শোলাকিয়াকে পেছনে ফেলে এটি এখন দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঈদগাহ মাঠ

প্রকাশঃ জুন ২৩, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে নান্দনিক করে নির্মিত হয়েছে ৫২টি গম্বুজ বিশিষ্ট দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ ময়দান।দৃষ্টিনন্দন ও সৌন্দর্যমণ্ডিত বিশাল ঈদগাহ মাঠটি শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠকে পেছনে ফেলে এটি এখন দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঈদগাঠ ময়দান। এই ময়দানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখানে একসাথে পাঁচ লাখ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। ইরাক, কুয়েত, ভারত ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের স্থাপনার আদলে এই ঈদগাহ ময়দান সাজানো হয়েছে। 

দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ ময়দান পেয়েছে এক নতুন রূপ। ইতোমধ্যেই এই ঈদগাহ মিনার দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন হাজারো মানুষ। প্রতীক্ষায় রয়েছে এই ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য।

জেলা পরিষদের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাকিউল আলম জানান, এই দৃষ্টিনন্দন ঈদগাহ মিনারে রয়েছে ৫২টি গম্বুজ। প্রধান গম্বুজের সামনে রয়েছে মেহরাব, যেখানে ইমাম দাঁড়াবেন, তার উচ্চতা ৪৭ ফুট। এর পাশাপাশি রয়েছে ৫২টি গম্বুজ। ঈদগাহ মাঠের দু’ধারে করা হয়েছে ওজুর ব্যবস্থা। পুরো মিনার সিরামিক ইট দিয়ে আচ্ছাদিত করা হয়েছে। প্রতিটি গম্বুজ ও মিনারে রয়েছে বৈদ্যুতিক আলো। রাত হলেই ঈদগাহ মিনার আলোকিত হয়ে ওঠে।

দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম জানান, বৃহত্তম এই ঈদের জামায়াত যাতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় সেজন্য নেওয়া হয়েছে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মুসল্লিদের নিরাপত্তা বিধানের জন্য পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব মোতায়েন থাকবে। এছাড়াও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন সাদাপোশাকে ঈদগাহ ময়দানসহ বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করবে।

দিনাজপুরের পুলিশ সুপার হামিদুল আলম জানান, মুসল্লিদের নিরাপত্তায় কয়েক স্তর বিশিষ্ঠ নিরাপত্তামুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম জানান, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্ববৃহৎ এই মাঠে প্রায় ৫ লাখ মুসল্লি একসাথে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারবেন।

তিনি জানান, আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত মুসল্লিদের আসার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে।
এই ঈদগাহ মাঠ হবে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ মাঠ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ঈদগাহ মাঠের মিনার নির্মাণ সম্পর্কে অবগত আছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই মিনারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে, দিনাজপুরে এই ঈদগাহ মাঠে লাখো মুসল্লির আগমন হবে এই প্রস্তুতিতে শহরের আবাসিক হোটেল, রেস্ট হাউজগুলো সংস্কার ও রং করা শুরু হয়েছে। এই ঈদগাহ মিনারকে ঘিরে দিনাজপুরে মুসল্লিদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসব শুরু হয়েছে।

 

কমেন্টস