ফিরে যেতে চায়
‘বহু বছর মা’রে দেখিনা, মায়ের কাছে যেতে মন চায়’, নিখোঁজ সন্তানদের আহাজারি (পর্ব- ২)

প্রকাশঃ জুলাই ২২, ২০১৭

শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালিকা) পরিবারের অপেক্ষায় থাকা সন্তানরা

এ এস এম সুজা উদ্দিন।। 

ঢাকার গাজীপুর কোনাবাড়ি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালিকায়) বহু বছর ধরে পিতা -মাতার অপেক্ষায় আছে ২৬ জন অসহায় শিশু। দিন ফুরিয়ে বছর হয় কিন্তু তাদের মা – বাবা তাদের দেখতে আসে না। কেউ কেউ মা কিংবা বাবার নাম বলতে পারলেও, বেশিরভাগ কিছুই বলতে পারে না। জীবন বলতে ‘শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের চার দেয়াল আর আত্মীয় বলতে চার দেয়ালে বন্ধী শিশুরায়। বাহির থেকে কেউ সেখানে  গেলে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে প্রত্যেকে এবং একটি কথা বার বার বলতে থাকে,’ আমরা ফিরে যেতে চায়’ বহু দিন মা’রে  দেখিনা। অনেকে আদরের ছোট ভাইয়ের কথা বলে ‘ ও স্যার ভাইরে দেখতে মন চায়। প্রতিবন্ধী ‘কমলাও ‘ বলে , বাড়ি যামু। এসব অসহায় শিশুদের বাড়ি পোঁছে দিতে বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিরা। উপযুক্ত তথ্য প্রমানের মাধ্যমে তাদের পিতা-মাতা তাদের সন্তানকে নিয়ে যেতে পারেন বলে জানান কতৃপক্ষ।

২০১৬ সাল থেকে বিডিমর্নিং টিম কাজ করেছে এসব শিশুদের বাড়ি পোঁছে দেওয়ার তাগিদে। ২০১৬ সেপ্টেম্বর ৪ বিডিমর্নিং প্রকাশিত‘আপাগো আমারে একটু নিয়া যাবেন ,আঠার বছর পর্যন্ত কেমনে থাকুম বন্দী ঘরে  ‘ শিরোনামে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল, তখন শিশুর সংখ্যা ছিল ৯৭ জন । সেই সংবাদের মাধ্যমে দুইজন শিশু ফিরে পেয়েছিল তাদের পরিবারে। বিগত এক বছরে অনেক শিশু তার পরিবারকে খুঁজে পায় । গত ১ মাস ধরে  কাজ করে ২৬ জন শিশু (বালিকা) ,শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালিকায়) লিস্ট করা হয়। হয়তো সচেতন মানুষের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ২৬ জন শিশু তাদের পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারেন এমনটায় আশা  প্রতিবেদকের।

এক এক করে প্রত্যেক শিশুর ছবি তোলা হলেও তাদের নাম এবং সঠিক পরিচয়  দেওয়া প্রথমিক পর্যায়ে কঠিন ছিল তাই ছবি দিয়ে সংবাদটি প্রকাশ করা হয়।

কেস ওয়ার্কার এবং শিশুদের  সাথে কথা বলার মাধ্যমে অনেকের পিতা -মাতা এবং গ্রামের নাম লিপিবব্ধ করা সম্ভব হয়। প্রত্যেকের জিডি নাম্বার এবং জিডির তারিখ উল্লেখ করা হয় যাতে করে খুঁজে বের করতে সহজ হয়।

শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র(বালিকা) । তারা ফিরে যেতে চায়

শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র(বালিকা) । তারা ফিরে যেতে চায়

১। রিমার বয়স (১৮)। পিতার নাম  লিয়াকত আলী। মাতা হোসনা বেগম।মা -বাব নাম বলতে পারলেও এখন পর্যন্ত গ্রামের বাড়ির ঠিকানা বলতে পারে না। অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে নথিভুক্ত করা। ধনবাড়ি থানায় পুলিশ বাদী হয়ে  ৯ আগস্ট  ২০১৬ সাধারণ ডাইরি করেন। বর্তমানে কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রের কেস ওয়ার্কার জিনাত মাসুদা আকন্দের তত্ত্বাবধানে  আছেন ।

