ভোরে নামাজ পড়তে ছেলে-বউকে ঘুম থেকে ডেকে তোলায় মায়ের পায়ে শিকল

প্রকাশঃ জুলাই ১৪, ২০১৭

Advertisement

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

প্রতিদিন ভোরবেলা ছেলে মফিজুল ইসলাম ও তার বউকে নামাজ পড়তে ঘুম থেকে ডেকে তোলে জানু পারভিন(৭০) নামের এক বৃদ্ধা। জানুর ডাকেই তাদের ঘুম ভাঙ্গে। নামাজ পড়তে প্রতিদিন ডাকায় দারুণ বিরক্তি তার ছেলের। ঘুম থেকে উঠেই গালিগালাজ শুরু করেন মাকে। এভাবে কিছুদিন চলার পর হঠাৎ অবশেষে একদিন বাজার থেকে শিকল তৈরি করে এনে সেই ছেলে। এরপর প্রতিদিন ভোরবেলা তার স্ত্রীকে দিয়ে মায়ের পায়ে শিকল পড়িয়ে বাড়ির পাশে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। গত একমাস ধরে মায়ের প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা এভাবেই চলছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসি।

ঘটনাটি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের শিয়ালডাঙ্গা গ্রামের।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের শিয়ালডাঙ্গা গ্রামের বাল্লক ওরফে পুটে গাজীর বিধবা স্ত্রী জানু পারভিন। তার পাঁচ ছেলে এক মেয়ে। বিয়ে হয়ে যাওয়ায় মেয়ে শশুরবাড়িতে থাকে। অন্য সব ছেলে ও ছেলের স্ত্রীরা ভালো ব্যবহার করে জানুর সঙ্গে। কেবল মেজ ছেলে শফিকুল ও তার স্ত্রী তার ওপর কঠোর আচরণ করে।

মাঝে মাঝে তারা মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর কথা বলে। মাঝে মাঝে পাঠায় আবার নিয়েও আসে। হঠাৎ হঠাৎ বাড়ির মধ্যে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। এভাবে চলছে দিনের পর দিন।

জানু বেগমের ছেলে শফিকুলের দাবি, ‘মার বয়স হয়েছে। মাঝে মাঝে পাগলামি করে। এটা-ওটা নষ্ট করে। তাই শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা আরকি। তবে সব সময় না। মাঝে মাঝে খুলে দেই। আর বেঁধে না রাখলে তার মা দরজায় এসে যখন তখন আঘাত করে। এতে তাদের ঘুম ভেঙ্গে যায়।

শিয়ালডাঙ্গা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আনিসুর রহমান জানান, আমরা এ দৃশ্য আর দেখতে চাই না। বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়ে ব্যবস্থা নেব। এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নুর হোসেন সজল বলেন, আমার কাছে এ খবর এসেছে। আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি। এমন অমানবিক আচরণ কোনো সন্তান তার মায়ের প্রতি করতে পারে না।

Advertisement

Advertisement

কমেন্টস