কিছু নো! কারণ আমি আমার হাজব্যান্ড যে নাই তাকে নিয়ে কোন কথা বলতে চাই না, যেটা ওকে ছোট করবে। মানুষ জানতে চাইলে হবে না। এটা পুলিশের ব্যাপার এটা ইনভেস্টিগেশনের ডিপার্টমেন্টের ব্যাপার আছে। এখানে লিগ্যাল কিছু টার্মস আছে। এখানে আমি জাস্ট ফাট করে একটা কথা বলব আর মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়বে। আমি ভালো বললেও মানুষ আমাকে খারাপ বলছে আমি খারাপ বললেও তারা আমাকে খারাপ বলছে। মানুষ তো আমাকে সুযোগই দিচ্ছে না কথা বলার।’

সামিরা দাবি সালমান শাহ্‌ এর আগেও ৪ বার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। সামিরা সুষ্ঠু ন্যায়বিচার চেয়ে বলেন, ‘ইমনের চার বছরে অ খুব খুশি ছিল। আমার সাথে ভালো ছিল। কোনদিন ও সুইসাইড এ্যাটেম্পট নেয়নি। আমার বিয়ের আগে চারবার নিয়েছে এবং যেদিন সে কররেছে সেদিন যদি আমি বুঝতে পারতাম তাহলে আমি তো নিশ্চয় ফার্স্ট অফ অল এটা হতে দিতাম না। সেকেন্ডলি, আমি বাসায় থাকতাম না যদি আমার জানের ভয় থাকত। আমি কিন্তু চাই যে সুষ্ঠু তদন্ত হোক। আমি চাই যে এফবিআই পারলে আসুক। যেটা যেরকম যেদিক দিয়ে সম্ভব।’

সালমান শাহ’র প্রতিভা নিয়ে সামিরা জানান, ‘সালমান শাহ্‌ ইজ ‘সালমান শাহ্‌’। হি ওয়াজ লার্জার দ্যান লাইফ। ওর সাথে কোন অ্যাকটরের তুলনা নাই। কোন হবেও না বাংলাদেশে আর কোন দিনও। ইমনের অ্যাক্টিং স্কিল কিন্তু সাংঘাতিক অন্য রকমের ছিল। এটা কিন্তু ইন্ডিয়ান অ্যাক্টদের মধ্যে খুব কম দেখা যাবে।’

কেন সামিরা দাবি করছেন সালমান শাহ্‌ আত্মহত্যা করেছেন, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ‘নীলা চৌধুরীর (সালমানের মা) সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নষ্ট হয়ে গিয়েছিল তখন। কারণ সে ইলেকশন করতে চাচ্ছিল আর এটা ইমন কোনভাবেই চাচ্ছিল না। এটা মা আর ছেলের একটা দ্বন্দ ছিল। এক এটা তাঁর একটা কষ্ট ছিল। সেকেন্ড ছিল তাঁর ঐ যে ডিরেক্টরস আসোসিয়েশনের, প্রোডাকশনের তাঁর দেরিতে যাওয়া, ঝগড়া করাতে, একটু রাগ হয়ে যাওয়াতে কিছু জবাব দিলো সেখানে দুইবার বয়কট হয় সে। আপনি যান ১৯৯৬ সালের রেকর্ডে যান। এরপর ১৯৯৬ সালে শাবনূরকে নিয়ে তখন বড় একটা ইস্যু ছিল। শাবনূরকে নিয়ে বেশ লেখালেখি হচ্ছিল। আমিও বিশ্বাস করেছি তখন। আমারও বিশ্বাস করার মত অনেক কারণ ছিল।’

সালমানের ভক্ত নিয়ে সামিরা মন্তব্য করেন, ‘ও যদি বুঝতে ও কতো ভক্ত তাহলে ও চিন্তা করত দুইবার। ওর জন্য সব ক্রেজ ছিল, সবকিছু ছিল ওর। কিন্তু ও কিতু বুঝতে পারত না। তখন তো আর এখনকার মত এত বেশি মিডিয়া ছিল না। এতো ফেসবুক ছিল না। এতো কিছু ছিল না যে ভক্তরা ওর কাছে পৌছাতে পারেনি এতো সহজে। তো ও যখন মারা যাওয়ার পর যখন জিনিসটা হলো ইমন যেদিন চলে গেলো ৬ তারিখে তখন না মানুষ যেভাবে কান্না করে উঠল সেটা আমি দেখলাম। ইমনতো দেখলো না….।’

রুবির দেয়া বার্তা নিয়ে সামিরা বলেন, ‘রুবি সুলতানা ও ভিকি দুজনকেই বাংলাদেশের মাটিতে আসতে হবে এবং এভিদেন্স দিয়ে প্রমাণ করতে হবে যে সামিরা পোটলাটা দিয়েছে। কারণ সামিরার দাবি সামিরা কিছুই দেন নাই। এবং এটা আত্মহত্যা, আত্মহত্যা, আত্মহত্যা! আমি চ্যালেঞ্জ করলাম পুরা বাংলাদেশকে।’

সামিরার দেয়া এই কথানুযায়ী এটাই তিনি বলতে চাইছেন যে তিনি স্বামী খুনের অপবাদ চান না, চান এই মামলার সঠিক বিচার। ভালোবাসার মানুষের খুনের দায় বয়ে বেড়ানো তাঁর কাছে অনেক কঠিন।

সামিরার মতে সালমানের মা নীলা চৌধুরী তাকে খুনের আসামি বলার কারণ তাঁর ব্যক্তি আক্রোশ। কেননা সালমানের মা সামিরাকে পছন্দ করতেন না। এমনকি সালমান সামিরার বিয়ে নিয়েও তিনি তেমন সন্তুষ্ট ছিলেন না। সালমানের ভক্তদের ব্যাপারে তিনি বলেন একতরফা শুনে বিচার না করে অবস্থাটা বুঝতে।

সামিরার সবমসয়েই চেষ্টা করেছেন মৃত্যু মামলার তদন্তে সাহায্য কুরতে সংশ্লিষ্টদের। কাগজপত্র,বিভিন্ন প্রমাণ, ডিবি (ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ) রিপোর্ট, সিআইডি, জুডিশিয়াল রিপোর্ট দেখে যেন পনুরায় বিচার হয়। তিনি গোয়েন্দা, পুলিশ ও র‌্যাবের কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন।

Advertisement

কমেন্টস