২। রিমা বয়স (১২)। পিতার নাম মৃত হাসু। মাতা কুলসুম।কিছুটা মায়ের নাম মনে করতে পারছেন। গ্রামের বাড়ি জানতে চাইলে  বলেন ‘পাকটি গফরগাঁও,ময়মনসিংহ। সে কিভাবে এই জায়গায় এসেছে জিজ্ঞেস করা হলে  রিমা বলেন, পালিয়ে এসেছি। তত্ববধায়ক  কেস ওয়ার্কার বলেন তিনি পালিয়ে এসেছেন । রিমা বলেন ,’ আমি আর পালাবো না, আমি আমার বাড়ি ফিরে যেতে চায়। জয়দেবপুর থানায় রিমার নামে  ২০১৭ সালের  এপ্রিল  ২৪ তারিখ সাধারন ডাইরি করা হয়। ডাইরি নাম্বার ১৭৭৬

৩।  মারুফা বয়স (১০)। পিতা দেলোয়ার। মায়ের নাম অজ্ঞাত হিসেবে  উল্লেখ আছে , সে তার মায়ের নাম বলতে পারে না। তার  গ্রামের বাড়ি কোথায় জিজ্ঞেস করলে মারুফা বলেন ,  কুমিল্লার   মোড়ল নগর হাসপাতালের পাশের গ্রামে নিয়ে গেলে আমি আমার এক আত্মিয়ের বাসা চিনতে পারবো। গ্রামের বাড়ি বাগের হাট বলে উল্লেখ করেন। ২০১৫ সালের মার্চ এর ২৩ তারিখ  মোহাম্মদ থানায় একটি সাধারন ডাইরি করা হয়। পুলিশ বাদী হয়ে এই ডাইরিটি করেন। ডাইরি নাম্বার ১৬৮৭। প্রায় ৩ বছর ধরে সে কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে আছে ।

৪। সবাই কমলা নামে ডাকে। এই নাম প্রতিষ্ঠানের দেওয়া নাম। সে একজন প্রতিবন্ধী । কোন কিছুই বলতে পারে না। কেউ কিছু বললে চেয়ে থাকে। মা – বাবা কারো পরিচয় জানা যায়নি। প্রায় সাড়ে চার বছরের কাছকাছি সে এখানে আছেন। তার পরিবার কেউ জানে না যে তারা কোথায় আছে। ২০১৩ সালে আগস্ট মাসের ২৪ তারিখ  ভুয়াপুর থানায় একটা সাধারন ডাইরি হয়। ডাইরি নাম্বার ৮৭৬।.

৫।  নিপা আক্তার। পিতা নাম জসীম উদ্দিন। কেস স্টাডি থেকে জানা যায় পুলিশের। হাতে আসার আগে আল নাহিয়ান স্কুলে পড়া লিখা করতো। ২০১৭ সালের মার্চ মাসের ১১ তারিখ মিরপুর মডেল থানায় সাধারন ডাইরি হয়। ডাইরি নাম্বার৭০৭। বর্তমানে কেস ওয়ার্কার বিউটি খাতুনের তত্ববধায়নে আছেন।

কেস ওয়ার্কার জান্নাতুল ফেরদৌসের তত্ববধায়নে  এই রকম পাঁচটি জিডি কেস আছে। যার মধ্য দুই জন মানসিক প্রতিবন্ধি ।

৬। মোসাম্মত  সানজু। পিতার নাম খায়রুল ইসলাম। মাতার নাম কোনভাবেই জানা যায়নি। সানজুকে মানসিক প্রতিবন্ধী হিসেবে দেখা যায়। ২০০৯ সালের এপ্রিল মাসের ৭ তারিখ শাহ মখদুম থানায় তার নামে সাধারন ডাইরি করা হয়। ডাইরি নাম্বার ২৩৫/০৯

৭। আকলিমা একজন বাক প্রতিবন্ধী।  প্রতিবন্ধী হওয়ায় কোন কিছুই বলতে পারে না । ২০১৫ সালের মে মাসের ১১ তারিখ কিশোরগঞ্জ  থানা পুলিশ বাদী হয়ে সাধারন ডাইরি করেন । ডাইরি নাম্বার ৫৮৭।

৮। আসমা  আক্তার। পিতার নাম আছর আলী। কোন কিছুই বলতে পারে না। কেউ দেখতে  আসে কিনা জিজ্ঞেস করলে বলেন, ‘মন চাই দেখতে কিন্তু কেউ আসে না’। গ্রামের বাড়ি কালিয়ার কৈ বলা হলেও তার নামে জিডি করা হয় ফুল বাড়িয়া থানায় ২০১৪ সালের ডিসেম্বরের ১৩ তারিখ। সাধারন ডাইরি নাম্বার ৩৭৩।

৯। রানী একজন মানসিক প্রতিবন্ধী। পিতার নাম আজাদ। ২০১৫ সালের  সেপ্টম্বরের ৩০ তারিখ রাজশাহীর কালিয়ার কৈ থানায় একটি সাধারন ডাইরি হয়। ডাইরি নাম্বার ৯৫৪।

কেস ওয়ার্কার সেবিকা দুইটি কেস দেখাশুনা করছেন।

১০।  জোসনার (১০)। পিতার নাম আলাউদ্দিন । মাতার নাম বলতে পারে না। প্রায় এক বছর ধরে সে এখানে আছে। ২০১৬ সালের  মে মাসের ২০ তারিখ টাঙ্গাইল থানায় সাধারন ডাইরি নথিভুক্ত করা হয়। ডাইরি নাম্বার ১৩০৬

১১। বেবি , প্রতিস্টানের দেওয়া নাম। সে তার বাবার নাম বলতে পারে না , মায়ের নাম হাজেরা নামে উল্লেখ আছে। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে সে কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে আছে। বর্তমানে তার বয়স ১৫ বছর।  ২০০৫ সালে জুলাই মাসের ৭ তারিখ রাজবাড়ি থানায় তার নামে ডাইরি হয়। ডাইরি নাম্বার ৭৭১।

ইউনিসেফের দুইজন কাজ করছেন শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে। ইভা তাদের মধ্য একজন। ইভা থেকে এই ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন। ইউনিসেফ এবং  সামাজ সেবা অধিদপ্তর এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন।

১২। রোজিনার(১০)। পিতার নাম শহর আলী। মাতা মৃত তাসলিমা। গ্রামের বাড়ি ফুলতলা থানাঃ কতোয়ালি, যশোর । ২-১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ৩ তারিখ  সাভার মড়েল থানায় সাধারন ডাইরি হয় । ডাইরি নাম্বার  ১৪৮

১৩। মোসাম্মত  ভানু। পিতার নাম কালু। গ্রামের কথা জিজ্ঞেস করলে বলেন, গুলসা্‌ন , ঢাকা। ২০০৭ সালের জুলাই মাসের ২৪ তারিখ  ঢাকা গোয়ালিয়া থানায়  সাধারন ডাইরি হয়। ডাইরি নাম্বার ১২৩৫।

১৪। মোসাম্মত ঝর্ণা আকুর শিকু(১২)। পিতার নাম আনোয়ার। মাতার নাম  সুমি। তার কাছ থেকে জানা যায় ,’ তার মাবা থাকে নিয়ে যায় না। তার মা- বাবা জানে সে এই জায়গায় আছে। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি  মাসের ১৫ তারিখ জয়দেবপুর  থানায় সাধারন ডাইরি হয়। ডাইরি নাম্বার ১১৪০।

১৫। শরিফা আক্তার। পিতার নাম শরীফ । মাতার নাম সারিনা। ২০১৬ সালের জানুয়ারির  ৬  তারিখ ক্যান্টমেণ্ট  থানায় সাধারন ডাইরি করা হয়। ডাইরি নাম্বার  ২৭০। গ্রামের ঠিকানা বলতে না পারলেও কিছু আন্দাজ করে যা বলেন তা’হোল  ১২ং আড় পাড়া যশোর বোর্ড অফিসের পাশে , তার গ্রামের বাড়ি ।

১৬। ফালানী। ঠিকানা অজ্ঞাত হিসেবে উল্লেখ আছে।

১৭ । ফারজানা (১০)। পিতার নাম  মৃত আব্দুর রহিম। গ্রামের বাড়ি রহমত বাজার থানা, হাতিয়া জেলা । ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ৮ তারিখ  হাজীগঞ্জ থানায় তার নামে সাধারন ডাইরি নথিভুক্ত করা হয়। ডাইরি নাম্বার  ৪০৪ ।

১৮। রত্না(৮)। পিতার নাম  চান মিয়া চৌধুরি। গ্রাম মহিশর কথা সে কিছুটা বলতে পারে । ২০১২ সালের এপ্রিল মাসের ৮ তারিখ  পলল্বি থানায় সাধারন ডাইরি হয়। ডাইরি নাম্বার ৬০০।

১৯।  জামিলা(বোবা) প্রতিষ্ঠানের দেওয়া নাম। পরিচয়  অজ্ঞাত  হিসেবে উল্লেখ আছে।  সরিষা বাড়ি থানায় ডাইরি  নাম্বার -১১৬৫। ২০১৬ সালের মার্চ মাসের ৩০ তারিখ তার নামে সাধারন ডাইরি নথিভুক্ত করা হয়।

২০। নয়ন(৮)। পরিচয় অজ্ঞাত । ২০১৬ সালের মার্চ মাসের ৩ তারিখ জয়দেবপুর থানায় সাধারন ডাইরি করা হয়। ডাইরি নাম্বার ৮২৪

২১। বাক প্রতিবন্ধী । পরিচয় অজ্ঞাত উল্লেখ আছে। আড়পাড়া থানায় ২০১৭ সালে জুন মাসের ৭ তারিখ   সাধারন ডাইরি করা হয়। ডাইরি নাম্বার ২৯।

২২। বৃষ্টি আক্তার মোস্তফা। পিতা -মাতার অজ্ঞাত। কুমিল্লা জেলার নাম বলতে পারে।  ২০১৫ সালের মার্চ মাসের ৩ তারিখ  শেরপুর থানায়  সাধারন ডাইরি হয়।  ডাইরি নাম্বার ২০০৪ ।

২৩। স্বরুফা। পিতার নাম  মোস্তফা। মাতার নাম বলতে পারে না। ২০০৮ সালের মার্চ মাসের ২৩ তারিখ  কোতোয়ালি থানায় সাধারন ডাইরি হয়। ডাইরি নাম্বার ১৮/১৬ ।

২৫। জেসমিন  আক্তার। পিতার নামা  ইসমাইল  খা। গ্রামের নাম  আদাবাড়িয়া থানা বাওফল,  জেলা পটুয়াখালি ।  ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ তেজগাও থানায়  সাধারন ডাইরি করা হয়। ডাইরি নাম্বার  -৮৮৮ ।

২৬। মাজেদা। পিতার  মান্নান।  অজ্ঞাত ৭৪৭ /১২/০৪/০৯

প্রত্যেকে অপেক্ষায় আছে তাদের পিতা মাতার।

প্রসঙ্গত , শিশু আইনে বলা হয়েছে, কোনো শিশুকে কারাগারে বা হাজতে রাখা যাবে না। অপরাধ করেছে, এমন শিশুদের জন্য রয়েছে সংশোধনী কেন্দ্র। ১৯৭৪ সালে প্রণীত শিশু আইনের ৩ ধারা মোতাবেক অপরাধী শিশু-কিশোরদের সংশোধনের উদ্দেশ্যে ১৯৭৮ সালে গাজীপুরের টঙ্গীতে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র, ১৯৯৫ সালে যশোরে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র এবং ২০০৩ সালে গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে সন্দেহভাজন শিশু, বিচারোত্তর শিশু ও মা-বাবা বা অভিভাবকদের পাঠানো শিশুকে রাখা হয়।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের রয়েছে ব্যাপক ও বহুমূখী কার্যক্রম। ১৯৪৩ সালে বেঙ্গল ভেগরেন্সি এ্যাক্ট প্রণয়নের মাধ্যমে উপমহাদেশে ভিক্ষাবৃত্তি তথা ভবঘুরে ধারণাটির উদ্ভবের মাধ্যমে ভবঘুরে- দুঃস্থ কল্যাণমূলক কার্যক্রম শুরু হলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন পর্যায়ে ভবঘুরে  প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র (সরকারি আশ্রয় কেন্দ্র), সরকারী শিশু পরিবার (এতিমখানা : ১৯৪৪), ছোটমণি নিবাস (১৯৬২), কিশোর/কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্র (১৯৭৮), দুঃস্থ শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র, মহিলা ও শিশু-কিশোরী হেফাজতীদের নিরাপদ আবাসন কেন্দ্র (সেফ হোম: ২০০৩) এবং সামাজিক প্রতিবন্ধী মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র (২০০৩) প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার মাধ্যমে ভবঘুরে- দুঃস্থ কল্যাণমূলক কার্যক্রমের ব্যাপকতা সুবিসত্মৃত হয়। এ ছাড়া অতি দরিদ্র বয়স্ক, বিধবা, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা ও প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর একটি অংশকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে আনা সম্ভব হলেও দেশে অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা  কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে হ্রাস পায়নি।

২০০৯-১০ অর্থ বছরে ‘ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান’ শীর্ষক  কর্মসূচি শুরু করা হয়। উক্ত অর্থ বছরে কর্মসূচির অনুকূলে কোন অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি। ২০১০-১১ অর্থ বছরে কর্মসূচি খাতে ৬.৩২ কোটি টাকা, ২০১১-১২ অর্থ বছরে ৭.০০ কোটি টাকা এবং ২০১২-১৩ অর্থ বছরে ১০.০০ কোটি টাকা  বরাদ্দ রাখা হয়

একটা শিশুকে গ্রেপ্তারের পর থেকে ঐ শিশুর  পুনর্বাসনের ব্যবস্থা পর্যন্ত সকল বিষয় সমাজ সেবা অধিদপ্ত্ররের আওয়তাধীন হয়ে থাকে। প্রথমত, পুলিশ  পুনর্বাসনে কর্তৃক শিশু গ্রেফতার  কিশোর আদালতে প্রেরণ/অভিবাবক কর্তৃক আদালতে হাজির করান। দ্বিতীয়ত প্রবেশন অফিসারের প্রাক-শাস্তি প্রতিবেদন এরপর কিশোর আদালতের ১ম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক আদেশ প্রদান নাম রেজিস্ট্রিক।আদের জারি হয়ে গেলে তাকে  কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে স্থানান্তর; রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা প্রদান করা হয়।  কিশোর কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে তার ভরণ পোষণ , শিক্ষা, বৃত্তিমূলক ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয় । এছাড়াও শারীরিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও মানবিক উৎকর্ষতা সাধন করা হয় । কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে মানসিকতার উন্নয়ন প্রতি জোর দেওয়া হয়। পরিচয়হীন শিশুর আত্মীয়-স্বজনকে খুজে বের করা এখানকার গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্য একটি এবং তাদের মুক্তির  ব্যবস্থা করা। সমাজে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। ফলো আপ করা।

একজন মানুষের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে হয়তো একজন অসহায় শিশু ফিরে পেতে পারে তার পরিবারে আর পরিবার ফিরে পেতে পারে তাদের হারিয়ে যাওয়া মানিককে। মানবিক সহায়তায় মানবিকতার হাত বাড়িয়ে শিশুকে মায়ের কোলে ফিরে যেতে সাহায্য করুন।

Advertisement

কমেন্টস